চ্যাটজিপিটি কি? ব্যবহারের নিয়ম ও বাংলা প্রম্পটের উদাহরণ
চ্যাটজিপিটি কী, কে বানিয়েছে, ফোন আর কম্পিউটারে কীভাবে খুলবেন, বাংলায় ভালো প্রম্পট লেখার নিয়ম আর সাবধান থাকার জায়গাগুলো, এক লেখায়।
· পড়তে ১৫ মিনিট · নাজমুল আহমেদ
চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) হলো OpenAI-এর তৈরি একটি এআই চ্যাটবট। সাধারণ ভাষায় প্রশ্ন বা নির্দেশ লিখলে সে লিখে উত্তর দেয়। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর এটি সবার জন্য চালু হয়। বাংলায় লিখলে বাংলাতেই উত্তর দিতে পারে, তাই লেখালেখি, অনুবাদ, পড়াশোনা আর ব্যবসার নানা কাজে এটা একজন সহকারীর মতো সাহায্য করে। তবে এর উত্তর মাঝে মাঝে ভুল হয়, তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবসময় যাচাই করে নিতে হয়।
চ্যাটজিপিটি নিয়ে প্রশ্নটা মানুষ নানাভাবে লেখেন। কেউ গুগলে বাংলায় লেখেন “চ্যাটজিপিটি কি”, কেউ ইংরেজি হরফ মিশিয়ে “chatgpt কি”, কেউ শুধু “chatgpt bangla”। প্রশ্নের পেছনের চাওয়াটা প্রায় সবার এক: জিনিসটা আসলে কী, আর নিজের কাজে এটা কীভাবে লাগানো যায়।
বাংলায় এ নিয়ে যা লেখা পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগ থেমে যায় একটা সংজ্ঞা বা ফিচারের তালিকায়। কী কী করা যায় তা জানা গেল, কিন্তু প্রথম দিন বসে ঠিক কী লিখবেন, সেটা পরিষ্কার হয় না। সেই ফাঁকটাই এই লেখায় ভরানোর চেষ্টা করেছি। এখানে এমন প্রম্পট পাবেন যা একজন শিক্ষার্থী, একজন দোকানের মালিক আর একজন মার্কেটার আজই কপি করে কাজে লাগাতে পারেন।
গত ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে আমি মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছি, মার্কেটিং টিম গড়েছি আর নেতৃত্ব দিয়েছি। নতুন যেকোনো টুল নিয়ে আমার পরামর্শ একটাই, তিন ধাপে: আগে বুঝুন জিনিসটা কী আর কী না, তারপর হাতে-কলমে ব্যবহার করুন, আর শুরু থেকেই জেনে রাখুন কোথায় থামতে হবে। এই লেখাও সেভাবে সাজানো: চ্যাটজিপিটি কী আর কে বানিয়েছে, ফোন ও কম্পিউটারে কীভাবে খুলবেন, এটা বাংলা বোঝে কি না, ভালো প্রম্পট লেখার নিয়ম আর দশটা কাজের প্রম্পট, এর সীমাবদ্ধতা, আর মার্কেটিং-এর কাজে এটা কোথায় সত্যিই কাজে লাগে।
চ্যাটজিপিটি কী
চ্যাটজিপিটি হলো OpenAI নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এআই চ্যাটবট। চ্যাটবট মানে এমন একটা প্রোগ্রাম, যার সাথে লিখে লিখে কথা বলা যায়। আপনি সাধারণ ভাষায় একটা প্রশ্ন বা নির্দেশ লেখেন, যেমন “আমার দোকানের জন্য একটা ছোট পরিচিতি লিখে দাও”, আর সে লিখে উত্তর দেয়। উত্তর পছন্দ না হলে পরের মেসেজে বলতে পারেন “আরেকটু ছোট করো” বা “আরও সহজ ভাষায় লেখো”, আর আগের কথাগুলো মাথায় রেখেই সে উত্তরটা বদলে দেয়। এই চলমান কথোপকথনই চ্যাটজিপিটির মূল বৈশিষ্ট্য।
নামের জিপিটি অংশটা এসেছে Generative Pre-trained Transformer থেকে। সহজ বাংলায় বললে, বিপুল পরিমাণ লেখা থেকে এটা আগেই ভাষার ধরন শিখে নিয়েছে (Pre-trained), সেই শেখা থেকে নতুন লেখা তৈরি করে (Generative), আর Transformer হলো এর পেছনের প্রযুক্তির নাম। কাজের সময় এটা আসলে বারবার একটাই কাজ করে: এ পর্যন্ত যা লেখা হয়েছে, তার পরে সবচেয়ে মানানসই শব্দটা কী হতে পারে, সেটা আন্দাজ করে লিখে যায়। এভাবে শব্দের পর শব্দ জুড়ে পুরো উত্তর তৈরি হয়।
