ইমেইল মার্কেটিং কি? কত প্রকার ও কীভাবে শুরু করবেন

সংজ্ঞা, ছয় প্রকার, অনুমতি নিয়ে লিস্ট বানানো, বাংলায় একটা পুরো ইমেইলের উদাহরণ আর স্প্যামে না যাওয়ার নিয়ম, এক লেখায়।

· পড়তে ১০ মিনিট · নাজমুল আহমেদ

ইমেইল মার্কেটিং হলো, যারা আপনার ইমেইল পেতে রাজি হয়েছেন তাদের কাছে পরিকল্পনা করে নিয়মিত কাজের ইমেইল পাঠানো, যাতে তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় আর সময়মতো বিক্রিও আসে। এর প্রধান প্রকার ছয়টি: নিউজলেটার, ওয়েলকাম, প্রমোশনাল, ট্রানজ্যাকশনাল, অ্যাবান্ডনড কার্ট আর রি-এনগেজমেন্ট ইমেইল। ফেসবুক পেজের ফলোয়ার প্ল্যাটফর্মের নিয়মে চলে, কিন্তু ইমেইল লিস্ট আপনার নিজের, তাই ছোট ব্যবসার জন্যও এটা দরকারি।

ঢাকার একটা ছোট পোশাকের দোকানের কথা ভাবুন। অর্ডার আসে ফেসবুক পেজের ইনবক্সে, কনফার্মেশন যায় হোয়াটসঅ্যাপে, নতুন কালেকশনের খবর যায় পেজের পোস্টে। অনেক ছোট ব্যবসা আর অনলাইন কোর্স বিক্রি করেন এমন অনেকে এভাবেই চলেন, আর যে চ্যানেলটা প্রায় সবাই বাদ দিয়ে যান, সেটা ইমেইল।

কেউ গুগলে লেখেন “ইমেইল মার্কেটিং কি”, কেউ লেখেন “ই-মেইল মার্কেটিং কি”। প্রশ্ন একই, আর এই লেখায় তার উত্তরের সাথে আছে শুরু করার ধাপ আর বাংলায় লেখা একটা পুরো ইমেইল।

মার্কেটিং নিয়ে ১৬ বছরের বেশি কাজ করে আর মার্কেটিং টিম গড়ে ও চালিয়ে একটা কথা শিখেছি: কাস্টমারের সাথে যোগাযোগের অন্তত একটা পথ নিজের হাতে রাখতে হয়। ইমেইল সেই পথ। ডিজিটাল মার্কেটিং-এর পুরো ছবিতে ইমেইলের জায়গা কোথায়, তা জানতে পড়ুন ডিজিটাল মার্কেটিং কি।

ইমেইল মার্কেটিং কাকে বলে

সহজ কথায়, ইমেইল মার্কেটিং হলো, যারা আপনার ইমেইল পেতে রাজি হয়েছেন তাদের কাছে পরিকল্পনা করে কাজের ইমেইল পাঠানো, যাতে একটা সম্পর্ক তৈরি হয় আর সেই সম্পর্ক থেকে সময়মতো বিক্রি আসে। মূল কথা অনুমতি: ইনবক্স ব্যক্তিগত জায়গা, সেখানে আপনি অতিথি।

যেমন সিলেটের একজন হোম বেকার প্রতি বৃহস্পতিবার সাবস্ক্রাইবারদের একটা সহজ রেসিপি পাঠান, আর মাসে এক-দুবার জন্মদিনের কেকের অর্ডারের খবর দেন। বাংলায় কোর্স বানান এমন একজন শিক্ষক পাঠাতে পারেন সাপ্তাহিক লেসন নোট। বেশিরভাগটা কাজের কথা, বিক্রির কথা অল্প, তাই অফারের ইমেইলটাও মানুষ বিরক্তি ছাড়া পড়েন।

