এআই কি? পূর্ণরূপ, জনক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজ বাংলা গাইড

এআই কাকে বলে, এর পূর্ণরূপ আর জনক থেকে শুরু করে এটা কীভাবে কাজ করে, প্রতিদিনের উদাহরণ, ঝুঁকি, শেখার পথ আর ২০টির বেশি শব্দের বাংলা গ্লসারি, সব এক লেখায়।

· পড়তে ১৫ মিনিট · নাজমুল আহমেদ

এআই বা AI-এর পূর্ণরূপ Artificial Intelligence, বাংলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কম্পিউটার বা মেশিনকে এমনভাবে তৈরি করা, যাতে সে মানুষের মতো শিখতে, বুঝতে, সিদ্ধান্ত নিতে আর ভাষা ব্যবহার করতে পারে, সেটাই এআই। সাধারণ সফটওয়্যার চলে প্রোগ্রামারের লেখা নিয়মে, আর আজকের বেশিরভাগ এআই অনেক উদাহরণ বা ডেটা থেকে নিজেই নিয়ম শিখে নেয়। ১৯৫৫ সালে জন ম্যাকার্থি প্রথম এই নামটি ব্যবহার করেন, তাই তাঁকে এআই-এর জনক বলা হয়।

গুগলে কেউ বাংলায় লেখেন “এআই কি”, কেউ ইংরেজি হরফে লেখেন “ai কি” বা “ai ki”। প্রশ্ন একটাই, আর এর উত্তর জানা এখন শুধু প্রযুক্তির লোকদের কাজ না। কারণ আপনি হয়তো খেয়াল না করেই প্রতিদিন এআই ব্যবহার করছেন। ফেসবুক খুললে কোন পোস্ট আগে দেখবেন, ইউটিউবে পরের ভিডিও কোনটা আসবে, গুগল ম্যাপ কোন রাস্তা দিয়ে যেতে বলবে, এসবের পেছনে কাজ করছে এআই। শুধু কেউ সেটাকে এআই বলে ডাকে না।

১৬ বছরের বেশি সময় ধরে মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছি, মার্কেটিং টিম গড়েছি আর চালিয়েছি। এখন মার্কেটিং-এর কাজে এআই টুল ব্যবহার করি, তাই এই লেখাটা লিখছি একজন ব্যবহারকারীর চোখ দিয়ে, গবেষকের চোখ দিয়ে না। এখানে সহজ ভাষায় সাজিয়েছি এআই কাকে বলে, এর পূর্ণরূপ, এআই-এর জনক কে, এটা কীভাবে কাজ করে, কত ধরনের আছে, প্রতিদিনের উদাহরণ, ব্যবসায় এর ব্যবহার, ঝুঁকি, শেখার পথ, আর শেষে দরকারি শব্দগুলোর একটা বাংলা গ্লসারি।

এআই কাকে বলে

সহজ ভাষায়, কম্পিউটার বা মেশিনকে এমনভাবে তৈরি করা, যাতে সে এমন কিছু কাজ করতে পারে যার জন্য সাধারণত মানুষের বুদ্ধি লাগে, সেটাই এআই। যেমন নতুন কিছু শেখা, কোনো কিছু বোঝা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, ছবি চেনা, কিংবা মানুষের ভাষায় কথা বলা আর লেখা।

এআই বুঝতে সবচেয়ে কাজে লাগে একটা পার্থক্য: সাধারণ সফটওয়্যার আর এআই কীভাবে আলাদা। সাধারণ সফটওয়্যার চলে প্রোগ্রামারের লেখা নিয়মে। ক্যালকুলেটরে দুই আর দুই যোগ করলে চার আসে, কারণ কেউ সেই নিয়মটা আগে থেকে লিখে দিয়েছে। আজকের বেশিরভাগ এআই-এর বেলায় প্রোগ্রামার প্রতিটি নিয়ম লিখে দেন না। মেশিনকে অনেক উদাহরণ দেখানো হয়, আর মেশিন সেই উদাহরণ থেকে নিজেই নিয়ম খুঁজে নেয়। এই উদাহরণগুলোকেই বলে ডেটা।

একটা পরিচিত উদাহরণ দিই। জিমেইলের স্প্যাম ফোল্ডারে কোন মেইল যাবে, তার সব নিয়ম কেউ হাতে লিখে রাখেনি। অসংখ্য মেইলের মধ্যে কোনগুলোকে মানুষ স্প্যাম বলে চিহ্নিত করেছে, তা দেখে সিস্টেম শিখেছে স্প্যাম মেইল দেখতে কেমন হয়। মোবাইলের ক্যামেরা যখন ছবি তোলার আগেই মুখ চিনে ফোকাস ঠিক করে, সেটাও একই ধরনের শেখা থেকে আসে: অনেক মুখের ছবি দেখে মেশিন শিখেছে মানুষের মুখ দেখতে কেমন।

