সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? ফেসবুক মার্কেটিং ও পেজ খোলার নিয়ম
সহজ সংজ্ঞা থেকে শুরু করে কোন প্ল্যাটফর্ম কিসের জন্য, বুস্ট আর অ্যাডস ম্যানেজারের পার্থক্য, একটা দোকানের এক মাসের কনটেন্ট প্ল্যান আর ফেসবুক পেজ খোলার ধাপ, সব এক লেখায়।
· পড়তে ১৫ মিনিট · নাজমুল আহমেদ
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হলো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, লিংকডইন আর হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষের কাছে পৌঁছানো, তাদের আস্থা অর্জন করা, কথোপকথন শুরু করা আর শেষ পর্যন্ত পণ্য বা সেবা বিক্রি করা। এর দুটো অংশ আছে। বিনা খরচে নিয়মিত পোস্ট, ভিডিও আর মেসেজের উত্তর দিয়ে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সেটা অর্গানিক। আর নিজের বেছে দেওয়া মানুষকে টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেখানো, সেটা পেইড। বাংলাদেশে এর কেন্দ্রে আছে ফেসবুক পেজ আর মেসেঞ্জার।
কেউ গুগলে লেখেন “সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি”, কেউ লেখেন “ফেসবুক মার্কেটিং কিভাবে করে”, কেউ সরাসরি জানতে চান “ফেসবুক পেজ কিভাবে খুলবো”। প্রশ্নগুলো আলাদা শোনালেও পেছনের মানুষ সাধারণত দুই রকম। একজন নতুন, যিনি মার্কেটিং শিখতে চান আর বুঝতে চান সোশ্যাল মিডিয়ার কাজটা আসলে কী। আরেকজন ছোট ব্যবসার মালিক, যিনি ফেসবুক পেজ থেকে কাপড়, খাবার বা হাতের কাজ বিক্রি করেন আর ভাবেন, পোস্ট তো দিচ্ছি, মাঝে মাঝে বুস্টও করছি, তবু অর্ডার বাড়ছে না কেন।
আমি ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছি, মার্কেটিং টিম গড়েছি আর সেই টিমগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছি। এই লেখায় দুই পাঠকের জন্যই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এর পুরো ছবিটা সহজ ভাষায় সাজিয়েছি, সংজ্ঞা থেকে শুরু করে ফেসবুক পেজ খোলার ধাপ, কী মাপবেন আর কোন ভুল এড়াবেন, সবই।
ডিজিটাল মার্কেটিং-এর সব চ্যানেলের মানচিত্রটা আগে দেখে নিতে চাইলে পড়ুন ডিজিটাল মার্কেটিং কি। সেখানে সোশ্যাল মিডিয়া অনেকগুলো চ্যানেলের একটা, এক লাইনে বলা। এই লেখা শুধু ওই একটা চ্যানেল নিয়ে, তবে গভীরে গিয়ে।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কাকে বলে
সহজ কথায়, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, লিংকডইন বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষের কাছে পৌঁছানো, তাদের আস্থা অর্জন করা, তাদের সাথে কথা বলা আর শেষ পর্যন্ত বিক্রি করা। এর দুটো দিক, বিনা খরচের অর্গানিক আর টাকা দিয়ে চালানো পেইড, নিয়ে নিচে আলাদা করে বলছি।
একটা ব্যবসার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মূলত তিনটা কাজ করে। প্রথম কাজ চেনানো আর মনে গেঁথে দেওয়া: মানুষ স্ক্রল করতে করতে আপনার পণ্য দেখে, আর বারবার দেখতে দেখতে নামটা মনে রাখে। দ্বিতীয় কাজ কথোপকথন: কমেন্টে প্রশ্ন, ইনবক্সে দাম জানতে চাওয়া, রিভিউ, এসব দিয়ে অপরিচিত মানুষের সাথে সম্পর্ক শুরু হয়। তৃতীয় কাজ বিক্রি: মেসেজে অর্ডার নেওয়া, ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া বা হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার কনফার্ম করা।