কোনটা ইমেইল মার্কেটিং না, সেটাও পরিষ্কার থাকা দরকার। কোথাও থেকে ইমেইল ঠিকানার লিস্ট কিনে অচেনা মানুষকে একসাথে বিজ্ঞাপন পাঠানো ইমেইল মার্কেটিং না, সেটা স্প্যাম। এতে আপনার ডোমেইনের সুনাম নষ্ট হয়, আর পরে সত্যিকারের কাস্টমারের কাছে পাঠানো ইমেইলও স্প্যামে যেতে পারে।

ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ থাকতে ইমেইল কেন

কাস্টমাররা তো ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপেই আছেন, তাহলে ইমেইল কেন? ছোট উত্তর: ফেসবুকে আপনার ফলোয়ার থাকে ফেসবুকের জমিতে, ইমেইল লিস্ট থাকে আপনার নিজের হাতে।

আপনার পেজের পোস্ট কার ফিডে কতটা দেখা যাবে, তা ঠিক করে ফেসবুকের অ্যালগরিদম, আপনি না। পেজ হ্যাক হলে, রেস্ট্রিক্টেড হলে বা বন্ধ হয়ে গেলে, কিংবা অ্যালগরিদম বদলালে ফলোয়ারদের কাছে পৌঁছানোর পথ রাতারাতি সরু হয়ে যেতে পারে। সাবস্ক্রাইবার লিস্ট কিন্তু আপনার কাছে থাকে, টুল বদলালেও সাথে যায়।

হোয়াটসঅ্যাপ একজনের সাথে সরাসরি কথা বলার জন্য দারুণ, যেমন অর্ডার কনফার্ম করা। কিন্তু রেসিপি, কোর্সের নোট বা ফাইল, কিংবা রসিদ, যা কাস্টমার পরে খুঁজবেন, সেগুলোর জন্য ইমেইল বেশি মানানসই। আর পাসওয়ার্ড রিসেট বা অর্ডারের রসিদ মানুষ ইমেইলেই আশা করেন, তাই ইমেইল একটা বিশ্বাসের চ্যানেল।

তাই ফেসবুক বাদ নয়: নতুন মানুষ খুঁজতে সোশ্যাল মিডিয়া, তাদের ধরে রাখতে ইমেইল। সোশ্যাল মিডিয়ার দিকটা নিয়ে আছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি লেখায়।

ইমেইল মার্কেটিং কত প্রকার

কাজ অনুযায়ী ইমেইল মার্কেটিং মোটামুটি ছয় প্রকার:

  • নিউজলেটার: নিয়মিত কাজের কনটেন্ট। যেমন চট্টগ্রামের একটা রেস্টুরেন্ট প্রতি মাসে নতুন মেনু আর শেফের একটা রান্নার টিপস পাঠাতে পারে।
  • ওয়েলকাম ইমেইল: সাইন-আপের সাথে সাথে অটোমেটিক চলে যায়, কথা দেওয়া ফ্রি জিনিসটা পৌঁছে দেয়, যেমন রেসিপির পিডিএফ, আর জানায় কত দিন পরপর ইমেইল আসবে।
  • প্রমোশনাল ইমেইল: অফার, ঈদের সেল, নতুন পণ্য বা কোর্স চালুর খবর। ঢাকার সেই পোশাকের দোকানটা ঈদের কালেকশনের খবর সাবস্ক্রাইবারদের সবার আগে দিতে পারে।
  • ট্রানজ্যাকশনাল ইমেইল: কাস্টমারের কোনো কাজের ফলে যায়, যেমন অর্ডার কনফার্মেশন, পেমেন্টের রসিদ, পাসওয়ার্ড রিসেট বা কোর্সে ঢোকার লিংক। কাস্টমার এগুলোর অপেক্ষায় থাকেন।
  • অ্যাবান্ডনড কার্ট ইমেইল (কার্টে জিনিস রেখে চলে গেলে): কেউ চেকআউট শুরু করে শেষ না করলে তাকে মনে করিয়ে দেওয়া। এর জন্য এমন ওয়েবসাইট বা অনলাইন স্টোর লাগে, যা চেকআউটে ইমেইল ঠিকানা নেয়।
  • রি-এনগেজমেন্ট ইমেইল (ফিরিয়ে আনার ইমেইল): যারা অনেক দিন কোনো ইমেইলে সাড়া দেননি, তাদের জিজ্ঞেস করা, তারা এখনো ইমেইল চান কি না। না চাইলে লিস্ট থেকে সরিয়ে দিন।