AI এর পূর্ণরূপ কী

AI-এর পূর্ণরূপ হলো Artificial Intelligence, উচ্চারণে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। বাংলায় একে বলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বাংলা লেখায় সংক্ষেপে এআই আর এ আই, দুটোই চলে, আর মুখের কথায় প্রায় কেউই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলেন না, সবাই এআই-ই বলেন।

শব্দ দুটো আলাদা করে দেখলে মানেটা পরিষ্কার হয়। কৃত্রিম মানে যা প্রকৃতিতে এমনিতে তৈরি হয়নি, মানুষ তৈরি করেছে। বুদ্ধিমত্তা মানে শেখা, বোঝা, যুক্তি দিয়ে ভাবা আর সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা। দুটো মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানে মানুষের তৈরি এমন ব্যবস্থা, যা বুদ্ধির কিছু কাজ করতে পারে।

তবে “বুদ্ধিমত্তা” শব্দটা শুনে ভাববেন না যে মেশিনের মানুষের মতো মন বা অনুভূতি আছে। আজকের এআই যা করে, তা হলো অনেক ডেটা থেকে প্যাটার্ন শিখে সেই অনুযায়ী উত্তর দেওয়া।

এআই এর জনক কে

এআই-এর জনক বলা হয় জন ম্যাকার্থিকে (John McCarthy)। তিনি ছিলেন একজন আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, জন্ম ১৯২৭ সালে, মৃত্যু ২০১১ সালে। ১৯৫৫ সালে তিনি মারভিন মিনস্কি, নাথানিয়েল রচেস্টার আর ক্লড শ্যাননের সাথে মিলে একটা গবেষণা ওয়ার্কশপের প্রস্তাব লেখেন, আর সেই প্রস্তাবেই প্রথম “artificial intelligence” কথাটা ব্যবহার করা হয়। ওয়ার্কশপটি হয় ১৯৫৬ সালের গ্রীষ্মে, যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজে। এই ডার্টমাউথ ওয়ার্কশপ থেকেই এআই আলাদা একটা গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে বলে ধরা হয়।

ম্যাকার্থি পরে Lisp নামে একটা প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরি করেন, যার উপর তাঁর প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। কম্পিউটার বিজ্ঞানে অবদানের জন্য ১৯৭১ সালে তিনি টুরিং অ্যাওয়ার্ড পান।

তবে অনেক বইয়ে আরেকটা নামও পাবেন, অ্যালান টুরিং (Alan Turing)। ১৯৫০ সালে Mind নামের একটা জার্নালে তাঁর প্রবন্ধ “Computing Machinery and Intelligence” প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন: মেশিন কি চিন্তা করতে পারে? সেখানে তিনি একটা পরীক্ষার প্রস্তাব দেন, যার নাম দিয়েছিলেন ইমিটেশন গেম। পরে সেটাই টুরিং টেস্ট নামে পরিচিত হয়। এআই নামটা আসার আগেই টুরিং এই প্রশ্নের ভিত তৈরি করেছিলেন, তাই তাঁকেও এআই-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ধরা হয়। তবে পরীক্ষায় “এআই-এর জনক কে” প্রশ্ন এলে প্রচলিত উত্তর জন ম্যাকার্থি, কারণ নামটা তাঁরই দেওয়া।

এআই কীভাবে কাজ করে

ভেতরের গণিত জটিল হলেও মূল ধারণাটা পাঁচটা ধাপে বোঝা যায়। উদাহরণ হিসেবে আগের সেই স্প্যাম ফিল্টারের কথাই ধরি:

  1. ১ডেটা: প্রথমে অনেক উদাহরণ জোগাড় করা হয়। ছবি, লেখা, কথা বা কেনাকাটার তথ্য, যে কাজ শেখাতে হবে সেই ধরনের ডেটা। স্প্যাম চেনানোর জন্য লাগবে অনেক মেইল, যার প্রতিটিতে চিহ্নিত করা আছে সেটা স্প্যাম কি না।
  2. ২ট্রেনিং বা প্যাটার্ন খোঁজা: এরপর কম্পিউটার সেই উদাহরণগুলো বারবার দেখে প্যাটার্ন খোঁজে। হয়তো দেখে, স্প্যাম মেইলে কিছু নির্দিষ্ট শব্দ বেশি আসে, অচেনা ঠিকানা থেকে আসে, বা লিংক বেশি থাকে। এই শেখার প্রক্রিয়াকে বলে ট্রেনিং।
  3. ৩মডেল: ট্রেনিং শেষে যা তৈরি হয়, তার নাম মডেল। একে ভাবতে পারেন মেশিনের নিজের লেখা একটা নিয়মের খাতা হিসেবে, যদিও সেই নিয়মগুলো মানুষের ভাষায় না, সংখ্যার ভাষায় লেখা।
  4. ৪প্রেডিকশন বা অনুমান: এবার নতুন একটা মেইল এলে মডেল তার শেখা প্যাটার্নের সাথে মিলিয়ে অনুমান করে, এটা স্প্যাম হওয়ার সম্ভাবনা কতটা। সম্ভাবনা বেশি হলে মেইলটা স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যায়।
  5. ৫ফিডব্যাক: মডেল ভুল করলে, যেমন দরকারি কোনো মেইল স্প্যামে চলে গেলে, আপনি সেটাকে “স্প্যাম নয়” বলে চিহ্নিত করেন। এই সংশোধন থেকে মডেল আবার শেখে, আর সময়ের সাথে তার অনুমান ভালো হয়।

এখান থেকে একটা জরুরি কথা বোঝা যায়। এআই মানুষের মতো করে কিছু “বোঝে” না, সে প্যাটার্ন দেখে অনুমান করে। অনুমান ঠিক হলে মনে হয় মেশিনটা খুব বুদ্ধিমান। কিন্তু ডেটায় যা নেই, বা যা ভুলভাবে আছে, সেখানে এআই খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল উত্তরও দিতে পারে। ঝুঁকির অংশে এ কথায় আবার ফিরব।

এআই কত প্রকার

ক্ষমতার দিক থেকে এআই-কে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:

  • ন্যারো এআই (Narrow AI): একটা নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ এআই। স্প্যাম ধরা, মুখ চেনা, ভাষা অনুবাদ, কিংবা চ্যাটবটে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, প্রতিটিই একেকটা নির্দিষ্ট কাজ। আজ যত এআই আছে, সবই এই ধরনের। দাবা খেলার জন্য বানানো এআই শুধু দাবাই খেলে, একটা মেইল স্প্যাম কি না তা সে বলতে পারে না।
  • জেনারেল এআই (General AI বা AGI): এমন এআই, যা মানুষের মতো যেকোনো ধরনের কাজ শিখতে ও করতে পারবে। এ নিয়ে গবেষণা আর আলোচনা অনেক, কিন্তু এমন এআই এখনো তৈরি হয়নি।
  • সুপার এআই (Super AI): মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান এআই। এটা এখন পর্যন্ত শুধু তাত্ত্বিক ধারণা আর বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বিষয়।

জেনারেল এআই কবে আসবে, আদৌ আসবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও একমত নন। তাই কোনো লেখায় নির্দিষ্ট সাল ধরে ভবিষ্যদ্বাণী দেখলে সাবধানে পড়ুন। আপনি আজ যা ব্যবহার করছেন, তার সবই ন্যারো এআই।

মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং আর জেনারেটিভ এআই: পার্থক্য কী

এআই নিয়ে পড়তে গেলে কয়েকটা শব্দ বারবার আসে, আর অনেকে এগুলোকে একই জিনিস ভাবেন। আসলে এগুলো একটার ভেতরে আরেকটা, অনেকটা বড় বৃত্তের ভেতরে ছোট বৃত্তের মতো:

  • এআই (Artificial Intelligence): সবচেয়ে বড় বৃত্ত। মেশিনকে দিয়ে বুদ্ধির কাজ করানোর পুরো বিষয়টাই এআই, সেটা যে পদ্ধতিতেই হোক।
  • মেশিন লার্নিং (Machine Learning): এআই-এর ভেতরের সেই অংশ, যেখানে মেশিন ডেটা থেকে নিজে শেখে। উপরের স্প্যাম ফিল্টার মেশিন লার্নিং-এর উদাহরণ।
  • ডিপ লার্নিং (Deep Learning): মেশিন লার্নিং-এর একটা ধরন, যেখানে অনেক স্তরের নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার হয়। নিউরাল নেটওয়ার্কের ধারণা এসেছে মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের জাল থেকে। ছবি চেনা, কথা বোঝা আর অনুবাদের মতো জটিল কাজে এর ব্যবহার বেশি।
  • জেনারেটিভ এআই (Generative AI): এমন এআই, যা শুধু চেনে বা বাছাই করে না, নতুন কিছু তৈরি করে: লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও।
  • লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম (LLM): লেখার জন্য তৈরি জেনারেটিভ এআই। বিপুল পরিমাণ লেখা থেকে শিখে এটা অনুমান করে, আগের শব্দগুলোর পরে কোন শব্দ আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, আর এভাবে শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে উত্তর লেখে।