অন্য চ্যানেলের সাথে বড় পার্থক্যটা এখানে। কেউ গুগলে কিছু খুঁজলে সে নিজেই জানে কী চায়, আপনি শুধু তার সামনে থাকার চেষ্টা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ আপনাকে খুঁজতে আসেনি। সে এসেছে বন্ধুর ছবি দেখতে, খবর পড়তে বা একটু সময় কাটাতে। তাই ফিডের ভেতরে আপনার কনটেন্টকে নিজের জায়গা নিজেই করে নিতে হয়। যে পোস্ট কাজের কিছু দেয়, হাসায় বা কৌতূহল জাগায়, মানুষ সেখানে থামে। যে পোস্ট শুধু “কিনুন” বলে, মানুষ সেটা পার হয়ে যায়।
বাংলাদেশে ফেসবুক কেন সবার আগে
বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলতে অনেকেই সরাসরি ফেসবুক বোঝেন, আর এর পেছনে সংখ্যার যুক্তি আছে। ডেটারিপোর্টালের (DataReportal) “Digital 2026: Bangladesh” রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ২৮ লাখ, মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ। একই রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে ফেসবুকের অ্যাড রিচ, মানে বিজ্ঞাপন দিলে যতজনের কাছে পৌঁছানো সম্ভব, ছিল ৬ কোটি ৪০ লাখ, মোট জনসংখ্যার ৩৬.৩ শতাংশ। একই সময়ে ইউটিউবের অ্যাড রিচ ছিল ৪ কোটি ৯৮ লাখ।
সংখ্যাগুলো পড়ার সময় একটা কথা মনে রাখবেন। ফেসবুক, ইউটিউব আর ইনস্টাগ্রামের সংখ্যাগুলো জনশুমারি না, সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যাও না। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এই রিপোর্টে ডেটারিপোর্টাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য যা দিয়েছে, তা বিজ্ঞাপন কতজনের কাছে পৌঁছাতে পারে তার আনুমানিক হিসাব, মাথা গুনে বের করা সংখ্যা না। তবু দিক বোঝার জন্য ছবিটা পরিষ্কার: দেশে বিজ্ঞাপন দিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর জায়গা এখনো ফেসবুক।
তবে শুধু সংখ্যা দিয়ে ফেসবুকের জায়গাটা বোঝা যায় না। বাংলাদেশে অনেক ব্যবসা পুরোটাই চলে একটা ফেসবুক পেজ থেকে, যাকে আমরা এফ-কমার্স বলি। ক্রেতা পোস্টে ছবি দেখেন, কমেন্টে লেখেন “দাম কত”, তারপর মেসেঞ্জারে কথা বলে অর্ডার দেন। অনেক ক্ষেত্রে মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপই দোকানের ক্যাশ কাউন্টার: সেখানেই সাইজ মেলানো, ডেলিভারির ঠিকানা নেওয়া, পেমেন্টের কথা। এফ-কমার্সে ব্যবসা দাঁড় করানোর দিকটা, মানে কী বিক্রি করবেন আর কীভাবে শুরু করবেন, আলাদা করে লেখা আছে অনলাইন বিজনেস ও এফ-কমার্স লেখায়।
একটা সতর্কতাও দিয়ে রাখি। ফেসবুক সবার আগে মানে ফেসবুকই একমাত্র না। আপনি যদি অন্য কোম্পানিকে সেবা বিক্রি করেন, লিংকডইন বেশি কাজে আসতে পারে। রান্না শেখালে ইউটিউব হয়তো ভালো জায়গা। সঠিক প্ল্যাটফর্ম ঠিক হয় একটা প্রশ্নের উত্তরে: আপনার কাস্টমার কোথায় সময় কাটান।
কোন প্ল্যাটফর্ম কিসের জন্য
প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব মেজাজ আছে। একই পোস্ট সব জায়গায় একই রকম কাজ করে না। নতুনদের জন্য একটা সহজ মানচিত্র:
- ফেসবুক পেজ: আপনার দোকানের শোকেস আর ইনবক্স একসাথে। এখানে পণ্যের ছবি, রিলস, কাস্টমারের রিভিউ, অফার আর দোকানের তথ্য থাকে, আর মেসেঞ্জারে আসে অর্ডার। বাংলাদেশে বেশিরভাগ ছোট ব্যবসার শুরুটা এখান থেকেই হওয়া স্বাভাবিক।
