এসইও কি? সার্চ ইঞ্জিন কি ও কীভাবে কাজ করে
সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে পেজ খুঁজে, বুঝে আর সাজিয়ে দেখায়, সেখান থেকে শুরু করে এসইও-র ধরন, শেখার প্রথম ধাপ, সাধারণ ভুল আর ফল পেতে কত সময় লাগে, সব এক লেখায়।
· পড়তে ১১ মিনিট · নাজমুল আহমেদ
সার্চ ইঞ্জিন হলো এমন একটা সফটওয়্যার সিস্টেম, যা ইন্টারনেট থেকে পেজ সংগ্রহ করে একটা ইনডেক্সে জমা রাখে, আর কেউ কিছু খুঁজলে সবচেয়ে দরকারি ফলাফলগুলো বেছে সাজিয়ে দেখায়। এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো ওয়েবসাইটকে এমনভাবে তৈরি ও উন্নত করা, যাতে গুগল সেটা সহজে খুঁজে পায়, বুঝতে পারে, আর কেউ সেই বিষয়ে খুঁজলে বিজ্ঞাপনের টাকা ছাড়াই ফলাফলে দেখায়। এর প্রধান ধরন: অন-পেজ, টেকনিক্যাল, কনটেন্ট, অফ-পেজ বা লিংক বিল্ডিং, আর লোকাল এসইও।
গুগলে কিছু লিখে এন্টার চাপলেন, আর চোখের পলকে সামনে চলে এলো একগাদা লিংক, কখনো একটা ম্যাপ, কখনো উপরে ছোট একটা সারাংশ। আমরা দিনে অনেকবার এই কাজটা করি, কিন্তু পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটছে, তা খুব কম মানুষই ভাবে। কোন পেজ আগে আসবে আর কোনটা আসবেই না, সেটা কে ঠিক করে? আর নিজের ওয়েবসাইট বা ব্লগকে সেই তালিকায় আনতে কী করতে হয়?
দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তরই এসইও। কেউ গুগলে বাংলায় লেখেন “এসইও কি”, কেউ লেখেন “SEO কি”, কেউ পুরোটাই ইংরেজি হরফে লেখেন “seo ki”। প্রশ্ন একটাই, কিন্তু উত্তরটার দুটো অংশ: সার্চ ইঞ্জিন কী ও কীভাবে কাজ করে, আর এসইও কী। এই লেখায় দুটোই সহজ বাংলায় বুঝিয়ে বলেছি, কারণ প্রথমটা না বুঝলে দ্বিতীয়টা শুধু কিছু কৌশলের তালিকা হয়ে থাকে, যা মুখস্থ করা যায় কিন্তু কাজে লাগানো যায় না।
লেখাটাকে ডিজিটাল মার্কেটিং কি লেখার পরের ধাপ বলতে পারেন। সেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং-এর নানা চ্যানেলের তালিকায় এসইও পেয়েছিল মাত্র এক লাইন। এখানে সেই এক লাইনের পুরো ব্যাখ্যা।
সার্চ ইঞ্জিন কাকে বলে
সার্চ ইঞ্জিন হলো এমন একটা সফটওয়্যার সিস্টেম, যা ইন্টারনেটের পেজগুলো সংগ্রহ করে একটা বিশাল তালিকা বা ইনডেক্সে জমা রাখে, আর কেউ কিছু লিখে খুঁজলে সেই ইনডেক্স থেকে সবচেয়ে দরকারি ফলাফলগুলো বেছে নিয়ে ক্রম অনুযায়ী সাজিয়ে দেখায়।
সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ গুগল। মাইক্রোসফটের বিং-ও একটা সার্চ ইঞ্জিন। ইউটিউবের সার্চ বক্সটাকেও একরকম সার্চ ইঞ্জিন বলা যায়, তবে সেটা শুধু ভিডিও খোঁজে। একটা বড় লাইব্রেরির কথা ভাবুন। কোন বই কোন তাকে আছে তা ক্যাটালগে লেখা থাকে, আপনি বিষয়টা বললে লাইব্রেরিয়ান ক্যাটালগ দেখে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বইগুলো এনে দেন। সার্চ ইঞ্জিন পুরো ইন্টারনেটের জন্য সেই লাইব্রেরিয়ান আর সেই ক্যাটালগ, দুটোই।
