ওয়েবসাইট কি? সহজ ভাষায় সংজ্ঞা, কাজ, প্রকারভেদ ও খরচ
ওয়েবসাইট কী, কীভাবে কাজ করে, বাংলাদেশে বানাতে কত খরচ, আর শুধু ফেসবুক পেজ থাকলেই চলে কি না, সহজ বাংলায় এক লেখায় বলেছি। এআই দিয়ে বানালে কোন ধাপে কী করবেন আর কোন কাজ তখনও আপনার, তাও আছে।
· পড়তে ১৯ মিনিট · নাজমুল আহমেদ
ওয়েবসাইট হলো একটা ডোমেইন নামের অধীনে সাজানো, লিংক দিয়ে জোড়া ওয়েবপেজের সমষ্টি। এর ফাইল থাকে ওয়েব সার্ভারে, আর আপনি ব্রাউজারে ঠিকানা লিখে সেটা খোলেন। যেমন prothomalo.com একটা ওয়েবসাইট, যার প্রতিটি খবর একটা করে ওয়েবপেজ। দিনের যেকোনো সময় ওয়েবসাইট দিয়ে তথ্য জানানো, পণ্য বিক্রি করা আর সেবা দেওয়া যায়।
এই লেখায়
- ওয়েবসাইট কাকে বলে?
- পরীক্ষার খাতায় ওয়েবসাইটের সংজ্ঞা
- ওয়েবসাইট শব্দের বাংলা অর্থ কী?
- ওয়েবপেজ, ওয়েবসাইট আর ওয়েব সার্ভারের পার্থক্য কী?
- ওয়েবসাইট কীভাবে কাজ করে?
- একটি ওয়েবসাইটে কয়টি অংশ থাকে?
- ডোমেইন আর হোস্টিং বাছবেন কীভাবে
- ওয়েবসাইট কত প্রকার ও কি কি?
- ওয়েবসাইটের কাজ কী?
- শুধু ফেসবুক পেজ থাকলেই কি চলে?
- ওয়েবসাইটের সুবিধা ও অসুবিধা কী কী?
- বাংলাদেশে একটা ওয়েবসাইট বানাতে খরচ কত?
- ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করে?
- এআই দিয়ে কি ওয়েবসাইট বানানো যায়?
- কোন এআই বিল্ডারে কী পাবেন
- এআই সার্চও আপনার ওয়েবসাইট পড়ে
- ওয়েবসাইট বানানোর আগে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে রাখবেন
- প্রথম ওয়েবসাইট কোনটি?
- প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
- সূত্র
ওয়েবসাইট কাকে বলে?
ওয়েবসাইট হলো একই ডোমেইন নামের অধীনে থাকা ওয়েবপেজের একটা সংগ্রহ, যেখানে পেজগুলো লিংক দিয়ে একটার সাথে আরেকটা জোড়া। এই পেজগুলোর ফাইল রাখা থাকে ওয়েব সার্ভার নামের একটা কম্পিউটারে। আপনি ব্রাউজারে (যেমন Chrome) ঠিকানা লিখলে সার্ভার সেই ফাইল পাঠায়, আর ব্রাউজার সেগুলো সাজিয়ে পেজ দেখায়।
একটা উদাহরণ নিন: prothomalo.com একটা ওয়েবসাইট, আর সেখানকার প্রতিটি খবর আলাদা একটা ওয়েবপেজ। হোমপেজ, মেনু আর লিংকে ক্লিক করে এক পেজ থেকে আরেক পেজে যাওয়া যায় বলে পুরোটাকে আমরা একটা জায়গা মনে করি। সেই পুরো জায়গাটাই ওয়েবসাইট।
ওয়েবসাইট শব্দের বাংলা অর্থ কী?
ইংরেজি web মানে জাল, আর site মানে স্থান। তাই ওয়েবসাইট মানে ইন্টারনেটের বিশাল জালের মধ্যে আপনার নিজের একটা জায়গা। মাকড়সার জালে সুতো যেমন সবকিছু জুড়ে রাখে, ওয়েবে তেমন জুড়ে রাখে লিংক। এক পেজের লিংকে ক্লিক করলে আরেক পেজে পৌঁছে যান, আর সব পেজ মিলে এক বিশাল জাল তৈরি হয়। সেই জালের মধ্যে যে পেজগুলো আপনার নামে একসাথে সাজানো, সেটাই আপনার ওয়েবসাইট।
ওয়েবপেজ, ওয়েবসাইট আর ওয়েব সার্ভারের পার্থক্য কী?
