মার্কেটিং কি? সহজ সংজ্ঞা, উদাহরণ আর মূল ধারণা

মার্কেটিং মানে শুধু বিজ্ঞাপন বা বিক্রি না। সংজ্ঞা, একটা সহজ উদাহরণ, মার্কেটিং-এর জনকের পরিচয় আর কাজের কয়েকটা মূল ধারণা, এক লেখায়।

· পড়তে ৯ মিনিট · নাজমুল আহমেদ

মার্কেটিং হলো কাস্টমারের চাহিদা বোঝা, সেই চাহিদা মেটায় এমন পণ্য বা সেবা তৈরি করা, সঠিক দাম ঠিক করা, সেটা কাস্টমারের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়া আর তাকে জানানো কেন এটা তার কাজে লাগবে। ফিলিপ কটলারের ভাষায় সংক্ষেপে, লাভজনকভাবে মানুষের চাহিদা মেটানোই মার্কেটিং। তাই মার্কেটিং শুধু বিজ্ঞাপন বা বিক্রি না, পণ্য বানানোর আগে থেকেই এর কাজ শুরু হয়।

“মার্কেটিং কি”, ইংরেজি হরফে যাকে অনেকে লেখেন “marketing ki”, প্রশ্নটা সহজ শোনালেও উত্তরে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। বেশিরভাগ মানুষ মার্কেটিং বলতে বোঝেন বিজ্ঞাপন, নয়তো সেলস। কেউ ভাবেন ফেসবুক পেজে নিয়মিত পোস্ট দেওয়াই মার্কেটিং। এগুলো সবই মার্কেটিং-এর অংশ, কিন্তু কোনোটাই পুরো মার্কেটিং না।

১৬ বছরের বেশি সময় মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, যে ব্যবসাগুলো মার্কেটিংকে শুধু প্রচার হিসেবে দেখে, তারা বিজ্ঞাপনে টাকা ঢালে কিন্তু বুঝতে পারে না কেন বিক্রি বাড়ছে না। আর যারা মার্কেটিংকে কাস্টমার বোঝার কাজ হিসেবে দেখে, তাদের বিজ্ঞাপনের প্রতিটি টাকা অনেক বেশি কাজে লাগে। এই লেখায় মার্কেটিং-এর সংজ্ঞা, একটা সহজ উদাহরণ, মার্কেটিং-এর জনক কে, আর মার্কেটিং-এর মূল কয়েকটা ধারণা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলছি।

মার্কেটিং কাকে বলে

মার্কেটিং শব্দটা এসেছে ইংরেজি “market” থেকে, মানে বাজার। এর বাংলা পরিভাষা বিপণন, পাঠ্যবইয়ে এই শব্দটাই বেশি পাবেন। সহজ বাংলায় মার্কেটিং হলো বাজারে ক্রেতা আর বিক্রেতার মধ্যে মূল্যের বিনিময় ঘটানোর পুরো প্রক্রিয়া। ক্রেতা টাকা দেয়, কারণ বদলে সে এমন কিছু পায় যা তার কাছে ওই টাকার চেয়ে বেশি মূল্যবান মনে হয়। বিক্রেতার কাজ হলো সেই মূল্য তৈরি করা, আর ক্রেতাকে সেটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে বোঝানো।

পাঠ্যবইয়ে কয়েকটা সংজ্ঞা বেশি চলে। ফিলিপ কটলার খুব সংক্ষেপে বলেছেন, মার্কেটিং হলো লাভজনকভাবে মানুষের চাহিদা মেটানো। আমেরিকান মার্কেটিং অ্যাসোসিয়েশনের সংজ্ঞা একটু বড়। তাদের কথার সারমর্ম হলো, কাস্টমার, সহযোগী আর সমাজের জন্য মূল্যবান কিছু তৈরি করা, সে কথা জানানো, সেটা পৌঁছে দেওয়া আর বিনিময় করার সব কাজ, প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়া মিলেই মার্কেটিং। দুটো সংজ্ঞার মূল কথা একই: মার্কেটিং শুরু হয় কাস্টমারের দরকার থেকে, পণ্য থেকে না।