আজকের এলএলএমগুলো তৈরি ট্রান্সফরমার নামের একটা কাঠামোর উপর, যা গুগলের গবেষকরা ২০১৭ সালে “Attention Is All You Need” নামের একটা গবেষণাপত্রে প্রথম তুলে ধরেন। এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), এলএলএম দিয়ে তৈরি একটা চ্যাটবট, যা ওপেনএআই (OpenAI) প্রথম প্রকাশ করে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। চ্যাটজিপিটি কী আর কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে আলাদা একটা গাইড আছে: চ্যাটজিপিটি বাংলা গাইড।

দৈনন্দিন জীবনে এআই: যে উদাহরণগুলো আপনি রোজ দেখেন

এআই শুনলে অনেকে সিনেমার রোবটের কথা ভাবেন। বাস্তবে আপনার হাতের মোবাইলেই এআই সবচেয়ে বেশি কাজ করছে:

  • গুগল ম্যাপ: কোন রাস্তায় কতটা জ্যাম, গন্তব্যে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, আর কোন পথে গেলে তাড়াতাড়ি হবে, সেই হিসাব। ঢাকার জ্যামে বের হওয়ার আগে যারা ম্যাপ দেখে নেন, তারা প্রতিদিন এআই-এর অনুমান ব্যবহার করছেন।
  • ইউটিউব: একটা ভিডিও শেষ হলে পরেরটা কোনটা আসবে, হোম পেজে কী দেখাবে, তা ঠিক হয় আপনি আগে কী দেখেছেন আর কতক্ষণ দেখেছেন তার ভিত্তিতে।
  • ফেসবুক: নিউজ ফিডে কোন পোস্ট আগে আসবে, আর কোন বিজ্ঞাপন আপনাকে দেখানো হবে, দুটোই এআই-এর বাছাই। এজন্যই দুজন মানুষের ফিড সাধারণত এক রকম হয় না।
  • গুগল ট্রান্সলেট: বাংলা থেকে ইংরেজি বা ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ। অনুবাদ কাজ চালানোর মতো হলেও এখনো ভুল হয়, বিশেষ করে কথ্য ভাষা আর বাগধারায়, তাই দরকারি লেখা নিজে একবার পড়ে নিন।
  • ফোনের ফেস আনলক আর ক্যামেরা: মুখ চিনে ফোন খোলা, ছবি তোলার সময় মুখে ফোকাস করা, কম আলোয় তোলা ছবি উজ্জ্বল আর পরিষ্কার করা।
  • ইমেইলের স্প্যাম ফিল্টার: অপ্রয়োজনীয় আর প্রতারণামূলক মেইল আলাদা করে রাখা, যার কথা আগেই বলেছি।
  • চ্যাটজিপিটি আর এ ধরনের চ্যাটবট: প্রশ্ন করলে লিখে উত্তর দেয়, লেখা গুছিয়ে দেয়, অনুবাদ বা সারাংশ করে দেয়। একজন শিক্ষার্থী হয়তো পরীক্ষার আগে কঠিন কোনো ধারণা সহজ ভাষায় আবার বুঝে নিতে এটা ব্যবহার করে।

ব্যবসা আর মার্কেটিং-এ এআই-এর ব্যবহার

মার্কেটিং-এর কাজে এআই ব্যবহার করতে গিয়ে দেখেছি, এর সবচেয়ে বড় সুবিধা সময় বাঁচানো। যে কাজে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত, তার প্রথম খসড়া এখন অনেক তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। ব্যবসায় এর কয়েকটা বাস্তব ব্যবহার বলি।

কনটেন্ট আর বিজ্ঞাপনের লেখা: ধরুন ঢাকার একটা কাপড়ের দোকান ঈদের আগে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেবে। চ্যাটবটকে দোকানের পণ্য, দাম আর কাস্টমার কারা, তা জানিয়ে দিলে সে একই বিজ্ঞাপনের কয়েকটা আলাদা ভার্সন লিখে দিতে পারে। তারপর কোনটা ভালো কাজ করে, তা পরীক্ষা করে দেখা যায়। পোস্টের আইডিয়া, ক্যাপশন আর ইমেইলের খসড়াতেও এআই কাজে লাগে।

কাস্টমার সার্ভিস: চট্টগ্রামের একটা রেস্টুরেন্টের ফেসবুক পেজে রাতে মেসেঞ্জারে কেউ জানতে চাইল, আজ খোলা আছে কি না, মেনুতে কী আছে, হোম ডেলিভারি হয় কি না। এমন সাধারণ প্রশ্নের উত্তর একটা চ্যাটবট দিতে পারে, আর জটিল প্রশ্ন বা অভিযোগ রেস্টুরেন্টের কোনো মানুষের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারে।

