এসইও কি? সার্চ ইঞ্জিন কি ও কীভাবে কাজ করে

সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে পেজ খুঁজে, বুঝে আর সাজিয়ে দেখায়, সেখান থেকে শুরু করে এসইও-র ধরন, শেখার প্রথম ধাপ, সাধারণ ভুল আর ফল পেতে কত সময় লাগে, সব এক লেখায়।

· হালনাগাদ · পড়তে ১৯ মিনিট · নাজমুল আহমেদ

সার্চ ইঞ্জিন হলো এমন একটা সফটওয়্যার সিস্টেম, যা ইন্টারনেট থেকে পেজ সংগ্রহ করে একটা ইনডেক্সে জমা রাখে, আর কেউ কিছু খুঁজলে সবচেয়ে দরকারি ফলাফলগুলো বেছে সাজিয়ে দেখায়। এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো ওয়েবসাইটকে এমনভাবে তৈরি ও উন্নত করা, যাতে গুগল সেটা সহজে খুঁজে পায়, বুঝতে পারে, আর কেউ সেই বিষয়ে খুঁজলে বিজ্ঞাপনের টাকা ছাড়াই ফলাফলে দেখায়। এর প্রধান ধরন: অন-পেজ, টেকনিক্যাল, কনটেন্ট, অফ-পেজ বা লিংক বিল্ডিং, আর লোকাল এসইও।

এই লেখায়
  1. সার্চ ইঞ্জিন কাকে বলে?
  2. পরীক্ষার খাতায় সার্চ ইঞ্জিনের সংজ্ঞা ও উদাহরণ
  3. পাঁচটি সার্চ ইঞ্জিনের নাম কী কী?
  4. বাংলাদেশের নিজের সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা: এখন বন্ধ
  5. সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে: ক্রলিং, ইনডেক্সিং, র‍্যাঙ্কিং
  6. সার্চ রেজাল্ট পেজে কী কী থাকে
  7. সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে ব্যবহার করবেন?
  8. সার্চ ইঞ্জিনের জনক কে?
  9. এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি ও কাকে বলে
  10. এসইও কত প্রকার ও কি কি?
  11. লোকাল এসইও ও গুগল বিজনেস প্রোফাইল
  12. ইউটিউব এসইও কি?
  13. এসইও কীভাবে করবেন?
  14. কিওয়ার্ড বাছাইয়ের চারটা প্রশ্ন
  15. এসইও ফ্রি না: খরচগুলো কোথায়
  16. হোয়াইট হ্যাট আর ব্ল্যাক হ্যাট এসইও
  17. এসইও-তে ফল পেতে কতদিন লাগে
  18. নতুনরা এসইও শেখা শুরু করবেন কীভাবে
  19. গুগলের এআই উত্তর আর এসইও: কী বদলেছে, কী বদলায়নি
  20. ব্যবসার জন্য এসইও সাহায্য দরকার হলে
  21. এসইও আর সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে

গুগলে কিছু লিখে এন্টার চাপলেন, আর চোখের পলকে সামনে চলে এলো একগাদা লিংক, কখনো একটা ম্যাপ, কখনো উপরে ছোট একটা সারাংশ। আমরা দিনে অনেকবার এই কাজটা করি, কিন্তু পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটছে, তা খুব কম মানুষই ভাবে। কোন পেজ আগে আসবে আর কোনটা আসবেই না, সেটা কে ঠিক করে? আর নিজের ওয়েবসাইট বা ব্লগকে সেই তালিকায় আনতে কী করতে হয়?

দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তরই এসইও। কেউ গুগলে বাংলায় লেখেন “এসইও কি”, কেউ লেখেন “SEO কি”, কেউ পুরোটাই ইংরেজি হরফে লেখেন “seo ki”। প্রশ্ন একটাই, কিন্তু উত্তরটার দুটো অংশ: সার্চ ইঞ্জিন কী ও কীভাবে কাজ করে, আর এসইও কী। এই লেখায় দুটোই সহজ বাংলায় বুঝিয়ে বলেছি, কারণ প্রথমটা না বুঝলে দ্বিতীয়টা শুধু কিছু কৌশলের তালিকা হয়ে থাকে, যা মুখস্থ করা যায় কিন্তু কাজে লাগানো যায় না।

লেখাটাকে ডিজিটাল মার্কেটিং কি লেখার পরের ধাপ বলতে পারেন। সেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং-এর নানা চ্যানেলের তালিকায় এসইও পেয়েছিল মাত্র এক লাইন। এখানে সেই এক লাইনের পুরো ব্যাখ্যা।

সার্চ ইঞ্জিন কাকে বলে?

সার্চ ইঞ্জিন হলো এমন একটা সফটওয়্যার সিস্টেম, যা ইন্টারনেটের পেজগুলো সংগ্রহ করে একটা বিশাল তালিকা বা ইনডেক্সে জমা রাখে, আর কেউ কিছু লিখে খুঁজলে সেই ইনডেক্স থেকে সবচেয়ে দরকারি ফলাফলগুলো বেছে নিয়ে ক্রম অনুযায়ী সাজিয়ে দেখায়। সার্চ ইঞ্জিন কথাটার বাংলা অর্থ অন্বেষণ যন্ত্র, মানে খোঁজার যন্ত্র।

সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ গুগল। মাইক্রোসফটের বিং-ও একটা সার্চ ইঞ্জিন। ইউটিউবের সার্চ বক্সটাকেও একরকম সার্চ ইঞ্জিন বলা যায়, তবে সেটা শুধু ভিডিও খোঁজে। একটা বড় লাইব্রেরির কথা ভাবুন। কোন বই কোন তাকে আছে তা ক্যাটালগে লেখা থাকে, আপনি বিষয়টা বললে লাইব্রেরিয়ান ক্যাটালগ দেখে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বইগুলো এনে দেন। সার্চ ইঞ্জিন পুরো ইন্টারনেটের জন্য সেই লাইব্রেরিয়ান আর সেই ক্যাটালগ, দুটোই।

অনেকে ব্রাউজার আর সার্চ ইঞ্জিন গুলিয়ে ফেলেন। গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স বা সাফারি হলো ব্রাউজার, মানে যে অ্যাপ দিয়ে আপনি যেকোনো ওয়েবসাইট খোলেন আর দেখেন। গুগল বা বিং হলো সার্চ ইঞ্জিন, মানে সেই সেবা যেখানে গিয়ে আপনি কিছু খোঁজেন। ক্রোম দিয়ে বিং-এ খোঁজা যায়, আবার অন্য ব্রাউজার দিয়েও গুগলে।

পাঁচটি সার্চ ইঞ্জিনের নাম কী কী?