পরীক্ষার খাতায় সংজ্ঞা লিখতে হলে এই দুটোর যেকোনো একটা লিখতে পারেন। কিন্তু কাজের জীবনে যে সংজ্ঞাটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে, সেটা হলো: কে কিনবে, কেন কিনবে, আর কেন আপনার কাছ থেকেই কিনবে, এই তিনটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা আর সেই অনুযায়ী ব্যবসাটা সাজানোই মার্কেটিং।

একটা সহজ উদাহরণ

ধরুন আপনি মতিঝিলের কোনো অফিসপাড়ায় দুপুরের খাবারের ব্যবসা শুরু করতে চান। মার্কেটিং-এর কাজ শুরু হয় রান্নার আগেই। আশেপাশের অফিসের মানুষ দুপুরে কী খায়, কত টাকার মধ্যে খেতে চায়, কখন খায়, আর এখন যেখানে খায় সেখানে তাদের কী অসুবিধা হয়, এগুলো জানাই মার্কেটিং।

হয়তো জানলেন, অনেকে ঘরের মতো খাবার চান, কিন্তু লাইনে দাঁড়ানোর সময় পান না। তখন সিদ্ধান্ত নিলেন ভাত, ডাল, একটা সবজি আর একটা মাছ বা মাংসের একটা সেট মেনু দেবেন, এটা আপনার পণ্য। অফিসের মানুষের সাধ্যের মধ্যে একটা দাম ঠিক করলেন, এটা দাম। আগের দিন অর্ডার নিয়ে দুপুর একটার মধ্যে অফিসে পৌঁছে দেবেন, এটা স্থান বা বিতরণ। আর আশেপাশের অফিসের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিলেন, রিসেপশনে মেনুসহ কার্ড রেখে এলেন, এটা প্রচার।

এখানে বিজ্ঞাপন, মানে কার্ড আর ফেসবুক পোস্ট, পুরো কাজের ছোট একটা অংশ। আসল মার্কেটিং হয়েছে আগেই, যখন আপনি বুঝেছেন কাস্টমার কী চায় আর সেই অনুযায়ী ব্যবসাটা সাজিয়েছেন। এই কারণেই বলা হয়, ভালো মার্কেটিং বিক্রিকে সহজ করে দেয়।

মার্কেটিং এর জনক কে

মার্কেটিং-এর জনক বলা হয় ফিলিপ কটলারকে (Philip Kotler)। তিনি একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ ও মার্কেটিং-এর অধ্যাপক, দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে পড়িয়েছেন। তাঁকে প্রায়ই “আধুনিক মার্কেটিং-এর জনক” বলা হয়।

এই পরিচয়ের বড় কারণ তাঁর লেখা বই “Marketing Management”, যার প্রথম সংস্করণ বের হয় ১৯৬৭ সালে। আগে মার্কেটিংকে মূলত বিক্রি আর বিজ্ঞাপনের কৌশল হিসেবে দেখা হতো। কটলার দেখালেন, মার্কেটিং হলো কাস্টমারের চাহিদা বুঝে পুরো ব্যবসাকে সাজানোর একটা বিষয়, যা পড়ানো যায়, মাপা যায় আর পরিকল্পনা করে করা যায়। বইটির অনেকগুলো সংস্করণ বেরিয়েছে, আর বাংলাদেশসহ বহু দেশে বিবিএ ও এমবিএ-তে মার্কেটিং পড়ানো হয় এই বই বা এর ধারণাগুলো ধরে।