এখান থেকেই একটা জরুরি কথা বোঝা যায়। চ্যাটজিপিটি মূলত সার্চ ইঞ্জিন না, মানুষও না। গুগলে কিছু খুঁজলে গুগল আপনাকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তালিকা দেখায়, আর উৎসটা আপনি নিজে দেখে বিচার করতে পারেন। চ্যাটজিপিটির মূল কাজ নিজে উত্তর তৈরি করা; দরকার মনে করলে বা আপনি বললে এটা এখন ওয়েবে খুঁজেও দেখতে পারে, তবে কোন উত্তরটা খুঁজে আনা আর কোনটা নিজে বানানো, তা সবসময় স্পষ্ট থাকে না। সেজন্য এর উত্তর খুব আত্মবিশ্বাসী শোনাতে পারে, অথচ ভুলও হতে পারে। সীমাবদ্ধতার অংশে এটা নিয়ে বিস্তারিত বলছি।
চ্যাটজিপিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর একটা প্রয়োগ মাত্র। এআই জিনিসটা আসলে কী আর কোথায় কোথায় ব্যবহার হয়, সেই বড় ছবিটা দেখতে পড়ুন এআই কি।
চ্যাটজিপিটি কে বানিয়েছে, কবে এল
চ্যাটজিপিটি বানিয়েছে OpenAI, যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক একটি এআই প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। যারা একসাথে এটা শুরু করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন স্যাম অল্টম্যান, ইলন মাস্ক, গ্রেগ ব্রকম্যান, ইলিয়া সুতস্কেভারসহ আরও কয়েকজন।
তাই “চ্যাটজিপিটির প্রতিষ্ঠাতা কে” প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো, চ্যাটজিপিটির একক কোনো প্রতিষ্ঠাতা নেই। এটা একটা প্রতিষ্ঠানের পণ্য, আর এটা বানিয়েছে অনেক মানুষের একটা দল। মানুষ সাধারণত এই প্রশ্নে OpenAI-এর প্রতিষ্ঠাতাদের কথাই জানতে চান। তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ স্যাম অল্টম্যান, যিনি OpenAI-এর প্রধান নির্বাহী। অনেক লেখায় শুধু একজন বা দুজনকে প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়, সেটা পুরো ছবি না।
চ্যাটজিপিটি সবার ব্যবহারের জন্য চালু হয় ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। কিছু লেখায় অন্য তারিখ বা অন্য বছর চোখে পড়তে পারে, কিন্তু নির্ভরযোগ্য উৎসে চালুর তারিখ এটাই। তারপর থেকে এর ভেতরের প্রযুক্তি কয়েকবার বদলেছে, নতুন সুবিধা যোগ হয়েছে, আর সেই বদল এখনো চলছে। এজন্যই এই লেখায় কোনো নির্দিষ্ট মডেলের নাম বা প্ল্যানের দাম লিখছি না; সেগুলো দ্রুত পুরনো হয়ে যায়।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের নিয়ম: কম্পিউটারে ধাপে ধাপে
চ্যাটজিপিটি দুইভাবে ব্যবহার করা যায়: কম্পিউটারের ব্রাউজারে, আর অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনে OpenAI-এর অফিশিয়াল অ্যাপে। ফ্রিতে ব্যবহারের সুযোগ আছে, আবার টাকা দিয়ে বাড়তি সুবিধার প্ল্যানও আছে। শুরু করার জন্য ফ্রি ব্যবহারই যথেষ্ট। “চ্যাটজিপিটি কীভাবে ব্যবহার করব” প্রশ্নের সবচেয়ে ছোট উত্তর: ওয়েবসাইটে যান, ঢুকুন, লিখুন। কম্পিউটারে শুরু করার ধাপগুলো এরকম:
- ১যেকোনো ব্রাউজার খুলে অ্যাড্রেস বারে chatgpt.com লিখে এন্টার চাপুন।
- ২স্ক্রিনে সরাসরি মেসেজ বক্স দেখালে অ্যাকাউন্ট না খুলেও কিছুটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে চ্যাটগুলো জমা রাখতে আর ফোনে একই চ্যাট দেখতে অ্যাকাউন্ট লাগে, তাই অ্যাকাউন্ট খোলার অপশনে যান। ইমেইল ঠিকানা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। স্ক্রিনে অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট দিয়ে ঢোকার অপশন থাকলে সেটা দিয়েও ঢুকতে পারেন।
- ৩ইমেইল দিয়ে খুললে আপনার ইনবক্সে একটা ভেরিফিকেশন মেইল বা কোড যাবে। সেটা দিয়ে ইমেইলটা ভেরিফাই করুন, তারপর স্ক্রিনে যা জানতে চায় তা পূরণ করুন।