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া পাঁচটি সার্চ ইঞ্জিন হলো গুগল, বিং, ইয়ানডেক্স, ডাকডাকগো আর ইয়াহু। বাংলাদেশে কোন সার্চ ইঞ্জিন কতটা ব্যবহার হয়, তার হিসাব রাখে স্ট্যাটকাউন্টার (StatCounter) নামের একটা প্রতিষ্ঠান। নিচের শতাংশগুলো তাদের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর হিসাব:

  1. ১গুগল, ৯৮.০৪%: বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া সার্চ ইঞ্জিন, ব্যবধানটা অনেক বড়। এর শুরুর গল্প একটু নিচের ইতিহাসের অংশে আছে।
  2. ২বিং, ১.৩%: মাইক্রোসফটের সার্চ ইঞ্জিন, যা বিং নামে ২০০৯ সালে চালু হয়।
  3. ৩ইয়ানডেক্স, ০.২৪%: রাশিয়ার সার্চ ইঞ্জিন বাজারে এখনো এরই আধিপত্য।
  4. ৪ডাকডাকগো, ০.১৯%: ব্যবহারকারীকে ট্র্যাক না করার জন্য পরিচিত।
  5. ৫ইয়াহু, ০.১৮%: ১৯৯৪ সালে এটা একটা ওয়েব ডিরেক্টরি হিসেবে শুরু হয়, আর ইয়াহু সার্চ ছিল ওয়েবের প্রথম জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন।

সার্চ ইঞ্জিনের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। আরও আছে চীনের বাইদু (২০০০ সালে চালু), ইকোসিয়া (স্ট্যাটকাউন্টারের হিসাবে বাংলাদেশে ষষ্ঠ), ব্রেভ আর মোজিক। তবে বাংলাদেশে প্রায় সব সার্চই হয় গুগলে। তাই বাংলাদেশে এসইও বলতে কার্যত গুগলের জন্য এসইও বোঝায়, আর এই লেখার উদাহরণগুলোও গুগলের। বাংলাদেশের নিজের সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকার কী হলো, তা পরের অংশে।

বাংলাদেশের নিজের সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা: এখন বন্ধ

পিপীলিকা ছিল বাংলাদেশের প্রথম সার্চ ইঞ্জিন, আর ২০২১ সালে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর বানানো এই সার্চ ইঞ্জিন চালু হয় ১৩ এপ্রিল ২০১৩, পহেলা বৈশাখের আগের দিন। এতে বাংলা আর ইংরেজি, দুই ভাষাতেই খোঁজা যেত।

এটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা থিসিস প্রকল্প, বাণিজ্যিক উদ্যোগ না, তাই এর জন্য ঠিকমতো অর্থায়ন জোটেনি। কোনো বই, নোট বা ওয়েবসাইটে পিপীলিকাকে চালু সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে লেখা থাকলে সেই তথ্য পুরনো।

সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে: ক্রলিং, ইনডেক্সিং, র‍্যাঙ্কিং

গুগল নিজেই তার সার্চের কাজকে তিনটা ধাপে ভাগ করে ব্যাখ্যা করে। ধাপগুলো সহজ ভাষায় এরকম:

  1. ১ক্রলিং, মানে খুঁজে বের করা: গুগলের স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম, যাকে ক্রলার বা গুগলবট বলে, এক পেজ থেকে আরেক পেজে লিংক ধরে ঘুরে বেড়ায় আর নতুন বা বদলানো পেজ সংগ্রহ করে। তাই যে পেজে অন্য কোনো পেজ থেকে লিংক নেই, আর কেউ গুগলকে পেজটার কথা জানিয়েও দেয়নি, সেই পেজ গুগল হয়তো কখনো খুঁজেই পাবে না।
  2. ২ইনডেক্সিং, মানে বুঝে জমা রাখা: পেজ পাওয়ার পর গুগল সেটা পড়ে দেখে। লেখা, ছবি, টাইটেল দেখে বোঝার চেষ্টা করে পেজটা কী নিয়ে, তারপর যা বুঝল তা তার ইনডেক্সে জমা রাখে। গুগল নিজেই বলে, ইনডেক্সে জায়গা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সে যত পেজ দেখে, তার সবগুলো ইনডেক্সে ওঠে না।
  3. ৩র‍্যাঙ্কিং ও ফলাফল দেখানো: কেউ কিছু খুঁজলে গুগল ইনডেক্স থেকে সেই সার্চের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক আর কাজের পেজগুলো বেছে নেয়, তারপর ক্রম অনুযায়ী সাজায়। এখানে যিনি খুঁজছেন তার ভাষা, তিনি কোথায় আছেন, এমন বিষয়ও হিসাবে আসে। তাই ঢাকা থেকে “কাচ্চি বিরিয়ানি” খুঁজলে যে ফলাফল আসে, চট্টগ্রাম থেকে খুঁজলে হুবহু সেটা নাও আসতে পারে।

আরেকটা কথা মনে রাখা জরুরি। গুগল স্পষ্ট করে বলে, কোনো সাইটকে বেশি ঘন ঘন ক্রল করার বা উপরে দেখানোর জন্য সে টাকা নেয় না। টাকা দিয়ে যা কেনা যায় তা হলো বিজ্ঞাপন, আর সেটা আলাদা জায়গায়, আলাদা চিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়। সাধারণ ফলাফলে জায়গা পেতে হলে পেজটাকে সত্যিই কাজের হতে হয়, আর গুগলকে সেটা বুঝতে দিতে হয়। এসইও-র দরকার ঠিক এখানেই।