ব্রাউজারে খুলে দেখা যায় এমন একটা ডকুমেন্টকে ওয়েবপেজ বলে। ওয়েবপেজ আর ওয়েবসাইটের পার্থক্য সোজা: পেজ একটা, সাইট অনেক পেজের সংগ্রহ। ধরুন একটা জেলা পাবলিক লাইব্রেরি: পুরো লাইব্রেরিটা ওয়েব সার্ভারের মতো, বিজ্ঞান বা ইতিহাসের আলাদা শাখা একেকটা ওয়েবসাইট, আর শাখার বইগুলো ওয়েবপেজ। কোন বই কোথায় আছে, তা খুঁজে দেয় ক্যাটালগ; এটা অনেকটা সার্চ ইঞ্জিনের মতো।
লাইব্রেরির বই
ওয়েবপেজ
ব্রাউজারে খুলে দেখা যায় এমন একটা ডকুমেন্ট। prothomalo.com-এর একটা খবরের পাতা একটা ওয়েবপেজ। বইয়ের ক্যাটালগ নম্বরের মতো প্রতিটা পেজের নিজস্ব ঠিকানা থাকে, যাকে URL বলে। অ্যাড্রেস বারে সেটা লিখলেই পেজ খোলে।
লাইব্রেরির এক শাখা
ওয়েবসাইট
একই ডোমেইন নামের নিচে থাকা ওয়েবপেজের সংগ্রহ, যেগুলো লিংক দিয়ে জোড়া। ওয়েবসাইট খুললে প্রথমে যে পেজ আসে, তাকে হোমপেজ বলে। মেনু আর লিংকে ক্লিক করে বাকি পেজে যাওয়া যায়।
পুরো লাইব্রেরি
ওয়েব সার্ভার
ইন্টারনেটে যুক্ত একটা কম্পিউটার, যেখানে এক বা একাধিক ওয়েবসাইটের সব ফাইল রাখা থাকে। কেউ ঠিকানা লিখলে সার্ভার সেই ফাইল ব্রাউজারে পাঠায়। একটা সার্ভারে অনেক ওয়েবসাইট থাকতে পারে, তাই ওয়েবসাইট আর ওয়েব সার্ভার এক জিনিস না।
ক্যাটালগ
সার্চ ইঞ্জিন
Google বা Bing-এর মতো সেবা; কিছু লিখে খুঁজলে এখানে নানা ওয়েবসাইটের পেজ পাওয়া যায়। ব্রাউজার আবার আলাদা জিনিস। Chrome-এর মতো ব্রাউজার হলো ওয়েবপেজ এনে দেখানোর সফটওয়্যার। নতুনরা প্রায়ই ব্রাউজার আর সার্চ ইঞ্জিন গুলিয়ে ফেলেন।
আর ইন্টারনেট কী? ইন্টারনেট হলো সারা দুনিয়ার কম্পিউটারকে জুড়ে রাখা বিশাল নেটওয়ার্ক। ওয়েব বা WWW হলো সেই নেটওয়ার্কের ওপর থাকা ওয়েবপেজগুলোর জগৎ। দুটো এক জিনিস না।
ওয়েবসাইট কীভাবে কাজ করে?