অনেকে ব্রাউজার আর সার্চ ইঞ্জিন গুলিয়ে ফেলেন। গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স বা সাফারি হলো ব্রাউজার, মানে যে অ্যাপ দিয়ে আপনি যেকোনো ওয়েবসাইট খোলেন আর দেখেন। গুগল বা বিং হলো সার্চ ইঞ্জিন, মানে সেই সেবা যেখানে গিয়ে আপনি কিছু খোঁজেন। ক্রোম দিয়ে বিং-এ খোঁজা যায়, আবার অন্য ব্রাউজার দিয়েও গুগলে।
বাংলাদেশে কোন সার্চ ইঞ্জিন কতটা ব্যবহার হয়, তার হিসাব রাখে স্ট্যাটকাউন্টার (StatCounter) নামের একটা প্রতিষ্ঠান। তাদের হিসাবে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সার্চ ইঞ্জিন বাজারের ৯৭.৭% ছিল গুগলের, আর বিং-এর ছিল ১.৫৩%। তাই বাংলাদেশে এসইও বলতে কার্যত গুগলের জন্য এসইও বোঝায়, আর এই লেখার উদাহরণগুলোও গুগলের।
সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে: ক্রলিং, ইনডেক্সিং, র্যাঙ্কিং
গুগল নিজেই তার সার্চের কাজকে তিনটা ধাপে ভাগ করে ব্যাখ্যা করে। ধাপগুলো সহজ ভাষায় এরকম:
- ১ক্রলিং, মানে খুঁজে বের করা: গুগলের স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম, যাকে ক্রলার বা গুগলবট বলে, এক পেজ থেকে আরেক পেজে লিংক ধরে ঘুরে বেড়ায় আর নতুন বা বদলানো পেজ সংগ্রহ করে। তাই যে পেজে অন্য কোনো পেজ থেকে লিংক নেই, আর কেউ গুগলকে পেজটার কথা জানিয়েও দেয়নি, সেই পেজ গুগল হয়তো কখনো খুঁজেই পাবে না।
- ২ইনডেক্সিং, মানে বুঝে জমা রাখা: পেজ পাওয়ার পর গুগল সেটা পড়ে দেখে। লেখা, ছবি, টাইটেল দেখে বোঝার চেষ্টা করে পেজটা কী নিয়ে, তারপর যা বুঝল তা তার ইনডেক্সে জমা রাখে। গুগল নিজেই বলে, ইনডেক্সে জায়গা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সে যত পেজ দেখে, তার সবগুলো ইনডেক্সে ওঠে না।
- ৩র্যাঙ্কিং ও ফলাফল দেখানো: কেউ কিছু খুঁজলে গুগল ইনডেক্স থেকে সেই সার্চের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক আর কাজের পেজগুলো বেছে নেয়, তারপর ক্রম অনুযায়ী সাজায়। এখানে যিনি খুঁজছেন তার ভাষা, তিনি কোথায় আছেন, এমন বিষয়ও হিসাবে আসে। তাই ঢাকা থেকে “কাচ্চি বিরিয়ানি” খুঁজলে যে ফলাফল আসে, চট্টগ্রাম থেকে খুঁজলে হুবহু সেটা নাও আসতে পারে।
আরেকটা কথা মনে রাখা জরুরি। গুগল স্পষ্ট করে বলে, কোনো সাইটকে বেশি ঘন ঘন ক্রল করার বা উপরে দেখানোর জন্য সে টাকা নেয় না। টাকা দিয়ে যা কেনা যায় তা হলো বিজ্ঞাপন, আর সেটা আলাদা জায়গায়, আলাদা চিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়। সাধারণ ফলাফলে জায়গা পেতে হলে পেজটাকে সত্যিই কাজের হতে হয়, আর গুগলকে সেটা বুঝতে দিতে হয়। এসইও-র দরকার ঠিক এখানেই।