সার্চ রেজাল্ট পেজে কী কী থাকে

গুগলে কিছু খুঁজলে যে পেজটা আসে, তাকে সার্চ রেজাল্ট পেজ বা SERP বলে। সব সার্চে সব অংশ আসে না, তবে সাধারণত এগুলো চোখে পড়বে:

  • বিজ্ঞাপন: অনেক সার্চে উপরের দিকে কিছু ফলাফল বিজ্ঞাপন হিসেবে আলাদা করে চিহ্নিত থাকে। এগুলো টাকা দিয়ে কেনা জায়গা, যাকে পেইড সার্চ বলে। এটা গুগল অ্যাডসের কাজ, এসইও-র না।
  • সাধারণ বা অর্গানিক ফলাফল: টাইটেল, লিংক আর ছোট বর্ণনা নিয়ে পরপর সাজানো ফলাফলগুলো। টাকা দিয়ে এখানে জায়গা কেনা যায় না, আর এসইও-র মূল কাজ এখানেই।
  • এআই উত্তর বা এআই ওভারভিউ: এআই মানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অনেক প্রশ্নের জন্য গুগল এখন ফলাফলের উপরে এআই দিয়ে লেখা একটা ছোট সারাংশ দেখায়, সাথে কয়েকটা পেজের লিংক। অক্টোবর ২০২৬-এ বাংলায় “seo কি” খুঁজলেও সবার উপরে “AI উত্তর” লেখা এরকম একটা বক্স এসেছিল। এ নিয়ে একটু নিচে আলাদা অংশ আছে।
  • লোকাল প্যাক বা ম্যাপ: “কাছাকাছি রেস্টুরেন্ট” বা “ধানমন্ডিতে দর্জি” ধরনের সার্চে একটা ম্যাপের সাথে কয়েকটা দোকানের নাম, রেটিং আর ঠিকানা আসে। এই তথ্য আসে গুগল বিজনেস প্রোফাইল থেকে, যা নিয়ে নিচে আলাদা করে বলছি।
  • ভিডিও, ছবি আর সম্পর্কিত প্রশ্ন: কিছু সার্চে ইউটিউব ভিডিও, ছবির সারি বা “সম্পর্কিত প্রশ্নাবলী” (ইংরেজিতে People also ask) নামে প্রশ্নের একটা বক্স আসে, যেখানে কোনো প্রশ্নে ক্লিক করলে তার ছোট উত্তর খুলে যায়।

প্রতিটি অংশে জায়গা পাওয়ার নিয়ম একটু আলাদা, কিন্তু ভিত্তি একই: পেজটা যেন সত্যিই প্রশ্নের উত্তর দেয়, আর গুগল যেন সেটা সহজে বুঝতে পারে।

সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে ব্যবহার করবেন?

ব্রাউজার খুলে গুগলের মতো একটা সার্চ ইঞ্জিনে যান, আপনি যা জানতে চান তার মূল শব্দগুলো লিখে এন্টার চাপুন। ফলাফল অনেক হলে নিচের কৌশলগুলো দিয়ে খোঁজাটা ছোট করে আনা যায়:

  1. ১হুবহু একটা বাক্য খুঁজতে সেটা কোটেশন চিহ্নের ভেতরে লিখুন, যেমন "সার্চ ইঞ্জিন কাকে বলে"।
  2. ২কোনো শব্দ বাদ দিতে তার আগে মাইনাস চিহ্ন বসান। যেমন পদ্মা -সেতু লিখলে পদ্মা নিয়ে সেসব পেজ আসবে, যেখানে সেতু শব্দটা নেই।
  3. ৩একটা নির্দিষ্ট সাইটের ভেতরে খুঁজতে খোঁজার শব্দের আগে site: আর সাইটের ঠিকানা লিখুন, কোলনের পরে ফাঁকা না রেখে, যেমন site:bangladesh.gov.bd পাসপোর্ট।
  4. ৪খোঁজার পর সার্চ বারের নিচে ছবি, ভিডিও, খবরের মতো যে ফিল্টার দেখা যায়, সেগুলো দিয়ে এক ধরনের ফলাফল আলাদা করে নিতে পারেন।

সার্চ ইঞ্জিনের জনক কে?

ওয়েবের প্রথম সার্চ ইঞ্জিন আর্চি ১৯৯০ সালে বানান অ্যালান এমটেজ, তখন তিনি কানাডার মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাই “সার্চ ইঞ্জিনের জনক কে” প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তাঁর নাম বলা যায়। আজকের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগল বানিয়েছেন ল্যারি পেজ আর সের্গেই ব্রিন। ইতিহাসটা এক নজরে:

  1. আর্চি

    ওয়েবের প্রথম সার্চ ইঞ্জিন, বানিয়েছেন ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অ্যালান এমটেজ।

    ১৯৯০

  2. ইয়াহু

    ওয়েব ডিরেক্টরি হিসেবে শুরু; ইয়াহু সার্চ হয়ে ওঠে ওয়েবের প্রথম জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন।

    ১৯৯৪

  3. এসইও-র শুরু

    বাংলা উইকিপিডিয়ার হিসাবে এ বছর এসইও প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

    ১৯৯৫

  4. গুগল

    ১৯৯৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যারি পেজ আর সের্গেই ব্রিনের দেখা হয়। তাঁরা লিংক দিয়ে পেজের গুরুত্ব মাপা একটা সার্চ ইঞ্জিন বানিয়ে নাম দেন ব্যাকরাব (Backrub), পরে সেটাই বদলে গুগল হয়। ১৯৯৮ সালের আগস্টে গুগল ইনকর্পোরেটেড আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম নেয়।

    ১৯৯৮

  5. এআই সার্চ

    এআই-চালিত সার্চ ইঞ্জিন আর প্রশ্নের উত্তর লিখে দেয় এমন এআই সহকারী ওয়েব সার্চের মূল ধারার অংশ হয়ে ওঠে।