শুরুতে দুটোই যথেষ্ট: একটা ওয়েলকাম ইমেইল আর একটা নিয়মিত নিউজলেটার। ট্রানজ্যাকশনাল ইমেইল সাধারণত আপনার অনলাইন স্টোর বা কোর্স প্ল্যাটফর্ম নিজেই পাঠায়।

কীভাবে শুরু করবেন: ছোট ব্যবসা বা অনলাইন কোর্সের জন্য ধাপে ধাপে

সেই পোশাকের দোকান হোক বা বাংলায় একটা অনলাইন কোর্স, শুরুটা হতে পারে এই ছয় ধাপে:

  1. ১একটা উদ্দেশ্য ঠিক করুন, আর ঠিক করুন কাদের পাঠাবেন। যেমন: যারা একবার কিনেছেন, তাদের আবার কেনানো। উদ্দেশ্য পরিষ্কার হলে কী লিখবেন, সেটাও পরিষ্কার হয়।
  2. ২শুধু অনুমতি নিয়ে লিস্ট বানান। পথ চারটা: ওয়েবসাইটে সাইন-আপ ফর্ম; ফেসবুক পেজের বায়ো বা বাটনে সাইন-আপের লিংক; চেকআউটে একটা চেকবক্স, যাতে আগে থেকে টিক দেওয়া থাকবে না; আর দোকানের কাউন্টারে এমন খাতা, যেখানে স্পষ্ট লেখা থাকে যে ইমেইলে খবর পাঠাবেন। লিস্ট কিনবেন না, ওয়েবসাইট থেকে ঠিকানা কপি করে জমাবেন না, হোয়াটসঅ্যাপের কন্টাক্টদের না জিজ্ঞেস করে যোগ করবেন না। অচেনা ইমেইল পেলে মানুষ স্প্যাম রিপোর্ট করেন, রিপোর্ট বেশি হলে আপনার ইমেইল আটকে যেতে পারে।
  3. ৩সাইন-আপের একটা কারণ দিন: একটা ফ্রি চেকলিস্ট, রেসিপির পিডিএফ, প্রথম লেসনের নোট বা সেলের আগাম খবর। আয়ের প্রতিশ্রুতি বা অবাস্তব কিছু নয়, সত্যিই কাজের কিছু।
  4. ৪দরকার দেখে টুল বাছুন। টুল মোটামুটি তিন রকম। এক, আলাদা ইমেইল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম, যেমন মেইলচিম্প (Mailchimp), মেইলারলাইট (MailerLite) বা ব্রেভো (Brevo), যেখানে সাইন-আপ ফর্ম, লিস্ট আর ইমেইল এডিটর এক জায়গায় থাকে। দুই, আপনার অনলাইন স্টোর বা কোর্স প্ল্যাটফর্মের ভেতরের ইমেইল সুবিধা। তিন, সাধারণ জিমেইল বা গুগল ওয়ার্কস্পেস, যা কয়েকজনকে ব্যক্তিগত ইমেইল পাঠানোর জন্য ঠিক আছে, একসাথে অনেককে পাঠানোর জন্য না। ফ্রি প্ল্যানের সীমা আর দাম বদলায়, তাই টুলের ওয়েবসাইটে বর্তমান প্ল্যান দেখে নিন।
  5. ৫নিজের ডোমেইনের ঠিকানা থেকে পাঠান, ফ্রি জিমেইল থেকে না। ইমেইলটা যে সত্যিই আপনার পাঠানো, তা প্রমাণের সেটিংস (নিচে বলছি) ডোমেইনে বসাতে হয়, আর জিমেইলের ডোমেইন আপনার হাতে নেই।
  6. ৬যেটা ধরে রাখতে পারবেন, এমন একটা রুটিন ঠিক করুন: সপ্তাহে একবার বা মাসে দুবার। আর সবার আগে ওয়েলকাম ইমেইলটা লিখে ফেলুন।