সার্চ রেজাল্ট পেজে কী কী থাকে
গুগলে কিছু খুঁজলে যে পেজটা আসে, তাকে সার্চ রেজাল্ট পেজ বা SERP বলে। সব সার্চে সব অংশ আসে না, তবে সাধারণত এগুলো চোখে পড়বে:
- বিজ্ঞাপন: অনেক সার্চে উপরের দিকে কিছু ফলাফলের পাশে “স্পনসরড” লেখা থাকে। এগুলো টাকা দিয়ে কেনা জায়গা, যাকে পেইড সার্চ বলে। এটা গুগল অ্যাডসের কাজ, এসইও-র না।
- সাধারণ বা অর্গানিক ফলাফল: টাইটেল, লিংক আর ছোট বর্ণনা নিয়ে পরপর সাজানো ফলাফলগুলো। টাকা দিয়ে এখানে জায়গা কেনা যায় না, আর এসইও-র মূল কাজ এখানেই।
- এআই ওভারভিউ: অনেক প্রশ্নের জন্য গুগল এখন ফলাফলের উপরে এআই দিয়ে লেখা একটা ছোট সারাংশ দেখায়; এই লেখা তৈরির সময় “seo কি” খুঁজলেও সেটা দেখাচ্ছিল। সারাংশের সাথে সে কয়েকটা পেজের লিংক দেয়, যেখান থেকে তথ্য নিয়েছে। যে পেজ প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট আর গুছিয়ে দেয়, যেমন শুরুতেই এক বাক্যের পরিষ্কার সংজ্ঞা, সেই পেজের লিংক ওই সারাংশে জায়গা পাওয়ার সুযোগ বেশি।
- লোকাল প্যাক বা ম্যাপ: “কাছাকাছি রেস্টুরেন্ট” বা “ধানমন্ডিতে দর্জি” ধরনের সার্চে একটা ম্যাপের সাথে কয়েকটা দোকানের নাম, রেটিং আর ঠিকানা আসে। এই তথ্য আসে গুগল বিজনেস প্রোফাইল থেকে, যা নিয়ে নিচে আলাদা করে বলছি।
- ভিডিও, ছবি আর সম্পর্কিত প্রশ্ন: কিছু সার্চে ইউটিউব ভিডিও, ছবির সারি বা “People also ask” নামে সম্পর্কিত প্রশ্নের একটা বক্স আসে, যেখানে কোনো প্রশ্নে ক্লিক করলে তার ছোট উত্তর খুলে যায়।
প্রতিটি অংশে জায়গা পাওয়ার নিয়ম একটু আলাদা, কিন্তু ভিত্তি একই: পেজটা যেন সত্যিই প্রশ্নের উত্তর দেয়, আর গুগল যেন সেটা সহজে বুঝতে পারে।
এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি ও কাকে বলে
এসইও-র পুরো নাম সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization, সংক্ষেপে SEO)। সহজ কথায়, এসইও হলো নিজের ওয়েবসাইটকে এমনভাবে তৈরি আর উন্নত করা, যাতে সার্চ ইঞ্জিন সেটা সহজে খুঁজে পায় ও বুঝতে পারে, আর যারা খুঁজছেন তারা সার্চ রেজাল্টে আপনার পেজটা দেখে সেটাতেই ঢুকতে চান। গুগলের নিজের এসইও স্টার্টার গাইডেও এসইও-কে প্রায় এভাবেই দেখা হয়েছে: সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার কনটেন্ট বুঝতে সাহায্য করা, আর মানুষকে আপনার সাইট খুঁজে পেতে ও বেছে নিতে সাহায্য করা।