- ৪ঢোকার পর একটা ফাঁকা চ্যাট স্ক্রিন আসবে। নিচের মেসেজ বক্সে আপনার প্রশ্ন বা নির্দেশ লিখে এন্টার চাপুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উত্তর লেখা শুরু হবে।
- ৫প্রথম প্রশ্ন হিসেবে সহজ কিছু দিয়ে শুরু করুন, যেমন “আমাকে সহজ বাংলায় বলো, তোমাকে দিয়ে কী কী কাজ করানো যায়”। উত্তর দেখে পরের প্রশ্ন করুন, ঠিক যেভাবে কারও সাথে কথা বলেন।
ফোনে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করবেন যেভাবে
অনেকের কাছে কম্পিউটারের চেয়ে ফোনটাই বেশি হাতের কাছে থাকে, তাই অ্যাপটা বেশ সুবিধাজনক। ধাপগুলো সহজ:
- ১অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল প্লে স্টোর, আইফোনে অ্যাপ স্টোর খুলে ChatGPT লিখে সার্চ করুন।
- ২ইনস্টল করার আগে দেখে নিন অ্যাপটির প্রকাশক বা ডেভেলপার হিসেবে OpenAI লেখা আছে কি না। একই রকম নাম আর লোগোর নকল অ্যাপ থাকতে পারে, যেগুলো বিজ্ঞাপন দেখায়, টাকা চায় বা আপনার তথ্য নিতে পারে। এই একটা জিনিস যাচাই করলেই বড় ঝামেলা এড়ানো যায়।
- ৩অ্যাপ খুলে কম্পিউটারে যে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন, সেটা দিয়েই ঢুকুন। তাহলে কম্পিউটারের পুরনো চ্যাটগুলো ফোনেও দেখতে পাবেন, আর ফোনে শুরু করা কথা কম্পিউটারে গিয়ে চালিয়ে যেতে পারবেন। আগে অ্যাকাউন্ট না থাকলে অ্যাপ থেকেই নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
- ৪টাইপ করতে কষ্ট হলে ফোনের কিবোর্ডের ভয়েস টাইপিং দিয়ে বাংলায় বলে লিখিয়ে নিতে পারেন। পাঠানোর আগে লেখাটা একবার পড়ে নিন, কারণ ভয়েস টাইপিং মাঝে মাঝে ভুল শব্দ লিখে ফেলে।
প্রথম দিন থেকেই যে কৌশলগুলো কাজে লাগবে
- নতুন বিষয়ের জন্য নতুন চ্যাট শুরু করুন। একই চ্যাটে পড়ার রুটিন আর দোকানের পোস্ট মিশিয়ে ফেললে সে আগের প্রসঙ্গ টেনে এনে উত্তর গুলিয়ে ফেলতে পারে।
- নিজের মেসেজ এডিট করা যায়। প্রশ্নটা ঠিকমতো লেখা হয়নি মনে হলে নতুন করে না লিখে আগেরটাই ঠিক করে আবার পাঠান।
- একই প্রশ্নের নতুন উত্তর চাওয়া যায়। প্রথম উত্তর পছন্দ না হলে উত্তরটা আবার তৈরি করতে বলুন, অথবা সোজা লিখুন “অন্যভাবে লেখো”।
- পুরনো চ্যাটগুলো পাশের তালিকা বা মেনুতে জমা থাকে। কাজের কোনো চ্যাট পরে আবার লাগবে মনে হলে সেখান থেকে খুলে একই কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারেন।
- উত্তর ভালো লাগলেও সরাসরি কপি করে ব্যবহার করবেন না। আগে নিজে পড়ুন, দরকার হলে নিজের ভাষায় একটু বদলে নিন।
বাটন আর মেনুর নাম ও জায়গা সময়ের সাথে বদলায়, তাই এখানে কোনো নির্দিষ্ট বাটনের নাম লিখিনি। কাজগুলো একই থাকে: লেখা, পাঠানো, দরকার হলে ঠিক করা, আর নতুন বিষয়ে নতুন চ্যাট।
চ্যাটজিপিটি কি বাংলা বোঝে
হ্যাঁ, বোঝে। বাংলায় প্রশ্ন লিখলে চ্যাটজিপিটি সাধারণত বাংলাতেই উত্তর দেয়। চ্যাটজিপিটির ওয়েবসাইটের একটা বাংলাদেশ-বাংলা ভার্সনও আছে, তাই বোঝা যায় বাংলাভাষী ব্যবহারকারীদের কথাও OpenAI-এর মাথায় আছে।
তবে ব্যবহার করতে গিয়ে কয়েকটা জিনিস চোখে পড়বে, আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। এর বাংলা মাঝে মাঝে বইয়ের ভাষার মতো শক্ত আর আড়ষ্ট শোনায়, আমরা যেভাবে কথা বলি সেভাবে না। বানান বা শব্দ বাছাইয়ে ভুল হতে পারে, কখনো ইংরেজি বাক্যের আক্ষরিক অনুবাদ চলে আসে যা বাংলায় অদ্ভুত শোনায়। আর প্রযুক্তিগত বা বিশেষায়িত বিষয়ে এর ইংরেজি উত্তর অনেক সময় বাংলার চেয়ে বেশি গোছানো হয়।