ওয়েবসাইট কিভাবে কাজ করে, এক কথায় বললে: আপনার ব্রাউজার পেজ চায়, আর ওয়েব সার্ভার সেটা পাঠিয়ে দেয়। ঠিকানা লেখা থেকে পেজ দেখা পর্যন্ত পাঁচ ধাপে কাজটা হয়ে যায়, আপনি টেরও পান না।
আপনি ঠিকানা লেখেন
ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে ডোমেইন নাম, যেমন prothomalo.com, লিখে এন্টার চাপেন। নামটা মানুষের জন্য সহজ, কিন্তু নেটওয়ার্কে সার্ভারকে চেনা যায় একটা সংখ্যার ঠিকানা দিয়ে, যাকে IP অ্যাড্রেস বলে।
DNS সার্ভারের ঠিকানা খুঁজে দেয়
DNS হলো ওয়েবসাইটের ঠিকানার খাতার মতো। ব্রাউজার সেখানে নামটা খোঁজে, আর খাতা বলে দেয় ওয়েবসাইটটা কোন সার্ভারে আছে।
ব্রাউজার সার্ভারের কাছে পেজ চায়
সার্ভারের ঠিকানা পেয়ে ব্রাউজার সরাসরি সেই ওয়েব সার্ভারের কাছে পেজের অনুরোধ পাঠায়।
সার্ভার ফাইল পাঠায়
অনুরোধ ঠিক থাকলে সার্ভার পেজের মূল ফাইল পাঠিয়ে দেয়। সেই ফাইলে ছবি, স্টাইল আর স্ক্রিপ্টের কথা লেখা থাকলে ব্রাউজার ওগুলোর জন্য আরও কয়েকবার সার্ভারের কাছে চায়।
ব্রাউজার পেজ দেখায়
সব ফাইল এসে গেলে ব্রাউজার সেগুলো সাজিয়ে পুরো পেজ আপনার স্ক্রিনে এঁকে দেয়।
একটি ওয়েবসাইটে কয়টি অংশ থাকে?
একটা ওয়েবসাইটকে পাঁচ অংশে ভাগ করলে বোঝা সহজ হয়: ডোমেইন নেম, হোস্টিং বা ওয়েব সার্ভার, ওয়েবপেজ ও কনটেন্ট, সিএমএস আর এসএসএল বা এইচটিটিপিএস। প্রতিটা অংশ কী করে, নিচে একে একে দেখুন।
ঠিকানা
ডোমেইন নেম
ডোমেইন নেম হলো ওয়েবসাইটের ঠিকানা, যেমন prothomalo.com। URL-এর এই নাম দিয়েই চেনা যায় পেজটা কোন সার্ভারের। প্রতিটা ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম আলাদা, তাই ওয়েবসাইটের একক ঠিকানা বলতে এটাকেই বোঝায়।
জায়গা
হোস্টিং বা ওয়েব সার্ভার
ওয়েবসাইটের সব ফাইল যেখানে রাখা থাকে। সোজা কথায়, ওয়েবসাইট হোস্টিং মানে এই ফাইল রাখার জায়গা। মোবাইলে ছবি আর ভিডিও রাখলে যেমন জায়গা লাগে, ওয়েবসাইটের ছবি ও ভিডিওর জন্যও তেমন জায়গা লাগে।
ভেতরের জিনিস
ওয়েবপেজ ও কনটেন্ট
হোমপেজ, সেবার পেজ, যোগাযোগের পেজের মতো ওয়েবপেজ আর তার ভেতরের লেখা, ছবি ও ভিডিও। আমার মতে এর মধ্যে লেখাই ওয়েবসাইটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
পরিচালনা
সিএমএস
CMS মানে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, যা দিয়ে প্রতিবার ডেভেলপারের কাছে না গিয়ে নিজেই লেখা, ছবি আর পেজ বদলানো যায়। সবচেয়ে চালু CMS হলো WordPress। অক্টোবর ২০২৬-এ W3Techs-এর হিসাবে সব ওয়েবসাইটের ৪০.১% এটা দিয়ে চলে।
নিরাপত্তা
এসএসএল/এইচটিটিপিএস
HTTPS হলো HTTP-এর এনক্রিপ্ট করা রূপ: ব্রাউজার আর সার্ভারের মধ্যে যা আদান-প্রদান হয়, সবই গোপন কোডে যায়। এর জন্য SSL সার্টিফিকেট লাগে। Chrome ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে HTTP পেজকে “Not secure” (নিরাপদ নয়) বলে চিহ্নিত করতে শুরু করেছে।
এর মধ্যে ডোমেইন আর হোস্টিং আপনাকে আলাদা করে কিনতে হয়। সেগুলো কীভাবে বাছবেন, তা পরের অংশে আছে। তার আগে নিচে একটা আসল হোমপেজ দেখে নিন।

ডোমেইন আর হোস্টিং বাছবেন কীভাবে