মার্কেটিং-এর ইতিহাসে আরও দুটো নাম জানা ভালো। ই. জেরোম ম্যাককার্থি ১৯৬০ সালে মার্কেটিং মিক্সের ৪P কাঠামো দেন, যা নিচে বলছি। আর ম্যানেজমেন্ট চিন্তাবিদ পিটার ড্রাকারের একটা কথা মার্কেটিং-এর ক্লাসে প্রায়ই শোনা যায়: মার্কেটিং-এর লক্ষ্য কাস্টমারকে এত ভালোভাবে বোঝা, যাতে পণ্যটা তার সাথে মিলে যায় আর নিজেই নিজেকে বিক্রি করে। তবে পরীক্ষায় “মার্কেটিং-এর জনক কে” প্রশ্ন এলে উত্তর একটাই, ফিলিপ কটলার।

মার্কেটিং আর সেলস কি একই জিনিস

না, আর এই পার্থক্যটা বোঝা খুব জরুরি। সেলস বা বিক্রয়ের কাজ হলো যে পণ্য আছে তা বিক্রি করা, একজন নির্দিষ্ট ক্রেতাকে রাজি করানো। মার্কেটিং-এর কাজ তার আগের: কোন পণ্য বানানো উচিত, কার জন্য, কত দামে, আর কীভাবে এমন অবস্থা তৈরি করা যায় যাতে ক্রেতা নিজেই আগ্রহ নিয়ে আসে।

একটা সহজ তুলনা দিই। সেলস এক এক করে মাছ ধরে। মার্কেটিং ঠিক করে কোন পুকুরে জাল ফেলতে হবে, আর আদৌ সেই পুকুরে মাছ আছে কি না। দুটোই দরকার, আর ভালো কোম্পানিতে দুই দল একসাথে কাজ করে। কিন্তু মার্কেটিং দুর্বল হলে সেলস টিমকে প্রতিটি বিক্রির জন্য অনেক বেশি খাটতে হয়।

একইভাবে বিজ্ঞাপন আর মার্কেটিংও এক না। বিজ্ঞাপন প্রচারের একটা মাধ্যম, আর প্রচার নিজেই মার্কেটিং-এর চারটা মূল উপাদানের একটা মাত্র।

মার্কেটিং মিক্স: মার্কেটিং-এর ৪P

মার্কেটিং-এর সিদ্ধান্তগুলো সাজানোর সবচেয়ে পরিচিত কাঠামো হলো ৪P, যাকে মার্কেটিং মিক্সও বলে। উপরের দুপুরের খাবারের উদাহরণে চারটাই ছিল:

  • পণ্য (Product): আপনি ঠিক কী দিচ্ছেন। শুধু জিনিসটা না, এর মান, ডিজাইন, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডের নাম আর বিক্রির পরের সেবাও এর মধ্যে পড়ে।
  • দাম (Price): কত টাকায় বিক্রি করবেন। দাম শুধু খরচের হিসাব না, কাস্টমার পণ্যটাকে কতটা মূল্যবান মনে করে আর প্রতিযোগীরা কত নিচ্ছে, সেটাও দেখতে হয়।
  • স্থান (Place): পণ্যটা কাস্টমারের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে। দোকান, ডিস্ট্রিবিউটর, ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, হোম ডেলিভারি, সবই এর অংশ।
  • প্রচার (Promotion): কাস্টমারকে কীভাবে জানাবেন আর আগ্রহী করবেন। বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়া, অফার, জনসংযোগ আর সেলস টিম, সবই এর মধ্যে।

সেবাভিত্তিক ব্যবসার জন্য পরে এর সাথে আরও তিনটা P যোগ হয়েছে: মানুষ (People), প্রক্রিয়া (Process) আর দৃশ্যমান প্রমাণ (Physical evidence), সব মিলিয়ে ৭P। ধরুন একটা কোচিং সেন্টার বা ক্লিনিক। সেখানে কারা সেবা দিচ্ছেন, সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া কতটা সহজ, আর জায়গাটা দেখে কাস্টমারের কতটা ভরসা হয়, এগুলোও বিক্রিকে সরাসরি প্রভাবিত করে। ৪P-এর আসল শিক্ষা হলো, সিদ্ধান্তগুলো একে অপরের সাথে মিলতে হবে। দামি প্রিমিয়াম পণ্য সস্তা অফারের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করা কঠিন, আবার খুব ভালো পণ্যও বিক্রি হয় না যদি কাস্টমার সেটা হাতের কাছে না পায়।