    ২০২০-এর দশক

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কি ও কাকে বলে

এসইও-র পুরো নাম সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization, সংক্ষেপে SEO)। সহজ কথায়, এসইও হলো নিজের ওয়েবসাইটকে এমনভাবে তৈরি আর উন্নত করা, যাতে সার্চ ইঞ্জিন সেটা সহজে খুঁজে পায় ও বুঝতে পারে, আর যারা খুঁজছেন তারা সার্চ রেজাল্টে আপনার পেজটা দেখে সেটাতেই ঢুকতে চান। গুগলের নিজের এসইও স্টার্টার গাইডেও এসইও-কে প্রায় এভাবেই দেখা হয়েছে: সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার কনটেন্ট বুঝতে সাহায্য করা, আর মানুষকে আপনার সাইট খুঁজে পেতে ও বেছে নিতে সাহায্য করা।

এসইও আর বিজ্ঞাপনের পার্থক্যটা শুরুতেই পরিষ্কার থাকা ভালো। গুগল অ্যাডসে টাকা দিলে আজই আপনার বিজ্ঞাপন সার্চ রেজাল্টের উপরে চলে আসতে পারে, কিন্তু টাকা দেওয়া বন্ধ করলে সেদিনই সেটা হারিয়ে যায়। এসইও-তে প্রতি ক্লিকের জন্য টাকা দিতে হয় না, জায়গাটা অর্জন করতে হয়, আর তাতে সময় লাগে। তবে একটা ভালো পেজ একবার জায়গা করে নিলে, বিজ্ঞাপনের খরচ ছাড়াই দিনের পর দিন নতুন মানুষ আনতে পারে। অনেক ব্যবসা তাই দুটোই ব্যবহার করে: দ্রুত ফলের জন্য বিজ্ঞাপন, লম্বা সময়ের জন্য এসইও।

বাংলাদেশের একটা ব্যবসা বা ব্লগের জন্য এটা কেন জরুরি? কারণ মানুষ কেনার আগে, শেখার আগে, এমনকি কোথায় খেতে যাবে ঠিক করার আগেও গুগলে খোঁজে। ঢাকার একটা পোশাকের দোকান, যারা অনলাইনে পাঞ্জাবি বিক্রি করে, তারা চায় কেউ “ঈদের পাঞ্জাবি” খুঁজলে তাদের সাইট আসুক। একজন শিক্ষার্থী, যে নিজের ব্লগে পড়াশোনার নোট লেখে, সে চায় পরীক্ষার আগে মানুষ যা খোঁজে, সেই প্রশ্নের উত্তরে তার লেখাটা আসুক। প্রতিটি ক্লিকের জন্য টাকা না দিয়ে সেখানে থাকতে পারাটাই এসইও-র আসল লাভ, আর এর সুফল সময়ের সাথে জমতে থাকে।

এসইও কত প্রকার ও কি কি?

এসইও-র কাজকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়: অন-পেজ, টেকনিক্যাল আর অফ-পেজ। নতুনদের জন্য কনটেন্ট আর লোকাল এসইও আলাদা করে বোঝাও দরকার, তাই নিচে পাঁচটা ধরন এক নজরে দিলাম:

  • অন-পেজ এসইও: পেজের ভেতরের কাজ। পরিষ্কার টাইটেল আর হেডিং, পেজের মূল কথা বলা একটা ছোট মেটা ডেসক্রিপশন, পড়ার মতো ইউআরএল, প্রতিটি ছবির বর্ণনা দেওয়া অল্ট টেক্সট, মানুষ আসলে যে শব্দে খোঁজে সেই শব্দ স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা, প্রশ্নের পুরো উত্তর দেওয়া, আর নিজের সাইটের সম্পর্কিত পেজে লিংক দেওয়া। একটা পুরনো ধারণা এখনো চালু আছে যে মেটা কিওয়ার্ডস ট্যাগে কিওয়ার্ড বসালেই কাজ হয়। গুগল জানিয়েছে, সে এই ট্যাগ ব্যবহারই করে না।
  • টেকনিক্যাল এসইও: সাইটের কারিগরি দিক ঠিক রাখা, যাতে গুগল পেজগুলো ক্রল আর ইনডেক্স করতে পারে। সাইট মোবাইলে দ্রুত খোলে কি না, ইউআরএল পরিষ্কার ও পড়ার মতো কি না, সাইটম্যাপ আছে কি না, ভাঙা বা না-খোলা পেজ আছে কি না, এসবই এর অংশ।
  • কনটেন্ট: এসইও-র মূল এটাই। যিনি খুঁজছেন তার প্রশ্ন মাথায় রেখে নিজে লেখা, সত্যিই কাজের পেজ। বাকি সব কাজের উদ্দেশ্য এই কনটেন্টকে সঠিক মানুষের সামনে পৌঁছে দেওয়া।
  • অফ-পেজ এসইও বা লিংক বিল্ডিং: অন্য ওয়েবসাইট যখন আপনার পেজে লিংক দেয়, সার্চ ইঞ্জিন সেটাকে একরকম আস্থার সংকেত হিসেবে দেখে। তবে লিংক কিনতে নয়, অর্জন করতে হয়। কাজের কনটেন্ট, সত্যিকারের সম্পর্ক আর উল্লেখ করার মতো কাজ থেকেই ভালো লিংক আসে।
  • লোকাল এসইও: যে দোকান বা সেবা একটা নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য, তার এসইও। গুগল বিজনেস প্রোফাইল, কাস্টমারের রিভিউ আর সঠিক ঠিকানা ও ফোন নম্বর এখানে মূল বিষয়। পরের অংশে বিস্তারিত বলছি।

ধরনগুলো আলাদা মনে হলেও একটা ছাড়া আরেকটা ঠিকমতো কাজ করে না। দারুণ কনটেন্ট যদি গুগল ক্রলই করতে না পারে, তা কেউ দেখবে না। আবার কারিগরিভাবে নিখুঁত সাইটে উপকারী কনটেন্ট না থাকলে র‍্যাঙ্ক করার মতো কিছুই থাকে না।