এর সমাধানও সহজ। প্রথমত, কেমন ভাষা চান তা বলে দিন: “চলিত ভাষায় লেখো”, “সহজ কথ্য বাংলায় বলো”, বা “ঢাকার তরুণ কাস্টমাররা যেভাবে কথা বলে সেভাবে লেখো”। দ্বিতীয়ত, কঠিন বিষয়ে প্রশ্নটা ইংরেজিতে করে শেষে লিখে দিতে পারেন “উত্তরটা সহজ বাংলায় দাও”। তৃতীয়ত, ইংরেজি হরফে লেখা বাংলা, মানে বাংলিশ লিখলেও সে সাধারণত বুঝে নেয়, তাই ফোনে বাংলা কিবোর্ড না থাকলেও আটকে যাবেন না।
একটা নিয়ম কখনো ভাঙবেন না: চ্যাটজিপিটির লেখা বাংলা কোনো কাস্টমার, শিক্ষক বা অফিসের কারও কাছে পাঠানোর আগে নিজে পুরোটা পড়ে নিন। একটা ভুল বানান বা বেমানান শব্দ পুরো লেখার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে দিতে পারে।
ভালো প্রম্পট লেখার নিয়ম
চ্যাটজিপিটিকে আপনি যে প্রশ্ন বা নির্দেশ লেখেন, তাকেই প্রম্পট বলে। উত্তর কতটা কাজের হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে প্রম্পট কতটা পরিষ্কার তার উপর। একজন নতুন সহকর্মীকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার মতো করে ভাবুন: যত পরিষ্কার করে বলবেন, কাজ তত ঠিক হবে। ভালো প্রম্পটে সাধারণত এই পাঁচটা জিনিস থাকে:
- ১একটা ভূমিকা ঠিক করে দিন। সে কার মতো করে ভাববে, সেটা বলে দিন: “তুমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক”, “তুমি একজন কপিরাইটার”, বা “তুমি একজন কাস্টমার সার্ভিস অফিসার”। ভূমিকা ঠিক করে দিলে উত্তরের ভঙ্গি আর গভীরতা বদলে যায়।
- ২প্রসঙ্গ দিন। আপনি কে, কাজটা কার জন্য, পাঠক কারা। “আমি চট্টগ্রামের একটা রেস্টুরেন্টের মালিক, আমার কাস্টমাররা মূলত আশপাশের অফিসের কর্মী”, এই একটা বাক্যই উত্তরকে সাধারণ থেকে নির্দিষ্ট করে দেয়।
- ৩কাজটা পরিষ্কার করে বলুন। “কিছু লিখে দাও” না বলে বলুন ঠিক কী চান: একটা ফেসবুক পোস্ট, তিনটা হেডলাইন, একটা ইমেইলের উত্তর, নাকি একটা টেবিল।
- ৪ফরম্যাট বলে দিন। কত শব্দের মধ্যে, বুলেট পয়েন্টে না প্যারাগ্রাফে, টেবিল আকারে কি না, আর ভাষার সুর কেমন হবে: আনুষ্ঠানিক, বন্ধুত্বপূর্ণ, নাকি হালকা মজার।
- ৫উদাহরণ দিন, যদি থাকে। আপনার আগের কোনো পোস্ট যেটা ভালো চলেছিল, বা যে ধরনের লেখা আপনার পছন্দ, সেটা দেখিয়ে বলুন “এই ধাঁচে লেখো”। উদাহরণ পেলে সে আপনার লেখার ধরনটা অনেক ভালো ধরতে পারে।
আর মনে রাখুন, প্রথম উত্তরটা খসড়া, শেষ কথা না। উত্তর পেয়ে বলুন “অর্ধেক ছোট করো”, “আরও স্থানীয় উদাহরণ দাও”, “সুরটা আরেকটু বন্ধুত্বপূর্ণ করো”, বা “তিনটা আলাদা ভার্সন দাও”। দু-তিনবার এভাবে ঠিক করালে যে লেখা পাবেন, তা প্রথমবারের চেয়ে অনেক ভালো হয়।
একটা ছোট উদাহরণ: দুর্বল প্রম্পট আর ভালো প্রম্পট
দুর্বল প্রম্পট: “ফেসবুক পোস্ট লিখে দাও।” এতে চ্যাটজিপিটি জানে না পোস্টটা কীসের, কার জন্য, কত বড়। ফলে সে একটা সাধারণ লেখা দেবে যা যেকোনো ব্যবসায় খাটে, আর পড়ে কারও কিছু মনে থাকবে না।
ভালো প্রম্পট: “তুমি একজন কপিরাইটার। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে আমার একটা রেস্টুরেন্ট আছে। দুপুরে অফিসের কর্মীদের জন্য নতুন লাঞ্চ প্যাকেজ চালু করছি। তাদের জন্য একটা ফেসবুক পোস্ট লেখো, কথ্য বাংলায়, ৬০ শব্দের মধ্যে, শেষে ফোনে অর্ডার করার কথা বলো। দাম বা ছাড়ের কোনো তথ্য নিজে থেকে বানিয়ে লিখবে না।” কাজ একই, কিন্তু এবার উত্তরটা আপনার ব্যবসার কথা বলবে।
ভালো প্রম্পটের শেষ লাইনটা খেয়াল করুন। দাম, ছাড় বা অফারের তথ্য না দিলে চ্যাটজিপিটি অনেক সময় নিজের মতো একটা সংখ্যা বসিয়ে দেয়, যা দেখতে বিশ্বাসযোগ্য কিন্তু আপনার দোকানের সাথে মেলে না। এই এক লাইন অনেক বিব্রতকর ভুল আটকায়।