- ফেসবুক গ্রুপ: কমিউনিটি আর নিয়মিত কাস্টমারের জায়গা। ভালো গ্রুপ গড়ে ওঠে একটা প্রয়োজন ঘিরে। ধরুন সিলেটের একজন হোম বেকার ঘরে কেক বানানো শেখার একটা গ্রুপ চালান, যেখানে রেসিপি আর প্রশ্নোত্তর চলে, আর মাঝে মাঝে অর্ডারের কথা আসে। গ্রুপটাকে শুধু অফার ঢালার জায়গা বানালে কিছুদিনের মধ্যেই সেটা চুপ হয়ে যায়।
- ইনস্টাগ্রাম: যে পণ্য চোখে দেখে ভালো লাগে, তার জন্য। পোশাক, খাবার, সাজসজ্জা, হাতের কাজ। রিলস আর স্টোরি এখানে সবচেয়ে বেশি চলে। ডেটারিপোর্টালের একই রিপোর্টে ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে ইনস্টাগ্রামের অ্যাড রিচ ছিল ৯১ লাখ ৫০ হাজার, ফেসবুকের তুলনায় অনেক ছোট। তাই এটাকে ফেসবুকের পাশে দ্বিতীয় জায়গা হিসেবে ভাবাই বাস্তবসম্মত, একমাত্র জায়গা হিসেবে না।
- ইউটিউব: লম্বা ভিডিওতে কিছু শেখানো, পণ্য কীভাবে কাজ করে দেখানো বা বিস্তারিত রিভিউ। মানুষ ইউটিউবে কিছু খুঁজে ভিডিও দেখে, তাই ভালো একটা ভিডিও বছরের পর বছর দর্শক আনতে পারে। চট্টগ্রামের একটা রেস্টুরেন্ট যদি দেখায় তাদের মেজবানি মাংস কীভাবে রান্না হয়, সেই ভিডিও একটা সাধারণ বিজ্ঞাপনের চেয়ে বেশি ভরসা তৈরি করতে পারে।
- টিকটক: ছোট ভিডিও দিয়ে নতুন মানুষের কাছে পৌঁছানো। এখানে ফলোয়ার কম থাকলেও একটা ভিডিও অনেক মানুষের সামনে যেতে পারে, কিন্তু সেজন্য নিয়মিত আর ঘনঘন ভিডিও বানাতে হয়। সপ্তাহে কয়েকটা ভিডিও বানানোর সময় আর আগ্রহ না থাকলে টিকটক দিয়ে শুরু না করাই ভালো।
- লিংকডইন: এক ব্যবসা থেকে আরেক ব্যবসায় বিক্রি, যাকে বিটুবি বলে, আর কর্মী নিয়োগ, পেশাদার সেবা ও নিজের পেশাগত পরিচিতি গড়ার জায়গা।
- হোয়াটসঅ্যাপ: কাস্টমারের সাথে সরাসরি, একজন একজন করে কথা। অর্ডার কনফার্ম করা, ডেলিভারির খবর দেওয়া, পুরনো কাস্টমারকে নতুন কালেকশনের ছবি পাঠানো। ব্যবসার আলাদা নম্বরের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস অ্যাপ আছে, যেখানে পণ্যের ক্যাটালগ রাখা যায়, ফলে প্রতিবার আলাদা করে ছবি পাঠাতে হয় না।
সব প্ল্যাটফর্মে একসাথে নামবেন না। যে একটা বা দুটোতে নিয়মিত পোস্ট করতে পারবেন, সেখান থেকে শুরু করুন। বেশিরভাগ বাংলাদেশি ছোট ব্যবসার জন্য সেটা ফেসবুক পেজ আর হোয়াটসঅ্যাপ, আর পণ্য দেখতে সুন্দর হলে সাথে ইনস্টাগ্রাম। কয়েক মাস নিয়মিত থাকার পর বুঝবেন কোথায় সাড়া আসছে, তখন আরেকটা যোগ করার কথা ভাবুন।
অর্গানিক আর পেইড: দুটোর পার্থক্য
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এর দুটো দিক আছে, আর নতুনরা প্রায়ই একটাকে আরেকটার বিকল্প মনে করেন। অর্গানিক মানে যা আপনি বিনা খরচে করেন: পেজে পোস্ট, রিলস, স্টোরি, কমেন্ট আর মেসেজের উত্তর, গ্রুপে অংশ নেওয়া। পেইড মানে আপনি মেটা বা অন্য প্ল্যাটফর্মকে টাকা দেন, যাতে তারা আপনার কনটেন্ট আপনার বেছে দেওয়া মানুষকে দেখায়।
অর্গানিক কাজ আস্থা তৈরি করে। ধরুন কেউ বিজ্ঞাপন দেখে আপনার পেজে ঢুকলেন, তারপর দেখলেন শেষ পোস্ট ছয় মাস আগের, কোনো রিভিউ নেই, কমেন্টে প্রশ্নের উত্তর নেই। তিনি কিনবেন না। আবার একই মানুষ যদি দেখেন নিয়মিত পোস্ট, আসল কাস্টমারের ছবি আর দ্রুত উত্তর, তার ভরসা বাড়ে। মানে অর্গানিক কাজ বিজ্ঞাপনকে এমন একটা জায়গা দেয়, যেখানে মানুষ পাঠানো যায়।