ডোমেইন বাছার সময় আমার মতে তিনটা জিনিস মাথায় রাখা উচিত। প্রথমত, ডোমেইন দেখে যেন ব্যবসা বা কোম্পানির নামটা বোঝা যায়। দ্বিতীয়ত, নাম যত ছোট, তত ভালো। ডোমেইনের সাথে ইমেইল ঠিকানাও জড়িয়ে থাকে, তাই ডোমেইন লম্বা হলে ইমেইল ঠিকানাও লম্বা হয়, আর যিনি টাইপ করবেন তাঁর ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
তৃতীয়ত, সম্ভব হলে .com নিন। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে অনেক মানুষই ধরে নেন ওয়েবসাইট মানেই .com। আমি প্রায়ই দেখি, কোম্পানির ডোমেইন .co হলেও মানুষ খোঁজার সময় .com লিখে ফেলেন, কারণ তাঁদের ধারণা ঠিকানা মানেই .com। .bd বা .com.bd এক্সটেনশনও নেওয়া যায়, কিন্তু আমি এটাকে বাধ্যতামূলক মনে করি না।
হোস্টিং কয়েক রকমের হয়, তার মধ্যে চারটা ধরন জেনে রাখুন। শেয়ারড হোস্টিং পাবলিক বাসের মতো: একটা কম্পিউটারে অনেকের ওয়েবসাইট থাকে, সেই কম্পিউটার যত বেশি মানুষ ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তত ধীর হতে পারে, কিন্তু খরচ সবচেয়ে কম। ম্যানেজড হোস্টিং-এ একটা কোম্পানি আপনার হয়ে সার্ভারের ঝামেলা সামলায়।
VPS মানে একটা সার্ভারের একটা অংশ কিনে নেওয়া। আর ডেডিকেটেড সার্ভার নিজের গাড়ির মতো: জায়গা আর গতি পুরোটাই আপনার। নতুন হলে শেয়ারড দিয়ে শুরু করা যায়। গতি আর পারফরম্যান্স বেশি দরকার হলে VPS বা ডেডিকেটেড দেখুন।
ওয়েবসাইট কত প্রকার ও কি কি?
প্রযুক্তির দিক থেকে ওয়েবসাইট দুই প্রকার, স্ট্যাটিক আর ডাইনামিক; কাজের দিক থেকে সবচেয়ে চোখে পড়ে ছয়টা ধরন। স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটে সার্ভার আগে থেকে বানানো পেজ যেমন আছে তেমনই পাঠায়, তাই সাধারণত সবাই একই পেজ দেখেন। ডাইনামিক ওয়েবসাইটে সার্ভার ডেটাবেস থেকে তথ্য নিয়ে পেজ বানিয়ে পাঠায়, যেমন লগইনের পর শুধু আপনার নিজের অর্ডারের তালিকা দেখানো। উদাহরণসহ সেই ছয়টা ধরন:
- ১সংবাদ ওয়েবসাইট: নিয়মিত খবর প্রকাশ হয়, প্রতিটা খবর আলাদা একটা ওয়েবপেজ। উদাহরণ: prothomalo.com।
- ২ই-কমার্স ওয়েবসাইট: যেখানে ক্রেতা পণ্য দেখেন, কার্টে তোলেন আর অর্ডার দেন। উদাহরণ: daraz.com.bd।
- ৩সরকারি সেবার ওয়েবসাইট: সরকারি তথ্য আর সেবা জানানোর জায়গা। উদাহরণ: bangladesh.gov.bd।
- ৪শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট: কোর্স, পাঠ বা পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়ার সাইট। উদাহরণ: 10minuteschool.com।
- ৫কোম্পানি বা সেবার ওয়েবসাইট: প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, সেবা আর যোগাযোগের ঠিকানা জানানো। উদাহরণ: bkash.com।
- ৬ব্লগ বা ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও: নিজের লেখা বা কাজ দেখানোর সাইট। উদাহরণ: nazmc.com-এর যে অংশে আপনি এই লেখাটা পড়ছেন, সেটা একটা ব্লগের মতো।
একটা ওয়েবসাইট একাধিক ধরনের হতে পারে। যেমন একটা কোম্পানির সাইটে ব্লগও থাকে, আবার অনলাইনে বিক্রিও চলে। তাই ধরন বাছার আগে ভেবে নিন, সাইটে এসে একজন ভিজিটর ঠিক কী করবেন।
ওয়েবসাইটের কাজ কী?