কাস্টমার আর বিক্রির হিসাব বোঝা: কেনাকাটার তথ্য থেকে কোন ধরনের কাস্টমার বেশি কেনে, কোন সময়ে বিক্রি বাড়ে, কোন পণ্যের চাহিদা কমছে, এমন প্যাটার্ন খুঁজে পেতে এআই সাহায্য করে। পুরনো বিক্রির হিসাব থেকে সামনের মাসের বিক্রির একটা আন্দাজও দিতে পারে। আর লম্বা রিপোর্ট বা মিটিং নোটের সারাংশ করতে এটা বেশ কাজের।

তবে আমার অভিজ্ঞতায় একটা নিয়ম কখনো বদলায় না: এআই কাজের গতি বাড়ায়, কিন্তু মার্কেটিং-এর চিন্তাটা আপনাকেই করতে হয়। আপনার কাস্টমার কে, তার আসল চাহিদা কী, প্রতিযোগীদের থেকে আপনি কোথায় আলাদা, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভুল হলে এআই শুধু ভুল কথাটাই আরও দ্রুত আর সুন্দর করে লিখে দেবে। তাই মার্কেটিং-এর ভিতটা আগে শক্ত করুন। নতুন হলে শুরু করতে পারেন ডিজিটাল মার্কেটিং কি লেখাটি দিয়ে।

ব্যবসার মালিক বা ম্যানেজার হিসেবে আরও গভীরে যেতে চাইলে দুটো পেজ কাজে লাগবে, দুটোই ইংরেজিতে লেখা। মার্কেটিং টিমে এআই কোথায় কাজে আসে আর কোথায় আসে না, তা নিয়ে আছে এআই মার্কেটিং নিয়ে ইংরেজি গাইড। আর ব্যবসার বারবার করা কাজগুলো এআই দিয়ে অটোমেট করতে চাইলে দেখুন এআই অটোমেশন পেজটি।

এআই-এর সুবিধা কী কী

ঠিকভাবে ব্যবহার করলে এআই থেকে কয়েকটা স্পষ্ট সুবিধা পাওয়া যায়:

  • গতি: যে লেখা, হিসাব বা বিশ্লেষণে মানুষের কয়েক ঘণ্টা লাগে, এআই তার প্রথম খসড়া অনেক কম সময়ে দেয়।
  • একঘেয়ে কাজ কমানো: ডেটা সাজানো, একই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, কাগজ থেকে তথ্য তুলে আনা, এমন বারবার করা কাজ এআই-এর হাতে ছেড়ে দিয়ে মানুষ বেশি চিন্তার কাজে সময় দিতে পারে।
  • বড় ডেটা থেকে প্যাটার্ন: যেখানে তথ্য এত বেশি যে মানুষের পক্ষে পড়ে শেষ করা কঠিন, সেখান থেকেও এআই প্যাটার্ন খুঁজে বের করতে পারে।
  • ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট: চ্যাটবট রাত-দিন, ছুটির দিনেও কাস্টমারের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
  • শেখার সহায়ক: একজন শিক্ষার্থী কঠিন কোনো বিষয় নিজের মতো করে, বারবার, নানা উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করিয়ে নিতে পারে।

এআই-এর ঝুঁকি আর সীমাবদ্ধতা

সুবিধার পাশাপাশি এআই-এর কয়েকটা ঝুঁকি আছে, যা ব্যবসার মালিক থেকে শিক্ষার্থী, সবার জানা দরকার:

  • বানিয়ে বলা বা হ্যালুসিনেশন: চ্যাটবট কখনো কখনো এমন তথ্য, সংখ্যা বা রেফারেন্স বানিয়ে বলে যা আসলে নেই, আর বলে পুরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবসময় নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মিলিয়ে নিন।
  • ডেটার পক্ষপাত বা বায়াস: এআই শেখে ডেটা থেকে। ডেটায় কোনো গোষ্ঠীর উপস্থিতি কম থাকলে, বা সমাজের পুরনো কোনো পক্ষপাত থাকলে, এআই-এর সিদ্ধান্তেও সেটা চলে আসতে পারে।
  • প্রাইভেসি: কাস্টমারের ফোন নম্বর, ঠিকানা বা লেনদেনের তথ্য, নিজের পাসওয়ার্ড, অফিসের গোপন কাগজ, এসব কখনো চ্যাটবটে দেবেন না। আপনি যা লেখেন, তা কোথায় রাখা হয় আর কীভাবে ব্যবহার হয়, সেটা সবসময় আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
  • ডিপফেক আর প্রতারণা: এআই দিয়ে এখন আসল মানুষের চেহারা আর গলা নকল করে ভিডিও আর ভয়েস বানানো যায়। পরিচিত কারও ভিডিও বা ভয়েস মেসেজে টাকা চাওয়া হলে, আগে অন্য উপায়ে তার সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হোন।
  • কপিরাইটের প্রশ্ন: এআই-এর বানানো লেখা বা ছবির মালিক কে, আর এআই-কে শেখাতে অন্যের লেখা বা ছবি ব্যবহার করা ঠিক কি না, এসব প্রশ্নের এখনো পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি। ব্যবসার প্রচারে এআই-এর বানানো ছবি বা লেখা ব্যবহারের আগে সাবধান থাকুন।
  • চাকরির ধরন বদলানো: কিছু কাজ এআই আগের চেয়ে দ্রুত করে ফেলে, তাই অনেক পেশায় কাজের ধরন বদলাচ্ছে। এখানে পুরো পেশা হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে বেশি হচ্ছে পেশার ভেতরের কাজগুলো বদলে যাওয়া। যারা এআই ভালোভাবে ব্যবহার করতে শিখছেন, তারা একই সময়ে বেশি কাজ করতে পারছেন, আর সেটাই তাদের এগিয়ে রাখছে।

এআই শিখতে চাইলে কোথা থেকে শুরু করবেন

প্রথমেই একটা ভুল ধারণা দূর করি: এআই ব্যবহার করতে শিখতে কোডিং জানা লাগে না। পাইথন প্রোগ্রামিং আর গণিত লাগে তখন, যখন আপনি নিজে এআই মডেল বানাতে বা এ নিয়ে গবেষণা করতে চান। আমাদের বেশিরভাগের দরকার এআই দিয়ে নিজের কাজটা আরও ভালো করা, আর তার জন্য এই ধাপগুলো যথেষ্ট:

  1. ১একটা চ্যাটবট দিয়ে প্রতিদিনের একটা কাজ করে দেখুন। একটা ইমেইলের খসড়া, একটা লম্বা লেখার সারাংশ, বা কোনো কঠিন বিষয়ের সহজ ব্যাখ্যা। ছোট কাজ দিয়ে শুরু করলে বোঝা যায় এআই কোথায় ভালো আর কোথায় দুর্বল।
  2. ২প্রম্পট লেখা শিখুন। এআই-কে যত পরিষ্কার করে বলবেন, উত্তর তত কাজের হবে। তিনটা জিনিস সবসময় বলুন: আপনি কী চান, কার জন্য চান, আর কোন ফরম্যাটে চান। যেমন “ব্যবসা নিয়ে কিছু লেখো” না বলে বলুন, “চট্টগ্রামের একটা পারিবারিক রেস্টুরেন্টের জন্য শুক্রবার দুপুরের খাবারের অফার নিয়ে ফেসবুকে তিনটা ছোট পোস্ট লেখো, সহজ বাংলায়।”
  3. ৩নিজের পেশা বা পড়াশোনার সাথে মিলিয়ে নিন। এআই আলাদা কোনো দক্ষতা না, আপনার আসল দক্ষতার কাজ দ্রুত করার একটা হাতিয়ার। মার্কেটিং-এ আগ্রহ থাকলে আগে মার্কেটিং-এর মূল বিষয়গুলো শিখুন, তারপর প্রতিটি কাজে এআই কীভাবে সাহায্য করতে পারে তা দেখুন। এর জন্য ফ্রি বাংলা কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস দিয়ে শুরু করতে পারেন: কোর্সের ভিডিওগুলো ফ্রিতে দেখা যায়, শুধু সার্টিফিকেট নিতে চাইলে টাকা লাগে। পড়ে শিখতে পছন্দ করলে আছে বই গোড়া থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং।
  4. ৪ফলাফল সবসময় যাচাই করুন। এআই-এর দেওয়া তথ্য, সংখ্যা, নাম আর তারিখ নির্ভরযোগ্য উৎসে মিলিয়ে দেখুন। কোনো লেখা ব্যবহারের আগে নিজে পড়ে দেখুন, আপনার কথার সুর আর আপনার ব্র্যান্ডের সাথে মিলছে কি না।
  5. ৫প্রোগ্রামিং-এ আগ্রহ থাকলে পরের ধাপে যান। নিজে এআই বানাতে চাইলে পাইথন, পরিসংখ্যান আর মেশিন লার্নিং-এর বেসিক দিয়ে শুরু করতে হয়। পথটা লম্বা, কিন্তু আগে এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থাকলে বুঝতে সুবিধা হয় আপনি আসলে কোন সমস্যার সমাধান বানাতে চান।