কাজে লাগানোর মতো ১০টি বাংলা প্রম্পট
নিচের প্রম্পটগুলো কপি করুন, ব্র্যাকেটের ভেতরের অংশ নিজের তথ্য দিয়ে বদলান, তারপর চ্যাটজিপিটিতে পাঠান। প্রথম তিনটা শিক্ষার্থীদের জন্য, পরের চারটা ছোট ব্যবসার মালিকদের জন্য, আর শেষ তিনটা মার্কেটারদের জন্য।
- ১শিক্ষার্থী, পড়ার রুটিন: “আমার এইচএসসি পরীক্ষা [৩ মাস] পরে। আমি [পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়নে] দুর্বল, বাকি বিষয়ে মোটামুটি ভালো। প্রতিদিন [৪ ঘণ্টা] পড়তে পারি। আমার জন্য সপ্তাহভিত্তিক একটা পড়ার রুটিন টেবিল আকারে বানাও, যেখানে দুর্বল বিষয়ে বেশি সময় থাকবে আর প্রতি সপ্তাহের শেষে রিভিশনের সময় থাকবে।”
- ২শিক্ষার্থী, কঠিন বিষয় বোঝা: “[সালোকসংশ্লেষণ] বিষয়টা ক্লাস এইটের একজন ছাত্রকে বোঝানোর মতো করে সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করো। দৈনন্দিন জীবনের একটা উদাহরণ দাও। শেষে ৫টি প্রশ্ন দিয়ে আমার পরীক্ষা নাও, একটা একটা করে, আর আমার উত্তর ভুল হলে কোথায় ভুল তা বুঝিয়ে দাও।”
- ৩শিক্ষার্থী, চাকরি বা ইন্টার্নশিপের ইমেইল: “[একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে মার্কেটিং ইন্টার্নশিপের] জন্য আবেদন করতে একটা আনুষ্ঠানিক ইংরেজি ইমেইল লেখো। আমি [বিবিএ তৃতীয় বর্ষের] শিক্ষার্থী, [কলেজের ক্লাবে ইভেন্ট আয়োজনের] অভিজ্ঞতা আছে। ইমেইলের পরে প্রতিটি লাইন কেন এভাবে লেখা হলো, তা বাংলায় লাইন ধরে ধরে বুঝিয়ে দাও, যাতে পরের বার নিজে লিখতে পারি।”
- ৪ব্যবসা, দোকানের ফেসবুক পোস্ট: “তুমি একজন কপিরাইটার। ঢাকার [মিরপুরে] আমার মেয়েদের পোশাকের একটা দোকান আছে। [ঈদের নতুন কালেকশন] নিয়ে একটা ফেসবুক পোস্ট লেখো। পাঠক ২০ থেকে ৩৫ বছরের নারী। কথ্য বাংলায় লেখো, ৮০ শব্দের মধ্যে, শেষে ইনবক্সে অর্ডার করতে বলো। তিনটা আলাদা ভার্সন দাও। দাম বা ছাড়ের কথা আমি না বললে নিজে থেকে লিখবে না।”
- ৫ব্যবসা, পণ্যের বিবরণ: “আমার অনলাইন শপের জন্য এই পণ্যের একটা বিবরণ লেখো: [সুতির থ্রি-পিস, রং, মাপ, দাম]। শুরুতে লেখো এটা পরলে কী সুবিধা পাওয়া যাবে, তারপর মাপ আর ধোয়া ও যত্নের নিয়ম। সহজ বাংলায়, ১২০ শব্দের মধ্যে। যে তথ্য আমি দিইনি, তা নিজে থেকে যোগ করবে না।”
- ৬ব্যবসা, কাস্টমারের অভিযোগের উত্তর: “একজন কাস্টমার মেসেজে অভিযোগ করেছেন যে তার অর্ডার [৩ দিন] দেরিতে পৌঁছেছে। তাকে নম্র ও আন্তরিক বাংলায় একটা উত্তর লেখো। অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করো আর একটা সমাধান প্রস্তাব করো, যেমন [পরের অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি]। দেরির কারণ আমি এখনো যাচাই করিনি, তাই কার দোষ তা নিয়ে কিছু স্বীকার বা দাবি করবে না।”
- ৭ব্যবসা, সাপ্লায়ারকে ইমেইল: “[সাপ্লায়ারের নাম] বরাবর একটা ইমেইল লেখো। আগের কোটেশনটা আমাদের বাজেটের চেয়ে বেশি, তাই [৫০০ পিস কাপড়ের ব্যাগের] জন্য সংশোধিত কোটেশন আর নিশ্চিত ডেলিভারির তারিখ জানতে চাই। ভাষা হবে ভদ্র কিন্তু পরিষ্কার। প্রথমে বাংলায় লেখো, তারপর একই ইমেইল ইংরেজিতে দাও।”
- ৮মার্কেটার, কনটেন্ট ক্যালেন্ডার: “তুমি একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার। [খুলনার একটা কোচিং সেন্টারের] জন্য এক মাসের ফেসবুক কনটেন্ট ক্যালেন্ডার বানাও। টেবিলে চারটা কলাম থাকবে: তারিখ, পোস্টের আইডিয়া, ফরম্যাট (ছবি, ভিডিও, রিলস বা লেখা) আর পোস্টের লক্ষ্য। সপ্তাহে [৪টি] পোস্ট। [ভর্তির মৌসুম] মাথায় রেখে সাজাও।”