বাংলায় ইমেইল লেখা: একটা পুরো উদাহরণ

প্রতিটি মার্কেটিং ইমেইলের ছয়টা অংশ: প্রেরকের নাম, সাবজেক্ট লাইন, প্রিভিউ টেক্সট (সাবজেক্টের পাশে দেখানো ছোট লাইন), মূল লেখা, একটা কল টু অ্যাকশন বা বাটন, আর ফুটারে ব্যবসার ঠিকানা ও আনসাবস্ক্রাইব লিংক। নিচে সিলেটের সেই হোম বেকারের একটা নিউজলেটার দিলাম। নাম আর ব্যবসা দুটোই কাল্পনিক।

উদাহরণ: “নীলার কেক ঘর” থেকে সাপ্তাহিক ইমেইল

  • প্রেরকের নাম: নীলা, নীলার কেক ঘর
  • সাবজেক্ট লাইন: ওভেন ছাড়া চুলায় স্পঞ্জ কেক, এই সপ্তাহের রেসিপি
  • প্রিভিউ টেক্সট: একটা হাঁড়ি আর এক ঘণ্টা সময় হলেই হবে
  • মূল লেখা: সাদিয়া আপু, গত সপ্তাহে কয়েকজন জানতে চেয়েছিলেন, ঘরে ওভেন না থাকলে কেক বানাবেন কীভাবে। এবারের রেসিপিটা তাদের জন্য: চুলায়, একটা সাধারণ হাঁড়িতে। ধাপে ধাপে ছবিসহ পুরো রেসিপিটা নিচের বাটনে রেখেছি। বানিয়ে দেখলে একটা ছবি পাঠাবেন? এই ইমেইলের রিপ্লাই দিলেই সরাসরি আমার কাছে আসবে।
  • বাটনের লেখা: রেসিপিটা দেখুন
  • শেষে: ভালো থাকবেন, নীলা
  • ফুটার: ব্যবসার ঠিকানা, কেন এই ইমেইল পাচ্ছেন (“আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে রেসিপির জন্য সাইন-আপ করেছিলেন”), আর আনসাবস্ক্রাইব লিংক।

খেয়াল করুন: একটাই লক্ষ্য, জোর করে ঢোকানো কোনো অফার নেই, সই একজন সত্যিকারের মানুষের, আর শেষে একটা প্রশ্ন, যাতে পাঠক উত্তর দেন।

ভালো ইমেইল লেখার কয়েকটা নিয়ম

একটা দুর্বল আর একটা ভালো সাবজেক্ট লাইনের উদাহরণ দিয়ে শুরু করি:

  • দুর্বল সাবজেক্ট: “বিশাল অফার, শুধু আজকের জন্য, এখনই দেখুন”। অস্পষ্ট, চাপ দেওয়া, স্প্যামের মতো।
  • ভালো সাবজেক্ট: “ওভেন ছাড়া চুলায় স্পঞ্জ কেক, এই সপ্তাহের রেসিপি”। ছোট, নির্দিষ্ট, আর ভেতরে কী আছে তা সৎভাবে বলে।
  • এক ইমেইলে এক লক্ষ্য। আর লিখুন একজন মানুষের সাথে কথা বলার মতো করে: “প্রিয় গ্রাহকবৃন্দ” না, “আপনি”।
  • সাবজেক্টে সব ক্যাপিটাল লেটারে ইংরেজি, বিস্ময়চিহ্ন বা ইমোজির ভিড় রাখবেন না। এতে ইমেইল চিৎকারের মতো শোনায়।
  • বাংলা লেখা ইউনিকোডে লিখুন, ছবির ভেতরে না। বিজয়ের মতো পুরনো ফন্টের লেখা কপি-পেস্ট করলে অন্যের ফোনে ভাঙা অক্ষর দেখাতে পারে।
  • পাঠানোর আগে নিজেকে একটা টেস্ট ইমেইল পাঠিয়ে ফোনে খুলে দেখুন।