এআই-এর বাংলা গ্লসারি: ২০টির বেশি দরকারি শব্দ

এআই নিয়ে পড়তে বা কথা বলতে গেলে এই শব্দগুলো বারবার আসবে। প্রথমে বাংলায় প্রচলিত নাম, বন্ধনীতে ইংরেজি শব্দ, তারপর সহজ ব্যাখ্যা:

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence, AI): মেশিনকে এমনভাবে তৈরি করার বিজ্ঞান, যাতে সে শেখা, বোঝা, সিদ্ধান্ত নেওয়া আর ভাষা ব্যবহারের মতো বুদ্ধির কাজ করতে পারে।
  • মেশিন লার্নিং (Machine Learning): এআই-এর সেই পদ্ধতি, যেখানে মেশিন প্রোগ্রামারের লেখা নিয়মের বদলে ডেটা থেকে নিজে নিয়ম শেখে।
  • ডিপ লার্নিং (Deep Learning): অনেক স্তরের নিউরাল নেটওয়ার্ক দিয়ে মেশিন লার্নিং। ছবি, কথা আর ভাষার মতো জটিল ডেটায় এর ব্যবহার বেশি।
  • নিউরাল নেটওয়ার্ক (Neural Network): মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের জাল থেকে অনুপ্রাণিত একটা গাণিতিক কাঠামো, যেখানে অনেকগুলো ছোট হিসাবের একক স্তরে স্তরে সাজানো থাকে।
  • অ্যালগরিদম (Algorithm): কোনো কাজ বা সমস্যা সমাধানের ধাপে ধাপে লেখা নির্দেশনা। অনেকটা রান্নার রেসিপির মতো, তবে কম্পিউটারের জন্য।
  • ডেটাসেট (Dataset): এআই-কে শেখানোর জন্য জোগাড় করা উদাহরণের সংগ্রহ, যেমন অনেকগুলো ছবি, লেখা বা কেনাকাটার রেকর্ড।
  • ট্রেনিং (Training): ডেটাসেট দেখিয়ে মডেলকে প্যাটার্ন শেখানোর প্রক্রিয়া।
  • মডেল (Model): ট্রেনিং শেষে তৈরি হওয়া ফলাফল, যা নতুন ইনপুট পেলে উত্তর বা অনুমান দেয়।
  • প্রেডিকশন (Prediction): নতুন তথ্য দেখে মডেলের দেওয়া অনুমান, যেমন একটা মেইল স্প্যাম কি না।
  • জেনারেটিভ এআই (Generative AI): যে এআই নতুন লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও তৈরি করতে পারে।
  • লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (Large Language Model, LLM): বিপুল পরিমাণ লেখা থেকে শেখা জেনারেটিভ এআই, যা মানুষের ভাষায় লিখতে আর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
  • চ্যাটবট (Chatbot): যে প্রোগ্রামের সাথে চ্যাটের মতো করে লিখে বা বলে কথা বলা যায়। চ্যাটজিপিটি একটা চ্যাটবট।
  • প্রম্পট (Prompt): এআই-কে লিখে দেওয়া নির্দেশ বা প্রশ্ন।
  • প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং (Prompt Engineering): কাজের উত্তর পেতে প্রম্পট পরিষ্কার আর গুছিয়ে লেখার দক্ষতা।
  • টোকেন (Token): লেখার যে ছোট ছোট টুকরো ধরে এলএলএম পড়ে আর লেখে। একটা টোকেন পুরো শব্দ, শব্দের অংশ বা একটা চিহ্নও হতে পারে।
  • ট্রান্সফরমার (Transformer): ২০১৭ সালে গুগলের গবেষকদের প্রকাশ করা একটা মডেল কাঠামো, আজকের এলএলএমগুলো যার উপর তৈরি।
  • ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (Natural Language Processing, NLP): মানুষের ভাষা বোঝা, অনুবাদ আর লেখার কাজে এআই-এর শাখা।
  • কম্পিউটার ভিশন (Computer Vision): ছবি আর ভিডিও দেখে বস্তু, মুখ বা লেখা চেনার কাজে এআই-এর শাখা।
  • হ্যালুসিনেশন (Hallucination): এআই যখন বানানো বা ভুল তথ্য সত্যের মতো আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলে।
  • বায়াস (Bias): ডেটার পক্ষপাত থেকে এআই-এর সিদ্ধান্তে চলে আসা একপেশে ভাব।
  • ন্যারো এআই (Narrow AI): একটা নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ এআই। আজকের সব এআই এই ধরনের।
  • জেনারেল এআই (Artificial General Intelligence, AGI): মানুষের মতো যেকোনো কাজ শিখতে পারা এআই, যা এখনো তৈরি হয়নি।
  • টুরিং টেস্ট (Turing Test): ১৯৫০ সালে অ্যালান টুরিং-এর প্রস্তাব করা পরীক্ষা। কথোপকথন শুনে একজন বিচারক যদি মেশিন আর মানুষকে আলাদা করতে না পারেন, তাহলে মেশিনটি পরীক্ষায় উতরে গেছে বলে ধরা হয়।
  • এআই এজেন্ট (AI Agent): যে এআই শুধু উত্তর দেয় না, একটা লক্ষ্য পেলে নিজে ধাপ ঠিক করে কাজও করে, যেমন ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য জোগাড় করা বা একটা ফর্ম পূরণ করা।