এসইও আর বিজ্ঞাপনের পার্থক্যটা শুরুতেই পরিষ্কার থাকা ভালো। গুগল অ্যাডসে টাকা দিলে আজই আপনার বিজ্ঞাপন সার্চ রেজাল্টের উপরে চলে আসতে পারে, কিন্তু টাকা দেওয়া বন্ধ করলে সেদিনই সেটা হারিয়ে যায়। এসইও-তে প্রতি ক্লিকের জন্য টাকা দিতে হয় না, জায়গাটা অর্জন করতে হয়, আর তাতে সময় লাগে। তবে একটা ভালো পেজ একবার জায়গা করে নিলে, বিজ্ঞাপনের খরচ ছাড়াই দিনের পর দিন নতুন মানুষ আনতে পারে। অনেক ব্যবসা তাই দুটোই ব্যবহার করে: দ্রুত ফলের জন্য বিজ্ঞাপন, লম্বা সময়ের জন্য এসইও।
বাংলাদেশের একটা ব্যবসা বা ব্লগের জন্য এটা কেন জরুরি? কারণ মানুষ কেনার আগে, শেখার আগে, এমনকি কোথায় খেতে যাবে ঠিক করার আগেও গুগলে খোঁজে। ঢাকার একটা পোশাকের দোকান, যারা অনলাইনে পাঞ্জাবি বিক্রি করে, তারা চায় কেউ “ঈদের পাঞ্জাবি” খুঁজলে তাদের সাইট আসুক। একজন শিক্ষার্থী, যে নিজের ব্লগে পড়াশোনার নোট লেখে, সে চায় পরীক্ষার আগে মানুষ যা খোঁজে, সেই প্রশ্নের উত্তরে তার লেখাটা আসুক। প্রতিটি ক্লিকের জন্য টাকা না দিয়ে সেখানে থাকতে পারাটাই এসইও-র আসল লাভ, আর এর সুফল সময়ের সাথে জমতে থাকে।
এসইও-র প্রধান ধরন
এসইও একটা কাজ না, কয়েকটা কাজের সমষ্টি। নতুনদের জন্য প্রধান ধরনগুলো এক নজরে:
- অন-পেজ এসইও: পেজের ভেতরের কাজ। পরিষ্কার টাইটেল আর হেডিং, মানুষ আসলে যে শব্দে খোঁজে সেই শব্দ স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা, প্রশ্নের পুরো উত্তর দেওয়া, আর নিজের সাইটের সম্পর্কিত পেজে লিংক দেওয়া। একটা পুরনো ধারণা এখনো চালু আছে যে মেটা কিওয়ার্ডস ট্যাগে কিওয়ার্ড বসালেই কাজ হয়। গুগল জানিয়েছে, সে এই ট্যাগ ব্যবহারই করে না।
- টেকনিক্যাল এসইও: সাইটের কারিগরি দিক ঠিক রাখা, যাতে গুগল পেজগুলো ক্রল আর ইনডেক্স করতে পারে। সাইট মোবাইলে দ্রুত খোলে কি না, ইউআরএল পরিষ্কার ও পড়ার মতো কি না, সাইটম্যাপ আছে কি না, ভাঙা বা না-খোলা পেজ আছে কি না, এসবই এর অংশ।
- কনটেন্ট: এসইও-র মূল এটাই। যিনি খুঁজছেন তার প্রশ্ন মাথায় রেখে নিজে লেখা, সত্যিই কাজের পেজ। বাকি সব কাজের উদ্দেশ্য এই কনটেন্টকে সঠিক মানুষের সামনে পৌঁছে দেওয়া।
- অফ-পেজ এসইও বা লিংক বিল্ডিং: অন্য ওয়েবসাইট যখন আপনার পেজে লিংক দেয়, সার্চ ইঞ্জিন সেটাকে একরকম আস্থার সংকেত হিসেবে দেখে। তবে লিংক কিনতে নয়, অর্জন করতে হয়। কাজের কনটেন্ট, সত্যিকারের সম্পর্ক আর উল্লেখ করার মতো কাজ থেকেই ভালো লিংক আসে।
- লোকাল এসইও: যে দোকান বা সেবা একটা নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য, তার এসইও। গুগল বিজনেস প্রোফাইল, কাস্টমারের রিভিউ আর সঠিক ঠিকানা ও ফোন নম্বর এখানে মূল বিষয়। পরের অংশে বিস্তারিত বলছি।
ধরনগুলো আলাদা মনে হলেও একটা ছাড়া আরেকটা ঠিকমতো কাজ করে না। দারুণ কনটেন্ট যদি গুগল ক্রলই করতে না পারে, তা কেউ দেখবে না। আবার কারিগরিভাবে নিখুঁত সাইটে উপকারী কনটেন্ট না থাকলে র্যাঙ্ক করার মতো কিছুই থাকে না।