লোকাল এসইও ও গুগল বিজনেস প্রোফাইল

ধরুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের কাছে আপনার একটা রেস্টুরেন্ট। কেউ আশপাশ থেকে “রেস্টুরেন্ট” বা “কাচ্চি” খুঁজলে গুগল একটা ম্যাপ আর কয়েকটা রেস্টুরেন্টের নাম দেখায়। সেই তালিকায় আসার সবচেয়ে জরুরি হাতিয়ার গুগল বিজনেস প্রোফাইল। গুগলের নিজের কথা অনুযায়ী, প্রোফাইল তৈরি করা আর গুগলে ব্যবসা লিস্ট করা পুরোপুরি ফ্রি।

লোকাল ফলাফলে কে আগে আসবে, তা নিয়ে গুগল প্রধানত তিনটা বিষয়ের কথা বলে। প্রাসঙ্গিকতা: যা খোঁজা হচ্ছে তার সাথে আপনার ব্যবসার তথ্য কতটা মেলে। দূরত্ব: যিনি খুঁজছেন তার থেকে আপনি কত কাছে। পরিচিতি বা প্রমিনেন্স: ব্যবসাটা কতটা পরিচিত, রিভিউ কেমন। গুগল এটাও বলে যে অনুরোধ করে বা টাকা দিয়ে লোকাল র‍্যাঙ্কিং ভালো করার কোনো উপায় নেই।

শুরুর জন্য কয়েকটা কাজ করুন। প্রোফাইলের প্রতিটি ঘর পূরণ করুন, ব্যবসার সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নিন, দোকান, খাবার বা পণ্যের সত্যিকারের ছবি দিন, আর ঠিকানা, ফোন নম্বর ও খোলার সময় যেন সব জায়গায় একই থাকে। যে কাস্টমাররা খুশি, তাদের রিভিউ দিতে অনুরোধ করুন, আর ভালো-খারাপ সব রিভিউয়ের ভদ্রভাবে উত্তর দিন। রিভিউ আসতে হবে সত্যিকারের কাস্টমারের কাছ থেকে, বানানো নয়।

গুগল বিজনেস প্রোফাইল ধাপে ধাপে সাজানো শিখতে চাইলে ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস কোর্সে “লোকাল মার্কেটিং উইথ গুগল বিজনেস” নামে আলাদা একটা মডিউল আছে।

ইউটিউব এসইও কি?

ইউটিউব এসইও মানে ভিডিওর টাইটেল, বর্ণনা, ট্যাগ আর বিষয়বস্তু এমনভাবে সাজানো, যাতে মানুষ ইউটিউবে যা লিখে খোঁজে, তার সাথে ভিডিওটা মেলে। ইউটিউব নিজে বলে, সার্চের ফল সাজাতে সে তিনটা জিনিসকে অগ্রাধিকার দেয়: প্রাসঙ্গিকতা, এনগেজমেন্ট আর মান।

প্রাসঙ্গিকতা মানে টাইটেল, ট্যাগ, বর্ণনা আর ভিডিওর বিষয় সার্চের সাথে কতটা মেলে। এনগেজমেন্টের একটা উদাহরণ হলো ওই সার্চে ভিডিওটা কতক্ষণ দেখা হয়েছে। মান মানে বিষয়টায় চ্যানেলের দক্ষতা, কর্তৃত্ব ও নির্ভরযোগ্যতার সংকেত। আর অর্গানিক সার্চে ভালো জায়গার জন্য ইউটিউব টাকা নেয় না।

আমি ২০২৩ সালের ভিডিওতে বলেছিলাম, এসইও-র বেশিরভাগ কাজ ওয়েবসাইটে হয়, তবে ইউটিউবেও এসইও করা যায়। ধরুন, সিলেটের একটা রান্নার চ্যানেল ভিডিওর টাইটেলে “আজকের রান্না” না লিখে মানুষ যা সত্যিই খোঁজে সেটা লিখল, যেমন “সাতকড়া দিয়ে গরুর মাংস রান্না”।

এসইও কীভাবে করবেন?

এসইও কাজ করে সার্চের সেই তিন ধাপ ধরে, যা আগে বলেছি: গুগল পেজ খুঁজে পায়, বোঝে আর সাজায়। আপনি কাজটা করবেন পাঁচ ধাপে:

  1. কিওয়ার্ড ঠিক করুন

    আগে ঠিক করুন, কোন শব্দ লিখে খুঁজলে আপনার পেজটা আসুক। কীভাবে বাছবেন, তা পরের অংশে আছে।

  2. পেজটা গুছিয়ে লিখুন

    টাইটেল, বর্ণনা, ইউআরএল, লেখা আর ছবির ট্যাগ এমনভাবে দিন, যাতে পেজটা গুগলকে জানায় যে কিওয়ার্ডের উত্তর আপনার কাছে আছে।

  3. গুগল যেন পেজটা পায়

    গুগল যে পেজ আগে থেকে চেনে, সেখান থেকে লিংক থাকলে নতুন পেজ খুঁজে পায়; সাইটম্যাপ জমা দিলেও পায়। সাইটটা ফোনেও ঠিকমতো খোলা দরকার।

  4. সেরা কনটেন্ট আর ভালো লিংক

    আমি দুটো জিনিসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই: উঁচু মানের কনটেন্ট আর লিংক। অন্য সাইটের লিংক অনেকটা সুপারিশপত্রের মতো কাজ করে। গুগল বলে, ভালো লিংক সময়ের সাথে স্বাভাবিকভাবে আসে; লিংক কেনা স্প্যাম, সেটা একটু পরে বলছি।

  5. মাপুন আর উন্নত করুন

    সার্চ কনসোলে দেখুন কোন সার্চ লিখে মানুষ আপনার সাইটে আসছে, তারপর সেই অনুযায়ী পেজটা আরও ভালো করুন।

    সার্চ কনসোল

কিওয়ার্ড বাছাইয়ের চারটা প্রশ্ন

কিওয়ার্ড মানে সেই শব্দ বা কয়েকটা শব্দ, যা লিখে মানুষ সার্চ করে। ২০২৩ সালের ভিডিওতে আমি কিওয়ার্ড বাছাইয়ের চারটা দিক বলেছিলাম; প্রশ্ন আকারে সেগুলো এমন:

৪টির মধ্যে ০টি হয়েছে

২০২৩ সালের ভিডিওতে আমি গুগলে “buy a bike in dhaka” লিখে দেখিয়েছিলাম, ফলাফলে Bikroy.com-এর একটা পেজ এসেছিল। পেজটা এমনি আসেনি; সেটা গুগলের জন্য ঠিকভাবে সাজানো ছিল।

ভিডিও দেখুন

২০২৩ সালের জুলাইয়ের এই ২৭ মিনিটের ভিডিওতে আমি এসইও কী, কেন এটা পুরোপুরি ফ্রি না, কিওয়ার্ড কীভাবে বাছবেন, অন-পেজ কাজ আর ব্যাকলিংক ব্যাখ্যা করেছি।

নতুনদের জন্য এসইও টিউটোরিয়াল: সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বাংলায়

এসইও ফ্রি না: খরচগুলো কোথায়

গুগলকে আপনি কোনো টাকা দেন না, কিন্তু তাতে এসইও ফ্রি হয়ে যায় না। গুগল নিজেই বলে, সে বেশি ক্রল করার বা উপরে র‍্যাঙ্ক করানোর জন্য টাকা নেয় না, আর গুগল বিজনেস প্রোফাইল বানানোও ফ্রি। তবু অনেকের ধারণা, এসইও-তে কোনো খরচ নেই। ২০২৩ সালের ভিডিওতে আমি এই ভুল ধারণা নিয়েই আলাদা করে বলেছিলাম।

SEO তো করতে হবে এবং কাউকে না কাউকে করতে হবে।
নাজমুল আহমেদ, ইউটিউব ভিডিও, জুলাই ২০২৩

খরচের জায়গাগুলো আমি ভিডিওতে এভাবে বলেছিলাম। এসইও-তে অনেক লেখালেখি করতে হয়, আর লেখক নিলে তাঁকে টাকা দিতে হয়। লিংক বিল্ডিং এসইও-র দুনিয়ায় অনেক দামি হতে পারে। এসইও-র বেশিরভাগ কাজ হয় ওয়েবসাইটে, তাই নিজের বা ক্লায়েন্টের একটা ওয়েবসাইট লাগে। আর সবকিছু নিজে করলেও নিজের সময়ের একটা দাম আছে, নতুন শিক্ষার্থী হলেও।

বিজ্ঞাপনের সাথে তুলনা করলে: সার্চ বিজ্ঞাপন দ্রুত ফল দেয়, তবে সেজন্য গুগলকে টাকা দিতে হয়। এসইও-তে প্রতি ক্লিকে টাকা লাগে না, আর একবার দাঁড়িয়ে গেলে সেটা অনেকদিন ধরে ভিজিটর আর লিড এনে দিতে পারে।

হোয়াইট হ্যাট আর ব্ল্যাক হ্যাট এসইও

হোয়াইট হ্যাট এসইও মানে গুগলের নীতিমালা মেনে বৈধভাবে সাইটকে ভালো জায়গায় আনার চেষ্টা, আর ব্ল্যাক হ্যাট এসইও ঠিক তার উল্টো। গুগল বলে, যে সাইট তার স্প্যাম নীতি ভাঙে, সেটা ফলাফলে নিচে নামতে পারে, এমনকি ফলাফল থেকে বাদও পড়তে পারে।

ব্ল্যাক হ্যাট: যা করবেন না

  • কিওয়ার্ড স্টাফিংএকই সার্চ শব্দ অস্বাভাবিকভাবে বারবার বসানো। গুগলের স্প্যাম নীতিতে এটাকে সরাসরি স্প্যাম বলা হয়েছে।
  • লিংক কেনার‍্যাঙ্কিং বাড়ানোর জন্য লিংক কেনা-বেচাকে গুগল লিংক স্প্যাম হিসেবে দেখে।
  • কপি আর গাদা গাদা পেজর‍্যাঙ্কিং বাড়াতে অন্য সাইটের লেখা তুলে এনে নিজের সাইটে রাখা, কিংবা পাঠকের কাজে না লেগে শুধু র‍্যাঙ্কিং-এর জন্য অনেক পেজ বানানো, দুটোই গুগলের স্প্যাম নীতিতে পড়ে; শেষেরটা এআই দিয়ে করলেও।

হোয়াইট হ্যাট: যা করবেন

  • পাঠকের জন্য লেখাআপনার পাঠক কে আর সে কী জানতে চায়, এই প্রশ্নের উত্তর যে পেজে নেই, কোনো টুল সেটাকে টেনে উপরে তুলতে পারে না।
  • লিংক অর্জনভালো লিংক আসে কাজের কনটেন্ট আর সত্যিকারের সম্পর্ক থেকে, কিনে নয়। গুগলও বলে, অন্য সাইটের লিংক সময়ের সাথে স্বাভাবিকভাবেই আসে।
  • সেরা লেখার পরীক্ষাপ্রকাশের আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, এই বিষয়ে এ পর্যন্ত যা লেখা হয়েছে, তার মধ্যে আপনার লেখাটাই সেরা কি না। না হলে আগে সেটা আরও ভালো করুন।

কেউ গুগলে এক নম্বর জায়গার গ্যারান্টি দিলে তাঁকে বিশ্বাস করবেন না। গুগল নিজেই বলে, কেউ এক নম্বর র‍্যাঙ্কিং-এর নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

এসইও-তে ফল পেতে কতদিন লাগে

এই প্রশ্নের সৎ উত্তর হলো, এটা কয়েকটা বিষয়ের উপর নির্ভর করে। আপনার বিষয়ে প্রতিযোগিতা কতটা, সাইটটা কতদিনের পুরনো, আর তাতে কাজের কনটেন্ট কতটা আছে, এসবের উপর সময় কম-বেশি হয়। কেউ যদি নির্দিষ্ট তারিখের প্রতিশ্রুতি দেন, সেটা অনুমান, নিশ্চয়তা না।