- ৯মার্কেটার, বিজ্ঞাপনের কপি: “[অনলাইনে বাংলায় ইংরেজি শেখার একটা কোর্সের] ফেসবুক বিজ্ঞাপনের জন্য পাঁচটা হেডলাইন আর মূল লেখা দাও। প্রতিটা আলাদা দিক থেকে: দাম, মান, এখনই নেওয়ার তাড়া, অন্যদের অভিজ্ঞতা, আর সমস্যা থেকে সমাধান। আমি যে তথ্য দিইনি এমন কোনো ছাড়, সংখ্যা, রিভিউ বা দাবি বানাবে না।”
- ১০মার্কেটার, কাস্টমার রিসার্চ: “[প্রথমবার অনলাইন কোর্স কিনছেন এমন একজন ক্রেতার] মনে কী কী প্রশ্ন আর দ্বিধা থাকতে পারে, তার একটা তালিকা দাও। তারপর প্রতিটা দ্বিধার জন্য সহজ বাংলায় একটা ছোট প্রশ্নোত্তরের খসড়া লেখো। কোথায় আমার নিজের তথ্য বসাতে হবে, তা ব্র্যাকেট দিয়ে চিহ্নিত করো।”
ব্র্যাকেটের অংশগুলো আপনার, সেখানে নিজের বিষয়, এলাকা, সময় আর পণ্যের তথ্য বসান। তবে একটা সীমা আছে: ব্র্যাকেটে কখনো কোনো কাস্টমারের আসল নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা বা অর্ডারের বিবরণ বসাবেন না। কেন, সেটা পরের অংশে বলছি।
চ্যাটজিপিটির সীমাবদ্ধতা: কোথায় সাবধান থাকবেন
চ্যাটজিপিটি কাজের টুল, কিন্তু এর দুর্বলতাগুলো না জেনে ব্যবহার করলে ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি পর্যন্ত নানা ঝামেলা হতে পারে। প্রধান সাবধানতাগুলো:
- পুরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভুল বলতে পারে। চ্যাটজিপিটি মাঝে মাঝে এমন তথ্য, সংখ্যা, উদ্ধৃতি, আইনের ধারা বা বইয়ের নাম বানিয়ে ফেলে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, আর এমনভাবে বলে যেন সেটা নিশ্চিত সত্য। একে সাধারণত হ্যালুসিনেশন বলা হয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মিলিয়ে নিন।
- সাম্প্রতিক খবর আর বাংলাদেশের স্থানীয় খুঁটিনাটি নাও জানতে পারে। আজকের বাজারদর, নতুন কোনো সরকারি নিয়ম, পরীক্ষার তারিখ বা আবেদনের শেষ সময়ের মতো তথ্য চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে নিয়ে সরাসরি বিশ্বাস করবেন না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল উৎস থেকে যাচাই করুন।
- একই প্রশ্নে সবসময় একই উত্তর দেয় না। আবার জিজ্ঞেস করলে উত্তর বদলে যেতে পারে। লেখার কাজে এটা সুবিধা, কিন্তু তথ্যের ক্ষেত্রে এর মানে হলো কোনো একটা উত্তরকে চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়া যায় না।
- আপনার বিচারবুদ্ধি বা বিশেষজ্ঞের বিকল্প না। স্বাস্থ্য, আইন বা টাকাপয়সার সিদ্ধান্তে চ্যাটজিপিটি প্রশ্ন গুছিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন যোগ্য ডাক্তার, আইনজীবী বা বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
- শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সতর্কতা। কোনো বিষয় বোঝার জন্য, নিজের লেখা যাচাইয়ের জন্য বা অনুশীলনের প্রশ্ন বানাতে চ্যাটজিপিটি বেশ কাজের। কিন্তু এর লেখা নিজের নামে অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে জমা দিলে আপনার স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভাঙা হতে পারে, তাই আগে জেনে নিন আপনার প্রতিষ্ঠান কী অনুমতি দেয়। আর মনে রাখবেন, পরীক্ষার হলে চ্যাটজিপিটি থাকবে না, থাকবে শুধু আপনি নিজে যা বুঝেছেন, সেটুকু।
মার্কেটিং-এর কাজে চ্যাটজিপিটি