এআই নিয়ে প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে

এআই এর পূর্ণরূপ কী?
এআই বা AI-এর পূর্ণরূপ Artificial Intelligence, বাংলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম মানে মানুষের তৈরি, আর বুদ্ধিমত্তা মানে শেখা, বোঝা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা। অর্থাৎ মানুষের তৈরি এমন ব্যবস্থা, যা বুদ্ধির কিছু কাজ করতে পারে।
এআই এর জনক কে?
আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী জন ম্যাকার্থিকে এআই-এর জনক বলা হয়। ১৯৫৫ সালে ডার্টমাউথ ওয়ার্কশপের প্রস্তাবে প্রথম artificial intelligence কথাটি ব্যবহার করেন তিনি, আর ১৯৫৬ সালের সেই ওয়ার্কশপ থেকে এআই আলাদা গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে। ১৯৫০ সালের প্রবন্ধের জন্য অ্যালান টুরিংকেও এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ধরা হয়।
AI ki, ar eta ki amar chakri kheye nibe?
এআই হলো এমন প্রযুক্তি, যা ডেটা থেকে শিখে মানুষের মতো কিছু বুদ্ধির কাজ করতে পারে। আপনার কাজের কিছু অংশ, যেমন খসড়া লেখা, সারাংশ করা বা একই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, এআই দ্রুত করে দিতে পারে। কিন্তু কী করতে হবে, কার জন্য, আর ফলাফল ঠিক কি না, সেই বিচার এখনো মানুষকেই করতে হয়। তাই ভয় না পেয়ে নিজের কাজে এআই ব্যবহার শেখাই ভালো পথ।
এআই আর মেশিন লার্নিং কি একই জিনিস?
না। এআই হলো বড় বিষয়, মেশিনকে দিয়ে বুদ্ধির কাজ করানোর পুরো ক্ষেত্র। মেশিন লার্নিং তার ভেতরের একটা পদ্ধতি, যেখানে মেশিন ডেটা থেকে নিজে শেখে। তাই সব মেশিন লার্নিং এআই-এর অংশ, কিন্তু সব এআই মেশিন লার্নিং না।
এআই দিয়ে কী কী কাজ করা যায়?
প্রতিদিনের কাজে এআই দিয়ে লেখা, ইমেইল বা বিজ্ঞাপনের খসড়া তৈরি, লম্বা লেখার সারাংশ, বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ, ছবি বা অডিও তৈরি, কাস্টমারের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আর বিক্রির হিসাব থেকে প্যাটার্ন খোঁজার কাজ করা যায়। মোবাইলে ম্যাপের রাস্তা বাছাই, ফেস আনলক আর স্প্যাম ফিল্টারও এআই-এর কাজ। ফলাফল ব্যবহারের আগে নিজে একবার যাচাই করে নিন।
এআই শিখতে কি প্রোগ্রামিং জানতে হয়?
এআই ব্যবহার করতে শিখতে প্রোগ্রামিং লাগে না। চ্যাটবটে পরিষ্কার প্রম্পট লেখা আর ফলাফল যাচাই করা শিখলেই শুরু করা যায়। তবে নিজে এআই মডেল বানাতে বা এআই নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে পাইথন প্রোগ্রামিং, পরিসংখ্যান আর গণিত শিখতে হবে।
এআই কি সবসময় সঠিক উত্তর দেয়?
না। এআই প্যাটার্ন দেখে অনুমান করে, তাই কখনো কখনো ভুল তথ্য, ভুল সংখ্যা বা বানানো রেফারেন্স খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে। একে হ্যালুসিনেশন বলে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিশেষ করে নাম, তারিখ, সংখ্যা আর আইন বা স্বাস্থ্যের বিষয়, সবসময় নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মিলিয়ে নিন।