কী মাপবেন: ওপেন রেট কেন আর পুরো বিশ্বাসযোগ্য নয়

সবচেয়ে পরিচিত সংখ্যা ওপেন রেট, মানে কতজন ইমেইল খুলেছেন। কিন্তু এখন আর এটার উপর পুরোপুরি ভরসা করা যায় না।

  • ওপেন রেট কেন বাড়িয়ে দেখায়: খোলা হলো কি না, তা সাধারণত ধরা হয় ভেতরের একটা অদৃশ্য ছবি লোড হওয়া দেখে। অ্যাপল জানায়, তাদের মেইল অ্যাপে মেইল প্রাইভেসি প্রোটেকশন চালু থাকলে প্রেরক জানতে পারেন না ব্যবহারকারী মেইল নিয়ে কী করলেন, আর ছবির মতো বাইরে থেকে লোড হওয়া কনটেন্ট ব্যাকগ্রাউন্ডে আগেই ডাউনলোড হয়ে যায়, ইমেইল খোলা হোক বা না হোক। ফলে না খোলা ইমেইলও খোলা হিসেবে গোনা হতে পারে।
  • ক্লিক রেট: কতজন লিংক বা বাটনে ক্লিক করেছেন। এখানে মানুষকে সত্যিই কিছু করতে হয়, তাই এটা বেশি নির্ভরযোগ্য।
  • রিপ্লাই: ছোট লিস্টে সবচেয়ে শক্তিশালী সংকেত। শেষে একটা সহজ প্রশ্ন রাখুন, যেমন “এই মাসে কোন রেসিপি চান?”
  • বিক্রি বা ভর্তি: ইমেইল থেকে কয়টা অর্ডার এলো বা কয়জন ভর্তি হলেন। ইমেইলের জন্য আলাদা ডিসকাউন্ট কোড বা লিংক দিলে হিসাব রাখা সহজ হয়।
  • আনসাবস্ক্রাইব, স্প্যাম রিপোর্ট আর বাউন্স: হঠাৎ বাড়লে বুঝবেন কিছু ভুল হচ্ছে। হয় বেশি ঘন ঘন পাঠাচ্ছেন, নয়তো লিস্টে ভুল বা বন্ধ ঠিকানা আছে।

অন্যের গড়ের সাথে না মিলিয়ে নিজের আগের ইমেইলগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখুন: ক্লিক আর রিপ্লাই বাড়ছে কি না।

ইমেইল যেন স্প্যামে না যায়: ডেলিভারেবিলিটির মূল কথা

ডেলিভারেবিলিটি মানে ইমেইল স্প্যামে না গিয়ে ইনবক্সে পৌঁছানোর ক্ষমতা। ইমেইলটা যে সত্যিই আপনার, তা প্রমাণ করে তিনটা সেটিং:

  • এসপিএফ (SPF): আপনার ডোমেইনের ডিএনএস-এ রাখা একটা রেকর্ড, যেখানে লেখা থাকে কোন কোন সার্ভার আপনার ডোমেইনের নামে ইমেইল পাঠাতে পারে।
  • ডিকেআইএম (DKIM): প্রতিটি ইমেইলের সাথে যুক্ত একটা ডিজিটাল স্বাক্ষর, যা প্রমাণ করে ইমেইলটা সত্যিই আপনার ডোমেইন থেকে এসেছে আর পথে কেউ বদলায়নি।
  • ডিমার্ক (DMARC): গ্রহণকারী সার্ভারকে জানায়, এসপিএফ বা ডিকেআইএম-এর পরীক্ষায় ফেল করলে ইমেইলটা নিয়ে কী করতে হবে। এটা আরও দেখে, পাস করা ডোমেইন আর ইমেইলের “From” ঘরের ডোমেইন মেলে কি না; একে বলে অ্যালাইনমেন্ট।
  • বসাবেন কোথায়: আপনার ইমেইল টুলই রেকর্ডগুলো দেয়। আপনি সেগুলো বসান যেখানে ডোমেইনের ডিএনএস ম্যানেজ হয়, সাধারণত যেখান থেকে ডোমেইন কিনেছেন। নিজে না পারলে যিনি আপনার ওয়েবসাইট দেখাশোনা করেন, তাকে দিয়ে করিয়ে নিন।
  • আনসাবস্ক্রাইব লিংক: প্রতিটি মার্কেটিং ইমেইলে চোখে পড়ার মতো আনসাবস্ক্রাইব লিংক রাখুন, আর অনুরোধ দ্রুত কার্যকর করুন। যিনি আর ইমেইল চান না, তিনি সহজে বের হওয়ার পথ না পেলে অনেক সময় স্প্যাম বাটন চাপেন।
  • জিমেইল আর ইয়াহুর ২০২৪-এর নিয়ম: ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গুগল সব প্রেরকের জন্য অন্তত এসপিএফ বা ডিকেআইএম বাধ্যতামূলক করেছে, আর স্প্যাম রেট ০.১%-এর নিচে রাখতে বলে, কখনোই যেন ০.৩%-এ না পৌঁছায়। ইয়াহুও একই সময় থেকে প্রায় একই শর্ত চালু করেছে।
  • বাল্ক সেন্ডার হলে বাড়তি শর্ত: যারা ২৪ ঘণ্টায় ব্যক্তিগত জিমেইল অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫,০০০ বা তার বেশি ইমেইল পাঠান, গুগল তাদের বাল্ক সেন্ডার বলে। তাদের এসপিএফ, ডিকেআইএম আর ডিমার্ক তিনটাই লাগে, মার্কেটিং ইমেইলে এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইবের ব্যবস্থা লাগে, আর আনসাবস্ক্রাইব ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর করতে হয়।

আপনার লিস্ট হয়তো কয়েকশ মানুষের, বাল্ক সেন্ডারের সীমার অনেক নিচে। তবু একই নিয়ম মানুন: শুরু থেকে ঠিকভাবে সেটআপ করা পরে ঠিক করার চেয়ে সহজ, আর ছোট প্রেরকের ইমেইলও এই সেটিংগুলোর জোরেই ইনবক্সে পৌঁছায়।

নতুনরা যে ভুলগুলো বেশি করে

  • লিস্ট কেনা বা অন্য কোথাও থেকে কপি করা।
  • শুধু অফার পাঠানো, কাজের কিছু না দেওয়া।
  • ওয়েলকাম ইমেইল না রাখা, ফলে প্রথম ক্যাম্পেইন আসার আগেই সাবস্ক্রাইবাররা ভুলে যান যে তারা সাইন-আপ করেছিলেন।
  • ফ্রি জিমেইল ঠিকানা থেকে একসাথে অনেককে পাঠানো।
  • ওপেন রেট দেখে সফলতা মাপা।
  • আনসাবস্ক্রাইব লিংক লুকিয়ে রাখা বা না দেওয়া।
  • মাসের পর মাস চুপ থেকে ঈদের আগে হঠাৎ পুরো লিস্টে অফার পাঠানো।

শেখার পরের ধাপ

ইমেইল একা কাজ করে না, তাই পুরো ছবিটা একসাথে শিখতে চাইলে বাংলায় পড়ানো কোর্স ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস দেখতে পারেন। এর চ্যানেল অংশে ইমেইল মার্কেটিং নিয়ে আলাদা একটা লেসন আছে, সাথে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ফেসবুক মার্কেটিং, এসইও, অ্যাড মার্কেটিং আর আরও কয়েকটা চ্যানেল। কোর্সের ২৫টা লেসনের ২৪টা ফ্রিতে দেখা যায়। কোর্স কিনলে বাকি একটা লেসন, ফাইনাল অ্যাসেসমেন্ট কুইজ আর সার্টিফিকেট খুলে যায়, আর অ্যাক্সেস থাকে আজীবন।