মার্কেটিং-এর দৈনন্দিন কাজে চ্যাটজিপিটি সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে প্রথম খসড়ায়। ফাঁকা পাতার সামনে বসে থাকার বদলে কয়েক মিনিটে পোস্ট বা বিজ্ঞাপনের একটা খসড়া পেয়ে যান, তারপর সেটা ঠিক করেন। এছাড়া আরও কয়েকটা কাজে এটা ভালো লাগে: হেডলাইনের অনেকগুলো বিকল্প বের করা, একটা লম্বা আইডিয়াকে ছোট ক্যাপশনে আনা, কাস্টমারের সাধারণ প্রশ্নগুলোর খসড়া উত্তর লেখা, আর এক মাসের কনটেন্টের পরিকল্পনা সাজানো। নাম আর ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিয়ে অনেকগুলো কমেন্ট বা রিভিউ থেকে মূল বিষয়গুলো আলাদা করতেও এটা কাজে দেয়।
কিন্তু কয়েকটা জিনিস চ্যাটজিপিটি জানে না, আর জানার উপায়ও নেই: আপনার কাস্টমার আসলে কে, কোন পণ্যে আপনার লাভ কত, গত মাসে কোন পোস্ট থেকে সত্যিই বিক্রি হয়েছে, আপনার প্রতিযোগী এই সপ্তাহে কী করছে। তাই কোন পণ্যকে সামনে আনবেন, কার কাছে বিক্রি করবেন, কোন চ্যানেলে কত বাজেট যাবে, এই সিদ্ধান্তগুলো মানুষের হাতেই থাকে। ডিজিটাল মার্কেটিং-এর এই ভিত্তিগুলো নিয়ে বিস্তারিত লিখেছি ডিজিটাল মার্কেটিং কি লেখায়।
একটা কথা খেয়াল রাখবেন: টুল যত ভালোই হোক, আপনার মার্কেটিং চিন্তা যতটা পরিষ্কার, প্রম্পটও ততটাই ধারালো হবে। যিনি জানেন তার কাস্টমার কে, তার পণ্য অন্যদের থেকে কোথায় আলাদা, আর কোন চ্যানেলে কী বলতে হবে, তার প্রম্পটে এই সবকিছু থাকে, আর উত্তরও সেই মানের আসে। যিনি জানেন না, তিনি পান শুনতে সুন্দর কিন্তু সাধারণ লেখা, যা বিক্রি আনে না। এই ভিত্তিটা গড়তে আমার ফ্রি বাংলা কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস দেখতে পারেন। কোর্সের ২৫টি লেসনের ২৪টি ফ্রিতে দেখা যায়, শুধু সার্টিফিকেট নিতে চাইলে টাকা লাগে।
আর আপনি যদি ব্যবসার মালিক হন বা টিমের দায়িত্বে থাকেন, আর পুরো মার্কেটিং-এ এআই কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে বড় পরিসরে ভাবতে চান, তাহলে এআই মার্কেটিং গাইডটি পড়ে দেখতে পারেন। লেখাটা ইংরেজিতে, তাই আগে থেকে জানিয়ে রাখলাম।
আজ থেকেই শুরু করুন: ছোট একটা অনুশীলন
পড়ে শেখার চেয়ে করে শেখা দ্রুত হয়। তাই আজকের জন্য একটা ছোট কাজ দিই। উপরের দশটা প্রম্পট থেকে আপনার কাজের সাথে সবচেয়ে মেলে এমন একটা বেছে নিন। ব্র্যাকেটের অংশ নিজের তথ্য দিয়ে বদলে চ্যাটজিপিটিতে পাঠান। প্রথম উত্তর পেয়ে অন্তত দুবার ঠিক করতে বলুন: একবার ছোট করতে, একবার ভাষা আরও স্বাভাবিক করতে।
তারপর তিনটা লেখা পাশাপাশি রেখে দেখুন, কোনটা আপনার নিজের ভাষার সবচেয়ে কাছাকাছি, আর কোথায় এখনো আপনার নিজের হাত লাগবে। এই তুলনাটাই আসল শেখা। কয়েক দিন এভাবে চর্চা করলে বুঝে যাবেন কোন কাজে চ্যাটজিপিটি আপনার সময় বাঁচায়, আর কোন কাজ নিজের হাতে রাখাই ভালো।
চ্যাটজিপিটি নিয়ে প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
- চ্যাটজিপিটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
- চ্যাটজিপিটির একক কোনো প্রতিষ্ঠাতা নেই। এটা তৈরি করেছে OpenAI নামের প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে যাত্রা শুরু করে। OpenAI-এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন স্যাম অল্টম্যান, ইলন মাস্ক, গ্রেগ ব্রকম্যান আর ইলিয়া সুতস্কেভারসহ আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত স্যাম অল্টম্যান, যিনি OpenAI-এর প্রধান নির্বাহী। চ্যাটজিপিটি সবার জন্য চালু হয় ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর।
- চ্যাটজিপিটি কি বাংলা বোঝে?