STP: কার কাছে বিক্রি করবেন, সেটা ঠিক করা

৪P ঠিক করার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর লাগে: আপনার কাস্টমার আসলে কে। এর জন্য মার্কেটিং-এ তিন ধাপের একটা পদ্ধতি আছে, সংক্ষেপে STP:

  1. ১সেগমেন্টেশন (Segmentation): পুরো বাজারকে কয়েকটা দলে ভাগ করা, যেমন বয়স, এলাকা, আয়, প্রয়োজন বা আচরণ অনুযায়ী। সবার চাহিদা এক না, তাই সবাইকে একই কথা বললে কারো কাছেই ঠিকমতো পৌঁছায় না।
  2. ২টার্গেটিং (Targeting): সেই দলগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক দল বেছে নেওয়া, যাদের চাহিদা আপনি সবচেয়ে ভালোভাবে মেটাতে পারেন আর যাদের কাছে বিক্রি করা লাভজনক।
  3. ৩পজিশনিং (Positioning): বেছে নেওয়া কাস্টমারের মনে আপনার ব্র্যান্ডের জন্য একটা পরিষ্কার জায়গা তৈরি করা। সবচেয়ে সাশ্রয়ী, সবচেয়ে দ্রুত ডেলিভারি, নাকি ঘরের মতো স্বাদ, কাস্টমার আপনাকে এক কথায় কীভাবে মনে রাখবে, সেটাই পজিশনিং।

নতুন উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো “সবাই আমার কাস্টমার” ভাবা। যে পণ্য সবার জন্য, বাস্তবে সেটা কারো জন্যই বিশেষ কিছু না। ছোট একটা দল বেছে নিয়ে তাদের কাছে সবচেয়ে ভালো হয়ে ওঠা, তারপর ধীরে ধীরে বড় হওয়া, এটাই বেশিরভাগ টেকসই ব্যবসার পথ।

মার্কেটিং ধারণার বিবর্তন

সময়ের সাথে ব্যবসাগুলো মার্কেটিংকে কয়েকটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেছে। বিবিএ-র পাঠ্যবইয়ে এগুলোকে মার্কেটিং-এর পাঁচটা ধারণা বলা হয়, আর বাস্তবে আজও সবগুলোই দেখা যায়:

  • উৎপাদন ধারণা: বেশি উৎপাদন করো, খরচ কমাও, সস্তায় দাও, ক্রেতা এমনিই কিনবে।
  • পণ্য ধারণা: সবচেয়ে ভালো মানের পণ্য বানাও, ক্রেতা নিজেই খুঁজে নেবে।
  • বিক্রয় ধারণা: জোর দিয়ে প্রচার আর বিক্রির চেষ্টা না করলে মানুষ কিনবে না।
  • মার্কেটিং ধারণা: আগে ক্রেতার চাহিদা বোঝো, তারপর সেই অনুযায়ী পণ্য বানাও আর বিক্রি করো।
  • সামাজিক মার্কেটিং ধারণা: ক্রেতার চাহিদা মেটাও, কিন্তু এমনভাবে যাতে সমাজ আর পরিবেশেরও ক্ষতি না হয়।

আজকের সফল কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগ মার্কেটিং ধারণা বা সামাজিক মার্কেটিং ধারণা ধরে চলে। তবে বাজারে এখনো অনেক ব্যবসা বিক্রয় ধারণায় আটকে আছে, যারা পণ্য বানিয়ে ফেলার পর ভাবে কীভাবে বিক্রি করবে। মার্কেটিং শেখার প্রথম বড় শিক্ষা হলো এই ক্রমটা উল্টে দেওয়া।