লোকাল এসইও ও গুগল বিজনেস প্রোফাইল
ধরুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের কাছে আপনার একটা রেস্টুরেন্ট। কেউ আশপাশ থেকে “রেস্টুরেন্ট” বা “কাচ্চি” খুঁজলে গুগল একটা ম্যাপ আর কয়েকটা রেস্টুরেন্টের নাম দেখায়। সেই তালিকায় আসার সবচেয়ে জরুরি হাতিয়ার গুগল বিজনেস প্রোফাইল। গুগলের নিজের কথা অনুযায়ী, প্রোফাইল তৈরি করা আর গুগলে ব্যবসা লিস্ট করা পুরোপুরি ফ্রি।
লোকাল ফলাফলে কে আগে আসবে, তা নিয়ে গুগল প্রধানত তিনটা বিষয়ের কথা বলে। প্রাসঙ্গিকতা: যা খোঁজা হচ্ছে তার সাথে আপনার ব্যবসার তথ্য কতটা মেলে। দূরত্ব: যিনি খুঁজছেন তার থেকে আপনি কত কাছে। পরিচিতি বা প্রমিনেন্স: ব্যবসাটা কতটা পরিচিত, রিভিউ কেমন। গুগল এটাও বলে যে অনুরোধ করে বা টাকা দিয়ে লোকাল র্যাঙ্কিং ভালো করার কোনো উপায় নেই।
শুরুর জন্য কয়েকটা কাজ করুন। প্রোফাইলের প্রতিটি ঘর পূরণ করুন, ব্যবসার সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নিন, দোকান, খাবার বা পণ্যের সত্যিকারের ছবি দিন, আর ঠিকানা, ফোন নম্বর ও খোলার সময় যেন সব জায়গায় একই থাকে। যে কাস্টমাররা খুশি, তাদের রিভিউ দিতে অনুরোধ করুন, আর ভালো-খারাপ সব রিভিউয়ের ভদ্রভাবে উত্তর দিন। রিভিউ আসতে হবে সত্যিকারের কাস্টমারের কাছ থেকে, বানানো নয়।
গুগল বিজনেস প্রোফাইল ধাপে ধাপে সাজানো শিখতে চাইলে ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস কোর্সে “লোকাল মার্কেটিং উইথ গুগল বিজনেস” নামে আলাদা একটা মডিউল আছে।
নতুনরা এসইও শেখা শুরু করবেন কীভাবে
এসইও শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পড়া আর হাতে-কলমে করা, দুটো একসাথে। নতুনদের জন্য আমার পরামর্শ ছয়টা ধাপে:
- ১আগে বুঝুন সার্চ কীভাবে কাজ করে। উপরের ক্রলিং, ইনডেক্সিং আর র্যাঙ্কিং-এর ধারণা পরিষ্কার হলে পরের প্রতিটি কৌশল কেন কাজ করে বা করে না, তা নিজেই ধরতে পারবেন।
- ২প্র্যাকটিসের জন্য একটা ছোট সাইট বা ব্লগ বানান। বিষয় হতে পারে আপনার পছন্দের কিছু: রান্না, ক্রিকেট, পড়াশোনার নোট বা পরিচিত কারও দোকান। শুধু পড়ে এসইও শেখা যায় না। নিজের সাইটে কিছু বদলে তার ফল দেখলে তবেই শেখাটা পাকা হয়।
- ৩কিওয়ার্ডের বেসিক শিখুন। কিওয়ার্ড মানে সেই শব্দ বা বাক্য, যা লিখে মানুষ খোঁজে। বাংলাদেশে একই প্রশ্ন মানুষ কয়েকভাবে লেখে। এই লেখার বিষয়টাই উদাহরণ: “এসইও কি”, “seo কি” আর “seo ki” আসলে একই সার্চ, তিনভাবে লেখা। আপনার পাঠক কীভাবে লেখেন তা জানা এসইও-র প্রথম কাজগুলোর একটা।