পেইড কাজ গতি দেয়। শুধু অর্গানিক পোস্টে নতুন মানুষের কাছে পৌঁছানো ধীর, কারণ আপনার পোস্ট সাধারণত তাদের কাছেই যায়, যারা আগে থেকে পেজের সাথে যুক্ত। বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনি ঠিক করে দিতে পারেন কোন এলাকা, কোন বয়স আর কোন আগ্রহের মানুষ পোস্টটা দেখবেন।
তাই দুটোর কোনোটাই একা বেশিদিন চলে না। বিজ্ঞাপন ছাড়া শুধু অর্গানিক কাজে ব্যবসা বাড়ে ধীরে। আর বিশ্বাসযোগ্য পেজ ছাড়া শুধু বিজ্ঞাপনে টাকা নষ্ট হয়। ভালো নিয়ম হলো, আগে পেজটাকে এমন অবস্থায় আনুন যে নতুন কেউ এসে ভরসা পান, তারপর বিজ্ঞাপন দিয়ে সেখানে মানুষ আনুন।
বুস্ট বাটন আর অ্যাডস ম্যানেজার, সহজ ভাষায়
ফেসবুকে টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন চালানোর দুটো সাধারণ রাস্তা আছে। প্রশ্ন হলো, বুস্ট আর অ্যাডস ম্যানেজার আসলে কোথায় আলাদা, আর কখন কোনটা:
- বুস্ট: পেজে আগে থেকে থাকা একটা পোস্ট বেছে নিয়ে তাতে টাকা দেওয়া। লক্ষ্য বাছার সুযোগ কম, যেমন বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো, বেশি রিঅ্যাকশন আর কমেন্ট, বেশি মেসেজ বা লিংকে ক্লিক। অডিয়েন্স বাছাই করা যায় মূল কয়েকটা বিষয় দিয়ে: এলাকা, বয়স, লিঙ্গ আর আগ্রহ। বিজ্ঞাপন দেখা যায় মূলত ফিডে। যে পোস্ট অর্গানিকভাবে ভালো চলছে, সেটাকে দ্রুত আরও মানুষের কাছে নেওয়ার জন্য বুস্ট সহজ আর কাজের।
- অ্যাডস ম্যানেজার: শূন্য থেকে একটা পুরো ক্যাম্পেইন বানানোর জায়গা। এখানে লক্ষ্যের তালিকা বড়, যার মধ্যে বিক্রি আর ওয়েবসাইটে কেনাকাটার মতো কনভার্সনও আছে। বিজ্ঞাপন কোথায় দেখা যাবে সেই জায়গাও বেশি, যেমন স্টোরি, রিলস, মেসেঞ্জারসহ আরও কয়েকটা। নিজের কাস্টমারদের তালিকা থেকে কাস্টম অডিয়েন্স বানানো যায়, আর তাদের মতো নতুন মানুষ খুঁজতে লুকঅ্যালাইক অডিয়েন্স। একই বিজ্ঞাপনের কয়েকটা ভার্সন বানিয়ে পরীক্ষাও করা যায়, কোনটা বেশি কাজ করছে।
- কখন কোনটা: মোটা দাগে, পরীক্ষা করতে বুস্ট, আর যখন স্পষ্ট লক্ষ্য আছে ও ফল মাপার উপায় আছে তখন অ্যাডস ম্যানেজার। ধরুন একটা রিল হঠাৎ অনেক সাড়া পেল। ছোট বাজেটে বুস্ট করে দেখুন নতুন মানুষও একইভাবে সাড়া দেন কি না। আর যদি ঈদের আগের দুই সপ্তাহে ওয়েবসাইট থেকে বিক্রি বাড়াতে চান আর প্রতিটি অর্ডারের খরচ হিসাব করতে চান, সেটা অ্যাডস ম্যানেজারের কাজ।
মেটা প্রায়ই বাটনের নাম, লক্ষ্যের তালিকা আর মেনু বদলায়, তাই এখানে বলা হলো মূল ধারণা, হুবহু মেনু না। এখন কোন কোন অপশন আছে, তা মেটা বিজনেস হেল্প সেন্টারে বুস্ট আর অ্যাডস ম্যানেজারের পার্থক্য নিয়ে লেখা পাতায় দেখে নিন।
ঢাকার একটা কাপড়ের দোকানের এক মাসের কনটেন্ট প্ল্যান
ধারণা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় একটা উদাহরণ। ধরুন মোহাম্মদপুরের একজন উদ্যোক্তা ফেসবুক পেজ থেকে কুর্তি আর থ্রি-পিস বিক্রি করেন। আলাদা দোকান নেই, বাসা থেকে কাজ করেন, সাথে একজন সহকারী। তার জন্য এক মাসের একটা সম্ভাব্য প্ল্যান:
- প্রথম সপ্তাহ, পরিচয়: দোকান আর দোকানের পেছনের মানুষদের পরিচয় করিয়ে দিন। কে কাপড় বাছেন, কেন এই ব্যবসা শুরু করলেন, এক-দুই মিনিটের একটা ভিডিওতে বলুন। কাপড়ের খুব কাছ থেকে তোলা ছবি দিন, যাতে বুনন আর রং বোঝা যায়। আর একটা কাজের পোস্ট দিন: সঠিক মাপ কীভাবে নেবেন, ছবিসহ। এই পোস্ট পরে ইনবক্সের প্রশ্নের উত্তরে বারবার পাঠানো যাবে।
- দ্বিতীয় সপ্তাহ, দেখানো: একটা পোশাক তিনভাবে পরার রিল, যেমন অফিসে, দাওয়াতে আর ঘরোয়া আড্ডায়। একজন কাস্টমারের অনুমতি নিয়ে তার পরা ছবি। আর ইনবক্সে সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্নগুলো, যেমন কাপড়ের রং ওঠে কি না বা ঢাকার বাইরে ডেলিভারি হয় কি না, সেগুলোর উত্তর নিয়ে একটা পোস্ট।
- তৃতীয় সপ্তাহ, পর্দার পেছনে: কাপড় কোথা থেকে আসে, একটা অর্ডার কীভাবে যত্ন করে প্যাক হয়, তার ভিডিও। পরের মাসে কোন ডিজাইন আনবেন তা নিয়ে দুটো ছবি দিয়ে একটা পোল। আর এই সপ্তাহে একটা পরিষ্কার অফার: কী ছাড়, কতদিনের জন্য, কীভাবে অর্ডার করবেন।
- চতুর্থ সপ্তাহ, প্রমাণ আর বিক্রি: কাস্টমারের রিভিউ আর মেসেজের স্ক্রিনশট, অনুমতি নিয়ে আর নাম ও নম্বর ঢেকে। ডেলিভারি কতদিনে হয়, চার্জ কত আর পণ্য ফেরত দেওয়ার নিয়ম কী, সহজ ভাষায় একটা পোস্টে। মাসের যে পোস্টটা সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছে, সেটা ছোট বাজেটে বুস্ট করুন।
- কত ঘন ঘন: সপ্তাহে কয়টা পোস্ট দিতে হবে, তার কোনো বাঁধা সংখ্যা নেই। যতগুলো আপনি মাসের পর মাস চালিয়ে যেতে পারবেন, সেটাই আপনার ঠিক সংখ্যা। এক সপ্তাহে দশটা পোস্ট দিয়ে তারপর তিন সপ্তাহ চুপ থাকার চেয়ে প্রতি সপ্তাহে অল্প কয়েকটা নিয়মিত পোস্ট ভালো। মিশ্রণটা মোটামুটি এমন রাখুন: কিছু শেখানো, কিছু দেখানো, কিছু প্রমাণ, আর অল্প কিছু বিক্রির পোস্ট।
- উত্তরের রুটিন: দিনে নির্দিষ্ট কয়েকটা সময় ঠিক করুন, যেমন সকাল, দুপুর আর রাত, যখন মেসেঞ্জার আর কমেন্ট দেখবেন। যে প্রশ্ন বারবার আসে, তার জন্য দামসহ তৈরি উত্তর রাখুন। দেরিতে উত্তর দেওয়া মানে অনেক সময় অর্ডারটা অন্য পেজে চলে যাওয়া।
প্ল্যানটা হুবহু নকল করার দরকার নেই। মূল কথা হলো, প্রতিটি পোস্টের একটা কাজ থাকবে: চেনানো, বোঝানো, ভরসা দেওয়া বা বিক্রি। মাস শেষে দেখুন কোন ধরনের পোস্টে সবচেয়ে বেশি মেসেজ আর অর্ডার এসেছে, আর পরের মাসে সেরকম আরও বানান।
ফেসবুক পেজ কিভাবে খুলবো: ধাপে ধাপে
এবার সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্নটা। ফেসবুক পেজ খুলতে টাকা লাগে না, আর ফেসবুক হেল্প সেন্টার অনুযায়ী ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে এমন যে কেউ পেজ খুলতে পারেন, বা কারও পেজ চালাতে সাহায্য করতে পারেন। ধাপগুলো মোটামুটি এরকম:
- ১নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করুন। পেজ তৈরি হয় ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকেই। আলাদা একটা ভুয়া প্রোফাইল খোলার দরকার নেই, নিজের আসল অ্যাকাউন্টই যথেষ্ট।
- ২মেনু থেকে পেজের অপশনে যান, আর নতুন পেজ তৈরির অপশন বেছে নিন। কম্পিউটার আর মোবাইল অ্যাপে মেনুর জায়গা আলাদা, তাই না পেলে মেনুতে “পেজ” লিখে খুঁজুন।