মার্কেটিং কত প্রকার

মার্কেটিংকে নানাভাবে ভাগ করা যায়। কাজের জীবনে এই কয়েকটা ভাগের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যায়:

  • প্রচলিত বা ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিং: টিভি, রেডিও, পত্রিকা, বিলবোর্ড, লিফলেট আর ইভেন্ট।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং: সার্চ ইঞ্জিন, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল, ওয়েবসাইট আর মোবাইলের মাধ্যমে মার্কেটিং। বিস্তারিত লিখেছি ডিজিটাল মার্কেটিং কি লেখায়।
  • বি-টু-সি (B2C) মার্কেটিং: সাধারণ ক্রেতার কাছে বিক্রি, যেমন কাপড়, খাবার বা মোবাইল ফোন।
  • বি-টু-বি (B2B) মার্কেটিং: এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে বিক্রি, যেমন অফিসের সফটওয়্যার বা কারখানার কাঁচামাল। এখানে সিদ্ধান্ত নিতে সময় বেশি লাগে, আর একাধিক মানুষ মিলে সিদ্ধান্ত নেন।
  • সার্ভিস মার্কেটিং: হাতে ধরা যায় না এমন সেবা বিক্রি, যেমন ব্যাংকিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা বা পরামর্শ।
  • কনটেন্ট মার্কেটিং: কাজের তথ্য বা শিক্ষা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন, তারপর সেই আস্থা থেকে বিক্রি।

কেন প্রতিটি ব্যবসার মার্কেটিং দরকার

ছোট ব্যবসার মালিকেরা প্রায়ই বলেন, আমার ব্যবসা ছোট, মার্কেটিং-এর দরকার নেই, পরিচিতরাই কেনে। সমস্যা হলো পরিচিত মানুষের সংখ্যা সীমিত, আর ব্যবসা বাড়াতে হলে অপরিচিত মানুষের কাছে পৌঁছাতেই হবে। তাছাড়া আপনার প্রতিযোগী যদি কাস্টমারকে আপনার চেয়ে ভালো বোঝে, তাহলে পরিচিতরাও একদিন সেদিকে চলে যেতে পারে।

মার্কেটিং মানেই বড় বাজেট না। নিজের কাস্টমারের সাথে নিয়মিত কথা বলা, কেন তারা কেনে আর কেন কেউ কেউ কেনে না তা লিখে রাখা, দাম আর অফার নিয়ে ছোট ছোট পরীক্ষা করা, এগুলো প্রায় বিনা খরচের মার্কেটিং। বড় কোম্পানিতে এই কাজগুলোই একটা পুরো টিম মিলে করে, পরিকল্পনা, বাজেট আর সাপ্তাহিক হিসাব ধরে।

মার্কেটিং শিখবেন কীভাবে

মার্কেটিং শেখা শুরু করতে বিবিএ বা এমবিএ ডিগ্রি লাগে না। আমার পরামর্শ চারটা ধাপে:

  1. ১মূল ধারণাগুলো দিয়ে শুরু করুন: কাস্টমারের চাহিদা, ৪P, STP আর পজিশনিং। এই লেখার বিষয়গুলো পরিষ্কার হলে বাকিটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
  2. ২চারপাশের ব্যবসাগুলোকে মার্কেটিং-এর চোখে দেখুন। কোনো বিজ্ঞাপন দেখলে ভাবুন, এটা কার জন্য, কী বলতে চাইছে, আর পণ্য ও দামের সাথে কথাটা মিলছে কি না।
  3. ৩ডিজিটাল দিকটা শিখুন, কারণ আজকের বেশিরভাগ মার্কেটিং-এর কাজ কোনো না কোনো ডিজিটাল চ্যানেলে হয়। বাংলায় একদম বেসিক থেকে শেখার জন্য লিখেছি গোড়া থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং বইটি, আর ভিডিওতে শিখতে চাইলে আছে বাংলা কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস।
  4. ৪ছোট একটা বাস্তব কাজে হাত দিন। পরিচিত কারও ব্যবসার জন্য কাস্টমার কারা, তারা কী চায় আর তাদের কাছে কীভাবে পৌঁছানো যায়, এক পাতায় একটা পরিকল্পনা লিখে ফেলুন।