অনেক ব্যবসার ক্ষেত্রে ইমেইল লিস্টে মানুষ আনার প্রথম পথ সোশ্যাল মিডিয়া, তাই এর পরের পড়া হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি।

ইমেইল মার্কেটিং নিয়ে প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে

ইমেইল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন?
একটা উদ্দেশ্য ঠিক করুন আর ঠিক করুন কাদের পাঠাবেন, শুধু অনুমতি নিয়ে লিস্ট বানান, সাইন-আপের একটা সত্যিকারের কারণ দিন, দরকার দেখে টুল বাছুন, নিজের ডোমেইনের ঠিকানা থেকে পাঠান, আর সবার আগে ওয়েলকাম ইমেইলটা লিখে ফেলুন। তারপর সপ্তাহে একবার বা মাসে দুবার নিউজলেটার পাঠানোর রুটিনটা ধরে রাখুন।
Email marketing ki, ar eta ki Bangladesh e kaj kore?
ইমেইল মার্কেটিং মানে অনুমতি নিয়ে বানানো লিস্টে নিয়মিত কাজের ইমেইল পাঠানো। বাংলাদেশেও এটা কাজে লাগে, বিশেষ করে অনলাইন কোর্স, অনলাইন দোকান আর এমন ব্যবসায়, যেখানে কাস্টমার বারবার কেনেন।
ইমেইল মার্কেটিং কত প্রকার?
কাজ অনুযায়ী প্রধানত ছয় প্রকার: নিউজলেটার, ওয়েলকাম, প্রমোশনাল, ট্রানজ্যাকশনাল, অ্যাবান্ডনড কার্ট আর রি-এনগেজমেন্ট ইমেইল। নতুনদের জন্য শুরুতে একটা ওয়েলকাম ইমেইল আর একটা নিয়মিত নিউজলেটারই যথেষ্ট।
ইমেইল লিস্ট কেনা কি ঠিক?
না। কেনা লিস্টের মানুষ আপনার ইমেইল পেতে রাজি হননি, তাই স্প্যাম রিপোর্ট আসে, অনেক ঠিকানা ভুল থাকে, আর ডোমেইনের সুনাম নষ্ট হয়। তখন সত্যিকারের কাস্টমারের ইমেইলও স্প্যামে যেতে পারে।
ইমেইল মার্কেটিং শুরু করতে কি ওয়েবসাইট লাগে?
সবসময় না। অনেক ইমেইল মার্কেটিং টুলে সাইন-আপ ফর্মের আলাদা লিংক বানানো যায়, যা ফেসবুক পেজের বাটন বা বায়োতে দেওয়া যায়। তবে নিজের ডোমেইনের ঠিকানা থেকে পাঠানো ভালো, আর অ্যাবান্ডনড কার্ট ইমেইলের জন্য অনলাইন স্টোর লাগে।
আমার ইমেইল স্প্যাম ফোল্ডারে যায় কেন?
সাধারণ কারণ: ডোমেইনে এসপিএফ, ডিকেআইএম আর ডিমার্ক বসানো নেই, ফ্রি জিমেইল থেকে একসাথে অনেককে পাঠানো হচ্ছে, লিস্টে অনুমতি ছাড়া যোগ করা ঠিকানা আছে, আনসাবস্ক্রাইব লিংক নেই, কিংবা সাবজেক্ট লাইন বিভ্রান্তিকর।
ইমেইল মার্কেটিং কি ফ্রিতে শেখা যায়?
বেসিকটা শেখা যায়। ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস কোর্সে ইমেইল মার্কেটিং নিয়ে আলাদা লেসন আছে, কোর্সটা বাংলায় পড়ানো, আর ২৫টা লেসনের ২৪টা ফ্রিতে দেখা যায়। বাকি লেসন, ফাইনাল অ্যাসেসমেন্ট কুইজ আর সার্টিফিকেটের জন্য কোর্সটা কিনতে হয়।