- ৩পেজের নাম আর ক্যাটাগরি দিন। শুধু এই দুটোই বাধ্যতামূলক। নাম হবে আপনার ব্যবসার আসল নাম, যা লিখে মানুষ আপনাকে খুঁজবে। ক্যাটাগরি হিসেবে আপনার ব্যবসার সাথে সবচেয়ে মেলে এমনটা বেছে নিন। চাইলে ছোট একটা বায়ো দিন: আপনি কী বিক্রি করেন আর কাদের জন্য, এক-দুই লাইনে।
- ৪যোগাযোগের তথ্য যোগ করুন: ফোন নম্বর, ইমেইল, আর ওয়েবসাইট থাকলে সেটা। আপনার যদি দোকান বা রেস্টুরেন্টের মতো জায়গা থাকে, যেখানে মানুষ সরাসরি আসেন, তাহলে ঠিকানা আর খোলার সময়ও দিন।
- ৫প্রোফাইল ছবি হিসেবে লোগো আর একটা কভার ছবি দিন। কভারে আপনার পণ্য বা দোকানের আসল ছবি ভালো কাজ করে, যাতে প্রথম দেখাতেই বোঝা যায় পেজটা কিসের।
- ৬অ্যাকশন বাটন ঠিক করুন, মানে পেজের যে বাটনে চাপ দিয়ে মানুষ আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন। বেশিরভাগ ছোট ব্যবসার জন্য মেসেজ পাঠানো বা হোয়াটসঅ্যাপের বাটন সবচেয়ে কাজের।
- ৭চাইলে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পেজের সাথে যুক্ত করুন। এটা ঐচ্ছিক, এখন বাদ দিয়ে পরে করলেও চলে।
- ৮যাদের সত্যিই আগ্রহ থাকতে পারে, তাদের পেজে ইনভাইট করুন। পরিচিত সবাইকে একসাথে আমন্ত্রণ পাঠানোর চেয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের বেছে নেওয়া ভালো, কারণ যারা কখনো কিনবেন না, তারা পেজের ফলোয়ার সংখ্যা বাড়ান কিন্তু পোস্টে সাড়া দেন না।
- ৯প্রচার শুরুর আগে কয়েকটা পোস্ট দিয়ে রাখুন: পরিচয়, পণ্যের ছবি, অর্ডার করার নিয়ম। খালি পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষ আনলে তারা কিছু না দেখে ফিরে যান।
পেজ খোলার পর কাজ বাড়লে পেজ, মেসেজ আর বিজ্ঞাপন এক জায়গা থেকে সামলাতে মেটা বিজনেস সুইট (Meta Business Suite) ব্যবহার করতে পারেন।
কী মাপবেন
পোস্ট দেওয়ার পর “ভালো চলছে” মনে হওয়া আর আসলে ভালো চলা এক কথা না। শুরুতে এই চারটা জিনিস মাপুন:
- রিচ: কতজন আলাদা মানুষ পোস্ট বা বিজ্ঞাপনটা দেখেছেন। একই মানুষ তিনবার দেখলেও রিচে তিনি একজন।
- এনগেজমেন্ট: রিঅ্যাকশন, কমেন্ট, শেয়ার আর সেভ।
- মেসেজ: পোস্ট বা বিজ্ঞাপন থেকে কতগুলো নতুন কথোপকথন শুরু হলো। এফ-কমার্সে এটাই অনেক সময় বিক্রির সবচেয়ে কাছের সংকেত।
- অর্ডার বা বিক্রি: কোন পোস্ট বা বিজ্ঞাপন থেকে কতগুলো অর্ডার এলো। মেসেজে অর্ডার নিলে এটা নিজেকেই লিখে রাখতে হয়। একটা সাধারণ খাতা বা স্প্রেডশিটে প্রতিটি অর্ডারের পাশে লিখে রাখুন, কাস্টমার কোন পোস্ট দেখে এসেছেন।
এই সংখ্যাগুলো পাবেন পেজের ইনসাইটস বা মেটা বিজনেস সুইটে, আর বিজ্ঞাপনের হিসাব অ্যাডস ম্যানেজারের রিপোর্টে। এখানেও নাম আর জায়গা বদলায়, তাই খুঁজে না পেলে হেল্প সেন্টারে দেখুন। আর একটা কথা সৎভাবে বলি: “ভালো এনগেজমেন্ট রেট কত”, এমন সবার জন্য এক সংখ্যা আমি দিতে পারব না, কারণ তা পণ্য, অডিয়েন্স আর প্ল্যাটফর্ম ভেদে বদলায়। তুলনা করুন নিজের সাথে: এই মাস গত মাসের চেয়ে ভালো কি না, আর নতুন পোস্টটা আপনার সেরা পোস্টগুলোর কাছাকাছি গেল কি না।
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি দেখি
- টাকা দিয়ে লাইক বা ফলোয়ার কেনা। মেটার স্প্যাম নীতিতে লাইক, শেয়ার, ভিউ বা ফলোর মতো এনগেজমেন্ট কেনা, বেচা বা বিনিময় করা নিষেধ। তার উপর কেনা ফলোয়াররা আপনার কাছ থেকে কিছু কেনেন না। উল্টো তারা পেজের অডিয়েন্সের ছবিটা ঘোলা করে দিতে পারেন, ফলে বিজ্ঞাপন চালালে ফেসবুক ভুল ধরনের মানুষকেই আপনার কাস্টমার ধরে নিতে পারে।