ওয়েবসাইটের কাজ হলো আপনার ব্যবসা বা নিজের সম্পর্কে সব তথ্য এক জায়গায় রেখে দিনের যেকোনো সময় মানুষের সামনে হাজির করা। আমি ওয়েবসাইটকে বলি আপনার অনলাইনের সেলসপার্সন; আপনি ঘুমিয়ে থাকলেও সে কাজ করে। কাজগুলো এরকম:
- তথ্য জানানো: কী পণ্য বা সেবা আছে, দাম কত, কেন কিনবেন, সবটা সুন্দর করে এক জায়গায় রাখা যায়। যমুনা ফিউচার পার্কের দোকানের বাইরে দাঁড়ানো যে মানুষটা আপনাকে ভেতরে ডেকে সব দেখান, ওয়েবসাইট অনেকটা তাঁর মতো।
- বিক্রি করা আর অর্ডার নেওয়া: অনলাইনে জিনিস কেনাবেচা করতে চাইলে ওয়েবসাইট রাত-দিন আপনার হয়ে অর্ডার নিতে পারে।
- Google-এ খুঁজে পাওয়া: কেউ Google-এ “কাছের লন্ড্রি” লিখে খুঁজলে যে পেজগুলো ওপরে আসে, সেগুলো ওয়েবসাইট। আমার মতে Google Maps-এ দোকান দেখানোর সময়ও Google ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নেয়, তাই ওয়েবসাইট থাকলে Google আপনার তথ্য আরও ঠিকঠাক মানুষকে দেখাতে পারে।
- বিজ্ঞাপন আর ইমেইলের গন্তব্য: Facebook, Google বা ইমেইল, যেখান থেকেই মানুষ আনুন, তারা এসে পৌঁছায় ওয়েবসাইটে। তাই আমি ওয়েবসাইটকে পুরো ডিজিটাল মার্কেটিং কাজের কেন্দ্র বলি। ইমেইল মার্কেটিং করলে ইমেইলের লিংকে ক্লিক করে পাঠক এসে পৌঁছান ওয়েবসাইটেই।
- বিশ্বাস গড়া: বড় অঙ্কের কিছু কেনার আগে মানুষ পণ্যটা সম্পর্কে ভালো করে জানতে চায়। তখন ওয়েবসাইট না থাকলে অনেকে ভাবেন, এটা ছোটখাটো কোম্পানি, খুব সিরিয়াস না। আমি মনে করি, অফিস দেখে যেমন কোম্পানি বোঝা যায়, এখন ওয়েবসাইট দেখেও তেমন বোঝা যায়।
শুধু ফেসবুক পেজ থাকলেই কি চলে?
শুরুর জন্য একটা Facebook পেজ ভালো, কিন্তু সেটা আপনার নিজের সম্পত্তি না। আমি সবসময় বলি, Facebook পেজ আর বাকি সবকিছু থাকা ভালো, কিন্তু ওয়েবসাইট থাকাটা খুব জরুরি, কারণ ওয়েবসাইট আপনার নিজের। পাশাপাশি রাখলে পার্থক্যটা এরকম:
শুধু ফেসবুক পেজ
- মালিক কেআমার মতে পেজের আসল মালিক Facebook। আপনি পেজটা চালান, কিন্তু সেটা আপনার সম্পত্তি না।
- ভুল হলে কী হয়Facebook-এর নিয়মের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশ হয়ে গেলে পেজ বন্ধ হতে পারে। পেজটা আপনার আইডির সাথে যুক্ত, তাই আইডি আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। Meta নিজেই জানায়, যারা বারবার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভাঙে তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়, কিছু ক্ষেত্রে একটা গুরুতর লঙ্ঘনেই।
- সাজানোর স্বাধীনতাFacebook যে কাঠামো দেয়, পেজ সেটার মধ্যেই চলে। পেজের চেহারা আর কোনটার পর কোনটা দেখাবেন, সেটা ঠিক করার সুযোগ আপনার কম।
- ঠিকানা আর সার্চপেজের ঠিকানা facebook.com দিয়ে শুরু হয়। তাই সার্চে পেজটা আসে Facebook-এর ঠিকানায়, আপনার নিজের নামের ঠিকানায় না।