আর ব্যবসার মালিক হিসেবে যদি নিজের কোম্পানির মার্কেটিং গুছিয়ে নিতে চান, অভিজ্ঞ কারও সাথে বসে পরিকল্পনা সাজালে অনেক সময় আর টাকা বাঁচে। আমি কোম্পানির সাথে কীভাবে কাজ করি, তা দেখতে পারেন আমার ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও কনসালট্যান্ট পেজে।

মার্কেটিং নিয়ে প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে

মার্কেটিং এর জনক কে?
ফিলিপ কটলারকে (Philip Kotler) আধুনিক মার্কেটিং-এর জনক বলা হয়। তিনি আমেরিকান অধ্যাপক, নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে পড়িয়েছেন, আর ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বই “Marketing Management” মার্কেটিংকে একটা পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে দাঁড় করায়।
মার্কেটিং কাকে বলে, এক কথায়?
লাভজনকভাবে কাস্টমারের চাহিদা মেটানোকে মার্কেটিং বলে। এর মধ্যে পড়ে চাহিদা বোঝা, সেই অনুযায়ী পণ্য বা সেবা তৈরি, দাম ঠিক করা, কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেওয়া আর তাকে জানানো কেন এটা তার কাজে লাগবে।
Marketing ki, ar eta sales theke alada kivabe?
মার্কেটিং হলো কাস্টমারের চাহিদা বুঝে কী বিক্রি হবে, কার কাছে, কত দামে আর কীভাবে, তা ঠিক করা ও জানানো। সেলস হলো নির্দিষ্ট একজন ক্রেতাকে রাজি করিয়ে বিক্রিটা সম্পন্ন করা। মার্কেটিং ক্রেতা তৈরি করে, সেলস সেই ক্রেতার সাথে লেনদেন শেষ করে।
মার্কেটিং-এর ৪P কী কী?
পণ্য (Product), দাম (Price), স্থান বা বিতরণ (Place) আর প্রচার (Promotion)। ১৯৬০ সালে ই. জেরোম ম্যাককার্থি এই কাঠামো দেন। সেবাভিত্তিক ব্যবসার জন্য এর সাথে মানুষ, প্রক্রিয়া আর দৃশ্যমান প্রমাণ যোগ করে একে ৭P বলা হয়।
মার্কেটিং শিখতে কি বিবিএ বা এমবিএ পড়তে হয়?
না। বিবিএ বা এমবিএ মার্কেটিং-এর তত্ত্ব ভালোভাবে শেখায়, কিন্তু অনেক মার্কেটার অন্য বিষয়ে পড়েও এই পেশায় এসেছেন। মূল ধারণাগুলো বই বা কোর্স থেকে শিখে বাস্তব প্রজেক্টে কাজে লাগালে মার্কেটিং-এ ক্যারিয়ার শুরু করা যায়।
ছোট ব্যবসার কি মার্কেটিং দরকার?
হ্যাঁ, বরং ছোট ব্যবসার জন্য মার্কেটিং আরও জরুরি, কারণ বাজেট কম বলে প্রতিটি টাকা সঠিক কাস্টমারের পেছনে খরচ হওয়া দরকার। শুরুটা হতে পারে প্রায় বিনা খরচে: কাস্টমারের সাথে কথা বলা, তারা কেন কেনে তা বোঝা, আর সেই কথাগুলো নিজের প্রচারে ব্যবহার করা।