- শুধু অফার আর দামের কার্ড পোস্ট করা। প্রতিদিন শুধু ছাড়ের ঘোষণা দেখতে দেখতে মানুষ পেজটাকে বিজ্ঞাপনের বোর্ড ভাবেন, আর সেখানে আর থামেন না।
- দেরিতে উত্তর দেওয়া, বা কেউ দাম জানতে চাইলে শুধু “ইনবক্স চেক করুন” লেখা। যিনি প্রকাশ্যে দাম জিজ্ঞেস করেছেন, তিনি দামটাই জানতে চান। দাম লুকালে অনেকে পরের পেজে চলে যান।
- লক্ষ্য ঠিক না করে, বা কাস্টমার কে তা না জেনে বুস্ট করা। তখন বুস্ট হয় অনুমানে, আর টাকা যায় এমন মানুষের কাছে যাদের পণ্যটার দরকারই নেই।
- একসাথে সব প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে কয়েক সপ্তাহ পর চুপ হয়ে যাওয়া। ছয় মাস পুরনো শেষ পোস্ট নতুন কাস্টমারকে বলে দেয়, দোকানটা হয়তো বন্ধ।
- অন্য পেজের ছবি বা লেখা নকল করা। এতে কাস্টমারের আস্থা নষ্ট হয়, আর আসল মালিক অভিযোগ করলে পোস্ট সরিয়ে ফেলা হতে পারে। নিজের পণ্যের নিজের তোলা ছবি, মোবাইলে তোলা হলেও, অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখবেন কীভাবে
শেখার সবচেয়ে ভালো জায়গা একটা সত্যিকারের পেজ। নিজের একটা পেজ খুলুন, অথবা পরিচিত কারও ছোট ব্যবসার পেজ চালানোর দায়িত্ব নিন, ধরুন খালার ঘরে বানানো আচারের পেজ বা বন্ধুর ছোট ক্যাফের পেজ। একজন শিক্ষার্থীর জন্য এটা সবচেয়ে সহজ শুরু। এক মাস উপরের প্ল্যানের মতো করে পোস্ট দিন, সংখ্যা লিখে রাখুন, আর দেখুন কী কাজ করল।
সাথে মেটার নিজের হেল্প সেন্টার আর বিনা খরচের শেখার উপকরণ ব্যবহার করুন। প্ল্যাটফর্মের নিয়ম আর মেনু বদলালে সবার আগে সেখানেই হালনাগাদ হয়।
তবে টুল শেখার আগে মার্কেটিং-এর বেসিক শক্ত করা দরকার: কাস্টমার কে, সে কেন কিনবে, কোন চ্যানেল কী কাজ করে। এ জন্য আমার বাংলা কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস দেখতে পারেন। কোর্সটা ২৫টা লেসনের, বাংলায় পড়ানো। এর চ্যানেল অংশে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং আর ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে আলাদা আলাদা লেসন আছে, পাশাপাশি অ্যাড মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং আর ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং। ২৫টার মধ্যে ২৪টা লেসন ফ্রিতে দেখা যায়। কোর্সটা কিনলে বাকি একটা লেসন, ফাইনাল অ্যাসেসমেন্ট কুইজ আর সার্টিফিকেট খুলে যায়, সাথে আজীবন অ্যাক্সেস।
একটা কথা পরিষ্কার করে রাখি। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখলে কত আয় হবে, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি আমি দিই না। এটা একটা দক্ষতা, যা নিজের ব্যবসায়, চাকরিতে বা অন্যের ব্যবসার কাজে লাগে, আর দক্ষতা আসে নিয়মিত হাতে-কলমে কাজ করে।
নিজে না করে করিয়ে নিতে চাইলে
আপনি যদি নিজে সোশ্যাল মিডিয়া না চালিয়ে কাজটা করিয়ে নিতে চান, সেই কাজের ধরনটা দেখে নিতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়া ও কনটেন্ট মার্কেটিং সার্ভিস পেজে। পেজটা ইংরেজিতে লেখা।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কাকে বলে, এক কথায়?
- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক, লিংকডইন আর হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষের কাছে পৌঁছানো, আস্থা তৈরি করা, কথা বলা আর বিক্রি করার কাজকে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে। এর মধ্যে বিনা খরচের নিয়মিত পোস্ট আর টাকা দিয়ে চালানো বিজ্ঞাপন, দুটোই পড়ে।
- ফেসবুক মার্কেটিং আর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি একই জিনিস?
- না, ফেসবুক মার্কেটিং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এর একটা অংশ। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এ সব প্ল্যাটফর্ম পড়ে, আর ফেসবুক মার্কেটিং মানে শুধু ফেসবুক পেজ, গ্রুপ, মেসেঞ্জার আর ফেসবুকের বিজ্ঞাপন নিয়ে কাজ। বাংলাদেশে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়, তাই অনেকে দুটো শব্দ একই অর্থে বলেন।
- Facebook page kivabe khulbo, ar er jonno ki taka lage?
- পেজ খুলতে কোনো টাকা লাগে না। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে মেনু থেকে পেজের অপশনে যান, নতুন পেজ তৈরির অপশন বেছে নিন, তারপর পেজের নাম আর ক্যাটাগরি দিন। এরপর যোগাযোগের তথ্য, লোগো, কভার ছবি আর অ্যাকশন বাটন যোগ করুন। টাকা লাগে শুধু পরে বিজ্ঞাপন বা বুস্ট চালালে।
- ফেসবুক পেজ আর ফেসবুক গ্রুপের মধ্যে পার্থক্য কী?
- পেজ হলো ব্যবসার অফিশিয়াল পরিচয়, যেখানে আপনি পোস্ট দেন, মানুষ ফলো করেন আর মেসেজ পাঠান, আর যেখান থেকে বিজ্ঞাপন চালানো যায়। গ্রুপ হলো কমিউনিটি, যেখানে সদস্যরাও পোস্ট দেন আর নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। বিক্রির শুরুটা পেজ দিয়ে করুন, আর নিয়মিত কাস্টমারদের নিয়ে পরে একটা গ্রুপের কথা ভাবতে পারেন।
- ছোট ব্যবসার জন্য কোন সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে শুরু করা ভালো?
- বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছোট ব্যবসার জন্য ফেসবুক পেজ আর হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে শুরু করা সহজ, কারণ ক্রেতারা সেখানে মেসেজে অর্ডার দিতে অভ্যস্ত। পণ্য দেখতে সুন্দর হলে ইনস্টাগ্রাম যোগ করুন, আর পেশাদার সেবা বা বিটুবি ব্যবসা হলে লিংকডইনের কথা ভাবুন। যেখানে নিয়মিত থাকতে পারবেন, শুধু সেখানেই শুরু করুন।
- টাকা দিয়ে লাইক বা ফলোয়ার কেনা কি ঠিক?
- না। মেটার স্প্যাম নীতিতে লাইক, ফলো, শেয়ার বা ভিউয়ের মতো এনগেজমেন্ট কেনা, বেচা বা বিনিময় করা নিষেধ। তাছাড়া কেনা ফলোয়াররা আপনার পণ্য কেনেন না, পোস্টেও সাড়া দেন না। এতে ফলোয়ার সংখ্যা বড় দেখায়, কিন্তু বিজ্ঞাপন চালালে ফেসবুক ভুল অডিয়েন্সের তথ্য থেকে শেখার ঝুঁকিতে পড়ে।
- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে?
- বেসিক ধারণা পেতে কয়েক সপ্তাহ যথেষ্ট। তবে একটা পেজ নিজে দায়িত্ব নিয়ে চালানো, কনটেন্ট প্ল্যান করা আর বিজ্ঞাপনের ফল পড়তে পারার মতো দক্ষতা আসে কয়েক মাস নিয়মিত হাতে-কলমে কাজের পর। প্ল্যাটফর্মগুলো বদলাতে থাকে, তাই শেখাটা আসলে চলতেই থাকে।