- শুরুর খরচপ্রায় কিছুই লাগে না, তাই শুরুটা সহজ। কিন্তু যা গড়ছেন তার মালিক আপনি না।
নিজের ওয়েবসাইট
- মালিক কেওয়েবসাইট আপনার নিজের সম্পত্তি। ডোমেইন আর হোস্টিং আপনি কিনে রাখেন, আর ওয়েবসাইট চলে আপনার নিয়মে।
- ভুল হলে কী হয়ওয়েবসাইটে আপনি যা প্রকাশ করেন, তা আপনার ব্যক্তিগত Facebook আইডির সাথে বাঁধা না। ভুল ধরা পড়লে নিজেই শুধরে নেন।
- সাজানোর স্বাধীনতালেআউট, রং আর পেজের ক্রম আপনি ঠিক করেন। মানুষকে ধাপে ধাপে নিজের মতো করে গল্পটা বলতে পারেন।
- ঠিকানা আর সার্চঠিকানা আপনার নিজের ডোমেইন, যেমন nazmc.com।
- শুরুর খরচডোমেইন আর হোস্টিং-এর নিয়মিত খরচ আছে; ডোমেইনের সরকারি রেট একটু পরেই দিয়েছি। বিনিময়ে যা গড়ছেন, সেটা আপনার নিজের সম্পত্তি।
তার মানে এই না যে Facebook পেজ ছেড়ে দেবেন। পেজ থেকে মানুষ আনুন, আর ওয়েবসাইটকে নিজের ঘাঁটি বানান। পেজ থেকে বিক্রি শুরু করার ধাপ, ডেলিভারি আর পেমেন্ট নিয়ে আলাদা করে লিখেছি এফ-কমার্স লেখায়।
ওয়েবসাইট আপনার নিজের সম্পত্তি এটা অন্য কারো সম্পত্তি না।

ওয়েবসাইটের সুবিধা ও অসুবিধা কী কী?
ওয়েবসাইটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটা আপনার নিজের, দিনরাত খোলা থাকে আর বিজ্ঞাপন, সার্চ ও ইমেইলের সব পথ এখানে এসে মেলে। অসুবিধা হলো প্রতি বছরের খরচ, নিয়মিত দেখভাল আর মানুষ আনার দায়িত্ব, যা আপনার ঘাড়েই পড়ে।
অসুবিধা
- বছরের খরচডোমেইনের ফি প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়, আর হোস্টিং-এর ফি মাসে বা বছরে দিতে হয়, যতদিন ওয়েবসাইট চালাবেন ততদিন।
- দেখভাললেখা, ফোন নম্বর আর দাম পুরোনো হয়ে গেলে ভিজিটর ভুল তথ্য পান। কাজটা শেখা যায়, আমার মতে এর জন্য নিজে ডেভেলপার হওয়া লাগে না।
- নিরাপত্তার দায়HTTPS চালু রাখা আর সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখার দায়িত্ব আপনার। HTTPS না থাকলে Chrome পেজটাকে “Not secure” দেখাতে পারে।
- নিজে নিজে আয় আসে নাওয়েবসাইট বানালেই বিক্রি আসে না। কনটেন্ট আর ভিজিটর না থাকলে সেটা শুধু একটা ঠিকানা হয়ে পড়ে থাকে।
সুবিধা
- সব সময় খোলাআপনি ঘুমিয়ে থাকলেও ওয়েবসাইট সেলসপার্সনের মতো কাজ করে, পণ্যের তথ্য দেয়।
- নিজের গল্প, নিজের ক্রমেঅন্য জায়গায় অন্যেরা নিজেদের মতো করে রিভিউ দেন। ওয়েবসাইটে আপনি ধাপে ধাপে বলতে পারেন, এটা দেখুন, তারপর ওটা দেখুন।
- Google-এ খুঁজে পাওয়ামানুষ Google-এ যা খোঁজে, সেই খোঁজের ফলাফলে আপনার পেজও আসতে পারে।
- বিজ্ঞাপন আর ইমেইলের গন্তব্যFacebook বিজ্ঞাপন, Google বা ইমেইল, সবখানের ক্লিক এসে পৌঁছায় আপনার নিজের জায়গায়।
বাংলাদেশে একটা ওয়েবসাইট বানাতে খরচ কত?