গুগলের এসইও স্টার্টার গাইডে বলা আছে, কিছু পরিবর্তনের প্রভাব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যেতে পারে, আবার কিছুর জন্য কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। কারণ গুগলকে আগে পেজটা আবার ক্রল করতে হয়, নতুন করে বুঝতে হয়, তারপর সেটা ফলাফলে দেখা যায়।

২০২৩ সালের ভিডিওতে আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলাম, ভালো একটা কিওয়ার্ড ধরে শুরু করলেও কাজটা ফল দিচ্ছে কি না, শুধু সেটা বুঝতে সাধারণত ছয় থেকে বারো মাস লাগে। কেউ কেউ এক সপ্তাহেই ফল দেখেন, তবে সেটা খুবই বিরল। এসইও অনেকটা সিক্স প্যাক বানানোর মতো: নিয়মিত লেখা, লিংক বিল্ডিং আর ধৈর্য। এটা আমার অভিজ্ঞতা, প্রতিশ্রুতি না।

তাই এসইও-কে একবার সেটআপ করে ভুলে যাওয়ার কাজ ভাববেন না। এটা নিয়মিত কাজ: লেখা, মাপা, উন্নত করা। অনুমান না করে গুগল সার্চ কনসোলে দেখুন কোন পেজ ইনডেক্সে উঠল, আর কোন সার্চে আপনার সাইট দেখা যাচ্ছে।

নতুনরা এসইও শেখা শুরু করবেন কীভাবে

এসইও শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পড়া আর হাতে-কলমে করা, দুটো একসাথে। নতুনদের জন্য আমার পরামর্শ পাঁচটা ধাপে:

  1. ১আগে বুঝুন সার্চ কীভাবে কাজ করে। উপরের ক্রলিং, ইনডেক্সিং আর র‍্যাঙ্কিং-এর ধারণা পরিষ্কার হলে পরের প্রতিটি কৌশল কেন কাজ করে বা করে না, তা নিজেই ধরতে পারবেন।
  2. ২প্র্যাকটিসের জন্য একটা ছোট সাইট বা ব্লগ বানান। বিষয় হতে পারে আপনার পছন্দের কিছু: রান্না, ক্রিকেট, পড়াশোনার নোট বা পরিচিত কারও দোকান। শুধু পড়ে এসইও শেখা যায় না। নিজের সাইটে কিছু বদলে তার ফল দেখলে তবেই শেখাটা পাকা হয়।
  3. ৩প্র্যাকটিসের সাইটে গুগল সার্চ কনসোল চালু করুন। এটা গুগলের নিজের টুল, যেখানে দেখা যায় আপনার সাইটের কোন পেজ গুগল ইনডেক্স করেছে, কোনটায় সমস্যা আছে, আর মানুষ কী লিখে খুঁজে আপনার সাইটে আসছে।
  4. ৪প্রতিটি প্রশ্নের জন্য একটা সত্যিই দরকারি পেজ লিখুন। তারপর সার্চ কনসোলে দেখুন মানুষ কী খুঁজে আসছে, আর সেই অনুযায়ী পেজটা আরও ভালো করুন। এসইও-তে লেখা শেষ মানেই কাজ শেষ না।
  5. ৫বেসিকগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে শিখুন। আমার ফ্রি বাংলা ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস কোর্সে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন আর লোকাল মার্কেটিং উইথ গুগল বিজনেস নামে আলাদা মডিউল আছে। কোর্সের ২৫টা লেসনের ২৪টাই ফ্রিতে দেখা যায়, এই তিনটা মডিউলও তার মধ্যে আছে; টাকা লাগে শুধু সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য। আর যারা বই পড়ে শিখতে পছন্দ করেন, মার্কেটিং-এর গোড়ার কথাগুলো পাবেন গোড়া থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং বইয়ে।

এসইও নিয়ে কাজ করাকে পেশা করতে চাইলে এই লেখার শেষের দিকে দেওয়া নিয়োগের গাইডটা দেখে নিন। কোনো ব্যবসা এসইও-র কাজে কাউকে নেওয়ার সময় কী কী যাচাই করে, তা জানলে নিজের প্রস্তুতির কোথায় ফাঁক আছে, বোঝা যাবে।

গুগলের এআই উত্তর আর এসইও: কী বদলেছে, কী বদলায়নি

এআই-চালিত সার্চ এখন ওয়েব সার্চের মূল ধারার অংশ। গুগলের “AI উত্তর” (ইংরেজিতে AI Overviews) আর AI Mode প্রশ্নের একটা সারাংশ লিখে দেয়, সাথে কয়েকটা পেজের লিংক দেখায়। ২০২৩ সালের ভিডিওতে আমি বলেছিলাম, অনেকে এখন এআই চ্যাট টুলেও খোঁজে, আমিও খুঁজি, তবে বেশিরভাগ সময় গুগলেই সার্চ করি। কোন পেজের লিংক আসবে, তা নিয়ে গুগলের নিজের কথা: এসব ফিচারে আসার জন্য আলাদা কোনো শর্ত বা বিশেষ অপটিমাইজেশন লাগে না; পেজটা গুগলের ইনডেক্সে থাকতে হবে, আর স্নিপেটসহ গুগল সার্চে দেখানোর যোগ্য হতে হবে। স্নিপেট মানে ফলাফলের লিংকের নিচের ছোট বর্ণনা। অর্থাৎ এসইও-র বেসিক বদলায়নি। এসব ফিচার থেকে আসা ভিজিটও সার্চ কনসোলের মোট সার্চ ট্রাফিকের মধ্যে ধরা হয়।

এআই দিয়ে যা করবেন না

  • গাদা গাদা পেজএআই দিয়ে পাঠকের কাজে লাগে না এমন অনেক পেজ বানালে গুগলের স্প্যাম নীতি ভাঙতে পারে।
  • না মিলিয়ে প্রকাশএআইয়ের লেখা প্রকাশের আগে হাতে-কলমে সব তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি, গুগল নিজেই এটা বলে।