- হ্যাঁ। বাংলায় প্রশ্ন লিখলে চ্যাটজিপিটি সাধারণত বাংলাতেই উত্তর দেয়, আর ইংরেজি হরফে লেখা বাংলাও বুঝে নেয়। তবে এর বাংলা মাঝে মাঝে বইয়ের ভাষার মতো শক্ত শোনায়, বানান বা শব্দ বাছাইয়ে ভুলও হতে পারে। প্রম্পটে “সহজ কথ্য বাংলায় লেখো” বলে দিলে ভাষা অনেক স্বাভাবিক হয়। কাউকে পাঠানোর আগে নিজে একবার পড়ে নিন।
- ChatGPT ki free, ar eta mobile e kivabe use korbo?
- হ্যাঁ, চ্যাটজিপিটি ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়। বাড়তি সুবিধার জন্য টাকা দিয়ে নেওয়ার প্ল্যানও আছে, তবে শুরুর জন্য ফ্রি ব্যবহারই যথেষ্ট। মোবাইলে ব্যবহার করতে অ্যান্ড্রয়েডে গুগল প্লে স্টোর বা আইফোনে অ্যাপ স্টোর থেকে ChatGPT অ্যাপটি নামান, প্রকাশক হিসেবে OpenAI লেখা আছে কি না দেখে নিন, তারপর আপনার অ্যাকাউন্ট দিয়ে ঢুকুন।
- জিপিটি-এর পূর্ণরূপ কী?
- জিপিটি-এর পূর্ণরূপ Generative Pre-trained Transformer। সহজ ভাষায়, এটা এমন একটা ব্যবস্থা যা বিপুল পরিমাণ লেখা থেকে আগেই ভাষার ধরন শিখে নিয়েছে (Pre-trained) আর সেই শেখা থেকে নতুন লেখা তৈরি করতে পারে (Generative)। Transformer হলো এর পেছনের প্রযুক্তির নাম। চ্যাটজিপিটি নামের জিপিটি অংশটা এখান থেকেই এসেছে।
- চ্যাটজিপিটি দিয়ে কী কী করা যায়?
- লেখা আর ভাষার প্রায় সব কাজেই এটা সাহায্য করতে পারে: ফেসবুক পোস্ট, পণ্যের বিবরণ আর ইমেইলের খসড়া লেখা, বাংলা থেকে ইংরেজি বা ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ, কঠিন কোনো বিষয় সহজ করে বোঝা, পড়ার রুটিন বানানো, লম্বা লেখা সংক্ষেপ করা, আর নতুন আইডিয়া বের করা। তবে এর লেখা যাচাই করা আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া আপনারই কাজ।
- চ্যাটজিপিটির উত্তর কি সবসময় সঠিক?
- না। চ্যাটজিপিটি মাঝে মাঝে ভুল তথ্য, বানানো সংখ্যা বা বানানো উদ্ধৃতি এমনভাবে বলে যেন সেটা নিশ্চিত সত্য, যাকে সাধারণত হ্যালুসিনেশন বলা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনা বা বাংলাদেশের স্থানীয় নিয়মকানুনও এটা নাও জানতে পারে। তাই পড়াশোনা, ব্যবসা বা স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করে নিন।
- চ্যাটজিপিটি আর গুগল সার্চের পার্থক্য কী?
- গুগল সার্চ আপনার প্রশ্নের সাথে মেলে এমন ওয়েবসাইটের তালিকা দেখায়, আর উৎস দেখে বিচার করার দায়িত্ব আপনার। চ্যাটজিপিটি নিজে একটা উত্তর লিখে দেয়, দরকার হলে ওয়েবে খুঁজে নিয়েও, আর আপনি পরের প্রশ্ন করে কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারেন। লেখা, ব্যাখ্যা আর আইডিয়ার জন্য চ্যাটজিপিটি সুবিধাজনক। সাম্প্রতিক বা যাচাই করা তথ্যের জন্য উৎসটা নিজে খুলে দেখুন, গুগলে হোক বা চ্যাটজিপিটির দেখানো লিংকে।