- ৪প্র্যাকটিসের সাইটে গুগল সার্চ কনসোল চালু করুন। এটা গুগলের নিজের টুল, যেখানে দেখা যায় আপনার সাইটের কোন পেজ গুগল ইনডেক্স করেছে, কোনটায় সমস্যা আছে, আর মানুষ কী লিখে খুঁজে আপনার সাইটে আসছে।
- ৫প্রতিটি প্রশ্নের জন্য একটা সত্যিই দরকারি পেজ লিখুন। তারপর সার্চ কনসোলে দেখুন মানুষ কী খুঁজে আসছে, আর সেই অনুযায়ী পেজটা আরও ভালো করুন। এসইও-তে লেখা শেষ মানেই কাজ শেষ না।
- ৬বেসিকগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে শিখুন। আমার ফ্রি বাংলা ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস কোর্সে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন আর লোকাল মার্কেটিং উইথ গুগল বিজনেস নামে আলাদা মডিউল আছে। ভিডিওগুলো ফ্রিতে দেখা যায়, শুধু সার্টিফিকেট নিতে চাইলে টাকা লাগে। আর যারা বই পড়ে শিখতে পছন্দ করেন, মার্কেটিং-এর গোড়ার কথাগুলো পাবেন গোড়া থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং বইয়ে।
এসইও-তে ফল পেতে কতদিন লাগে
এই প্রশ্নের সৎ উত্তর হলো, এটা কয়েকটা বিষয়ের উপর নির্ভর করে। আপনার বিষয়ে প্রতিযোগিতা কতটা, সাইটটা কতদিনের পুরনো, আর তাতে কাজের কনটেন্ট কতটা আছে, এসবের উপর সময় কম-বেশি হয়। কেউ যদি নির্দিষ্ট তারিখের প্রতিশ্রুতি দেন, সেটা অনুমান, নিশ্চয়তা না।
গুগলের এসইও স্টার্টার গাইডে বলা আছে, কিছু পরিবর্তনের প্রভাব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যেতে পারে, আবার কিছুর জন্য কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। কারণ গুগলকে আগে পেজটা আবার ক্রল করতে হয়, নতুন করে বুঝতে হয়, তারপর সেটা ফলাফলে দেখা যায়।
তাই এসইও-কে একবার সেটআপ করে ভুলে যাওয়ার কাজ ভাববেন না। এটা নিয়মিত কাজ: লেখা, মাপা, উন্নত করা। অনুমান না করে গুগল সার্চ কনসোলে দেখুন কোন পেজ ইনডেক্সে উঠল, আর কোন সার্চে আপনার সাইট দেখা যাচ্ছে।
ব্যবসার জন্য এসইও সাহায্য দরকার হলে
একটা কথা পরিষ্কার করে বলি: nazmc.com এসইও সার্ভিস বিক্রি করে না। এসইও নিয়ে এই সাইটে যা আছে, তা শেখার জন্য: কোর্স, ই-বুক আর এই লেখাটার মতো আর্টিকেল।
আপনার ব্যবসার জন্য যদি এসইও জানা কাউকে নিয়োগ দিতে চান, তাহলে কী দেখে বাছবেন, কীভাবে যাচাই করবেন আর কোন প্রতিশ্রুতি শুনলে সতর্ক হবেন, সেসব নিয়ে আছে বাংলাদেশে এসইও এক্সপার্ট নিয়োগের গাইড। লেখাটা ইংরেজিতে।
আর যদি নিজেই শিখতে চান, শুরু করুন ফ্রি বাংলা কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস দিয়ে। নিজের সাইটের জন্য বেসিকগুলো জানা থাকলে পরে কাউকে নিয়োগ দিলেও তার কাজ বুঝতে আর যাচাই করতে পারবেন।
এসইও নিয়ে প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
- এসইও কাকে বলে, এক কথায়?
- এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো ওয়েবসাইটকে এমনভাবে তৈরি ও উন্নত করা, যাতে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিন সেটা সহজে খুঁজে পায়, বুঝতে পারে, আর কেউ সেই বিষয়ে খুঁজলে বিজ্ঞাপনের টাকা ছাড়াই সার্চ রেজাল্টে দেখায়।
- সার্চ ইঞ্জিন আর ব্রাউজারের মধ্যে পার্থক্য কী?
- ব্রাউজার হলো সেই অ্যাপ, যা দিয়ে আপনি ওয়েবসাইট খোলেন, যেমন গুগল ক্রোম বা ফায়ারফক্স। সার্চ ইঞ্জিন হলো সেই সেবা, যা ইন্টারনেটের পেজ খুঁজে, জমা রেখে আর সাজিয়ে দেখায়, যেমন গুগল বা বিং। ব্রাউজার দিয়েই আপনি সার্চ ইঞ্জিনে যান।
- SEO ki, ar eta ki Banglay shekha jay?
- এসইও মানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, অর্থাৎ ওয়েবসাইটকে গুগলে খুঁজে পাওয়ার উপযোগী করা। হ্যাঁ, এর বেসিক পুরোটাই বাংলায় শেখা যায়। টুলগুলোর মেনু ইংরেজিতে থাকে, কিন্তু ধারণাগুলো বাংলায় বুঝে নিলে সমস্যা হয় না। আমার ফ্রি বাংলা কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস-এ এসইও নিয়ে আলাদা মডিউল আছে।
- এসইও শিখতে কি কোডিং জানতে হয়?
- শুরু করতে কোডিং জানা লাগে না। কিওয়ার্ড বোঝা, কাজের কনটেন্ট লেখা, গুগল বিজনেস প্রোফাইল সাজানো বা সার্চ কনসোল দেখা, এসব কোডিং ছাড়াই করা যায়। টেকনিক্যাল এসইও-তে গভীরে যেতে চাইলে ওয়েবসাইট কীভাবে তৈরি হয় তার কিছু ধারণা কাজে লাগে, তবে সেটা পরের ধাপ।
- এসইও করতে কি টাকা লাগে?
- গুগল ক্রল বা র্যাঙ্কিং-এর জন্য কোনো টাকা নেয় না, আর গুগল বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করাও ফ্রি। তবে ওয়েবসাইটের ডোমেইন ও হোস্টিং, কনটেন্ট তৈরির সময়, কিংবা কাউকে নিয়োগ দিলে তার পারিশ্রমিক, এসব খরচ থাকতে পারে। বিজ্ঞাপনের মতো প্রতি ক্লিকে টাকা দিতে হয় না।
- এসইও-র ফল দেখতে কত সময় লাগে?
- নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারে না। গুগলের নিজের গাইড অনুযায়ী কিছু পরিবর্তনের প্রভাব কয়েক ঘণ্টায় দেখা যেতে পারে, আবার কিছুতে কয়েক মাস লাগতে পারে। প্রতিযোগিতা, সাইটের বয়স আর কনটেন্টের মানের উপর সময়টা নির্ভর করে।
- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন আর গুগল অ্যাডসের মধ্যে পার্থক্য কী?
- গুগল অ্যাডসে টাকা দিয়ে সার্চ রেজাল্টে “স্পনসরড” চিহ্নসহ বিজ্ঞাপনের জায়গা কেনা হয়। ফল আসে দ্রুত, আর টাকা বন্ধ করলে বিজ্ঞাপনও বন্ধ। এসইও-তে সাধারণ ফলাফলে জায়গা অর্জন করতে হয়, সময় লাগে, কিন্তু প্রতি ক্লিকে টাকা দিতে হয় না। গুগল টাকা নিয়ে সাধারণ ফলাফলে কাউকে উপরে তোলে না।