এআই-কে যেভাবে কাজে লাগাবেন

  • নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করুনআমি ২০২৩ সালের ভিডিওতে বলেছিলাম, এআই দিয়ে লেখা ঠিক আছে, তবে কনটেন্টের মানই আসল। তাই নিজের অভিজ্ঞতা আর বাংলাদেশের উদাহরণ নিজে যোগ করুন।
  • বিষয় নিয়ে খোঁজখবরকোনো বিষয় নিয়ে খোঁজখবর করার সময় এআই বিশেষ কাজে লাগে, গুগলও এটা বলে।
  • নিজের লেখার কাঠামোআপনি নিজে যা লিখেছেন, তাতে গুছিয়ে কাঠামো দিতে এআই সাহায্য করতে পারে।

এআই ক্রলার আপনার পেজ পড়তে পারছে কি না, ফ্রি এআই ভিজিবিলিটি চেকার দিয়ে দেখে নিতে পারেন; টুলটা ইংরেজিতে।

ব্যবসার জন্য এসইও সাহায্য দরকার হলে

একটা কথা পরিষ্কার করে বলি: nazmc.com এসইও সার্ভিস বিক্রি করে না। এসইও নিয়ে এই সাইটে যা আছে, তা শেখার জন্য: কোর্স, ই-বুক আর এই লেখাটার মতো আর্টিকেল।

আপনার ব্যবসার জন্য যদি এসইও জানা কাউকে নিয়োগ দিতে চান, তাহলে কী দেখে বাছবেন, কীভাবে যাচাই করবেন আর কোন প্রতিশ্রুতি শুনলে সতর্ক হবেন, সেসব নিয়ে আছে বাংলাদেশে এসইও এক্সপার্ট নিয়োগের গাইড। লেখাটা ইংরেজিতে।

আর যদি নিজেই শিখতে চান, শুরু করুন ফ্রি বাংলা কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস দিয়ে। নিজের সাইটের জন্য বেসিকগুলো জানা থাকলে পরে কাউকে নিয়োগ দিলেও তার কাজ বুঝতে আর যাচাই করতে পারবেন।

এসইও আর সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে

SEO কী এবং কেন দরকার?
এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন হলো ওয়েবসাইটকে এমনভাবে তৈরি ও উন্নত করা, যাতে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিন সেটা সহজে খুঁজে পায়, বুঝতে পারে, আর কেউ সেই বিষয়ে খুঁজলে বিজ্ঞাপনের টাকা ছাড়াই সার্চ রেজাল্টে দেখায়। এটা দরকার, কারণ আপনার গ্রাহকরা কিছু দরকার হলে গুগলেই খোঁজেন। স্ট্যাটকাউন্টারের হিসাবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশে সার্চ ইঞ্জিন বাজারের ৯৮.০৪% ছিল গুগলের।
অপটিমাইজেশন কি?
অপটিমাইজেশন মানে সর্বোত্তমকরণ। কোনো কিছুকে যতটা সম্ভব কার্যকর, উন্নত বা নিখুঁত করাকে বলে অপটিমাইজ করা। তাই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন মানে একটা ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়ার জন্য যতটা সম্ভব উপযুক্ত করে তোলা।
সার্চ ইঞ্জিন আর ব্রাউজারের মধ্যে পার্থক্য কী?
ব্রাউজার হলো সেই অ্যাপ, যা দিয়ে আপনি ওয়েবসাইট খোলেন, যেমন গুগল ক্রোম বা ফায়ারফক্স। সার্চ ইঞ্জিন হলো সেই সেবা, যা ইন্টারনেটের পেজ খুঁজে, জমা রেখে আর সাজিয়ে দেখায়, যেমন গুগল বা বিং। ব্রাউজার দিয়েই আপনি সার্চ ইঞ্জিনে যান।
SEO ki, ar eta ki Banglay shekha jay?
এসইও মানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, অর্থাৎ ওয়েবসাইটকে গুগলে খুঁজে পাওয়ার উপযোগী করা। হ্যাঁ, এর বেসিক পুরোটাই বাংলায় শেখা যায়। টুলগুলোর মেনু ইংরেজিতে থাকে, কিন্তু ধারণাগুলো বাংলায় বুঝে নিলে সমস্যা হয় না। আমার ফ্রি বাংলা কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস-এ এসইও নিয়ে আলাদা মডিউল আছে।
এসইও শিখতে কি কোডিং জানতে হয়?
শুরু করতে কোডিং জানা লাগে না। কিওয়ার্ড বোঝা, কাজের কনটেন্ট লেখা, গুগল বিজনেস প্রোফাইল সাজানো বা সার্চ কনসোল দেখা, এসব কোডিং ছাড়াই করা যায়। টেকনিক্যাল এসইও-তে গভীরে যেতে চাইলে ওয়েবসাইট কীভাবে তৈরি হয় তার কিছু ধারণা কাজে লাগে, তবে সেটা পরের ধাপ।
সার্চ ইঞ্জিন কত প্রকার?
ফলাফল জোগাড়ের পদ্ধতি ধরলে সার্চ ইঞ্জিন মূলত তিন ধরনের: যেগুলো রোবট বা ক্রলার দিয়ে চলে, যেমন গুগল আর বিং; যেগুলো মানুষের জমা দেওয়া তথ্যে চলে, যেমন ইয়াহুর শুরুর ওয়েব ডিরেক্টরি; আর এই দুইয়ের মিশ্রণ। পাঠ্যবইয়ে ধরন অন্যভাবে লেখা থাকলে পরীক্ষায় বইয়েরটাই লিখবেন।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন আর গুগল অ্যাডসের মধ্যে পার্থক্য কী?
গুগল অ্যাডসে টাকা দিয়ে সার্চ রেজাল্টে বিজ্ঞাপন হিসেবে আলাদা চিহ্ন দেওয়া জায়গা কেনা হয়। ফল আসে দ্রুত, আর টাকা বন্ধ করলে বিজ্ঞাপনও বন্ধ। এসইও-তে সাধারণ ফলাফলে জায়গা অর্জন করতে হয়, সময় লাগে, কিন্তু প্রতি ক্লিকে টাকা দিতে হয় না। গুগল টাকা নিয়ে সাধারণ ফলাফলে কাউকে উপরে তোলে না।