বাংলাদেশে BTCL-এর রেটে তিন বা বেশি অক্ষরের .com.bd ডোমেইনের নিবন্ধন ফি বছরে ৳১,১০০, এখন সীমিত সময়ের ছাড়ে ৳৭০০ (ভ্যাট ছাড়া); হোস্টিং আর তৈরির খরচ কোম্পানিভেদে আলাদা। তাই নিচে ডোমেইনের রেট তারিখসহ দিলাম, আর হোস্টিং, তৈরি ও বাজেটের হিসাব কীভাবে করবেন তা বললাম।
সরকারি প্রতিষ্ঠান BTCL-এর রেট, ভ্যাট ছাড়া, অক্টোবর ২০২৬-এ দেখা। তিন বা তার বেশি অক্ষরের নাম, প্রতি ডোমেইন, প্রতি বছর
- .com.bd নিবন্ধন
- ৳১,১০০, সীমিত সময়ের ছাড়ে ৳৭০০
- .com.bd নবায়ন
- ৳১,৬০০, সীমিত সময়ের ছাড়ে ৳১,০২০
- .bd নিবন্ধন
- ৳২,০০০, সীমিত সময়ের ছাড়ে ৳১,২৮০
- .bd নবায়ন
- ৳২,৫০০, সীমিত সময়ের ছাড়ে ৳১,৬০০
- আমার পরামর্শ
- কিছু কোম্পানি প্রথম বছর খুব কম দাম নেয়, পরের বছর থেকে অনেক বেশি, তাই প্রথম বছরের অফার দেখে না কিনে নবায়নের দাম দেখে কিনুন
- .com
- BTCL-এর তালিকায় নেই, আর আমি নিজের .com আন্তর্জাতিক রেজিস্ট্রার থেকে ডলারে কিনি, তাই এখানে টাকার অঙ্ক দিইনি
দাম প্রতিটা কোম্পানির নিজের, মাসিক বা বার্ষিক
- দাম
- কোম্পানিভেদে আলাদা
- শুরুতে
- নতুন হলে শেয়ারড হোস্টিং দিয়ে শুরু করা যায়
- আরও দেখুন
- বিনামূল্যে SSL পাচ্ছেন কি না
WordPress নিজের হোস্টিং-এ, নাকি মাসিক ফির বিল্ডার
- WordPress
- সফটওয়্যার আপনি নিজের হোস্টিং-এ চালান, ওয়েবসাইটের পুরোটা আপনার, আর হোস্টিং-এর খরচ ছাড়া ওয়েবসাইটের জন্য মাসে মাসে আলাদা ফি লাগে না
- Wix বা Weebly
- দ্রুত আর সহজে বানানো যায়, কিন্তু আমি যতদূর দেখেছি, যতদিন ওয়েবসাইট চলবে ততদিন প্রতি মাসে তাদের টাকা দিয়ে যেতে হয়
- Shopify
- অনলাইন দোকানের জন্য জনপ্রিয় বিল্ডার, এখানেও একই নিয়ম
- এই কোম্পানিগুলোর দাম
- কেনার আগে তাদের নিজেদের পেজে দেখে নিন
ওয়েবসাইটকে সেলসপার্সন ভেবে বাজেট ধরুন, এটা আমার ব্যক্তিগত মত; বেতনের অঙ্কগুলো আমার ২০২৩ সালের ভিডিও থেকে
- শুরুর স্তরের সেলসপার্সন
- বেতন ৳১৫,০০০ থেকে ২০,০০০
- মাঝারি স্তর
- বেতন ৳৪০,০০০
- ভালো সেলসপার্সন
- বেতন ৳৮০,০০০ থেকে ১ লাখ
- আমার কথা
- কোম্পানি সেলসপার্সনকে যে অঙ্ক বেতন দিত, সেই অঙ্ক ওয়েবসাইটে ঢালুন, নইলে ওয়েবসাইট আপনার জন্য টাকা বানাবে না
ছাড়ের দাম সীমিত সময়ের জন্য, তাই কেনার দিন BTCL-এর রেট পেজে দাম আবার দেখে নিন।
ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করে?
ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করব, তার সহজ উত্তর: আগে লেখা গুছিয়ে নিন, তারপর ডোমেইন আর হোস্টিং কিনে WordPress বা কোনো বিল্ডারে সাজান, আর শেষে প্রকাশ করে নিয়মিত হালনাগাদ রাখুন। নতুন ওয়েবসাইট খোলার ধাপগুলো এই:
আগে কনটেন্ট লিখুন
ডেভেলপার বা ডিজাইনারের কাছে যাওয়ার আগে ঠিক করুন কোন পেজে কী লেখা, কোন ছবি আর কোন ভিডিও যাবে। কনটেন্ট তৈরি না থাকলে ডেভেলপারের কাছে গিয়েও লাভ হয় না, এটা আমার দৃঢ় মত।
ডোমেইন বেছে কিনুন
ব্যবসার নামের সাথে মেলে এমন একটা ছোট নাম বাছুন, সম্ভব হলে .com। কেনার আগে নামটা খালি আছে কি না আর নবায়নের দাম কত, দুটোই দেখে নিন।
হোস্টিং কিনুন
WordPress-এ বানালে হোস্টিং আলাদা কিনতে হয়; শুরুতে শেয়ারড হোস্টিং চলে। কেনার আগে বিনামূল্যে SSL আছে কি না জিজ্ঞেস করুন।
WordPress বা বিল্ডার বেছে নিন
নিজের মালিকানা আর নিজের মতো বদলানোর স্বাধীনতা চাইলে WordPress। আজই সহজে বানাতে চাইলে Wix বা Weebly, অনলাইন দোকান হলে Shopify; এগুলোর মাসিক ফির কথা ওপরের খরচের অংশে বলেছি।
আগে মোবাইলের জন্য সাজান
বাংলাদেশের ওয়েব ভিজিটের প্রায় অর্ধেক আসে ফোন থেকে (StatCounter, সেপ্টেম্বর ২০২৬: মোবাইল ৪৮.৬৪%, ডেস্কটপ ৫১.০৩%)। ফোনে খারাপ দেখালে সেই প্রায় অর্ধেক ভিজিটে আপনার সাইট ঠিকমতো দেখা যায় না। তাই ডিজাইনারকে আগে মোবাইলের নকশা করতে বলুন, তারপর সেটা ডেস্কটপে নিন।
HTTPS চালু করুন
SSL সার্টিফিকেট বসালে ওয়েবসাইটের ঠিকানা http-এর বদলে https দিয়ে শুরু হয়। না থাকলে Chrome পেজটাকে “Not secure” বলে দেখাতে পারে।
প্রকাশ করুন, খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করুন
সাইট চালু হওয়ার পর সার্চ ইঞ্জিন যেন তা খুঁজে পায় আর সার্চে দেখায়, সেই কাজের খুঁটিনাটি আছে এসইও লেখায়। শুরুতেই বড় আশা না করে ধৈর্য নিয়ে এগোন।
নিয়মিত হালনাগাদ রাখুন
লেখা, ফোন নম্বর বা দাম বদলালে সাথে সাথে বদলে দিন। WordPress-এর মতো CMS থাকলে এ কাজে প্রতিবার ডেভেলপারের কাছে যেতে হয় না। সফটওয়্যারের আপডেটও সময়মতো করুন।
ভিডিও দেখুন
২০২৩ সালের এই ৩৩ মিনিটের ভিডিওতে আমি ডোমেইন, হোস্টিং, SSL আর CMS পর্দায় দেখিয়ে আয় করে এমন ওয়েবসাইট বানানোর পথ ব্যাখ্যা করেছি।
এআই দিয়ে কি ওয়েবসাইট বানানো যায়?
হ্যাঁ, যায়: AI ওয়েবসাইট বিল্ডার নামের অনলাইন সেবায় ব্যবসার কথা কয়েক লাইনে লিখে দিলে সেটা নিজেই পেজ, লেখা আর ছবি সাজিয়ে পুরো ওয়েবসাইটের একটা প্রথম খসড়া বানিয়ে দেয়। বাকি কাজটা আপনার, পাঁচ ধাপে:
আগে নিজের তথ্য লিখে রাখুন
কী বিক্রি করেন, দাম কত, ঠিকানা আর ফোন নম্বর কী, কোন ছবি দেবেন, সব একটা ফাইলে গুছিয়ে নিন। ডেভেলপারের কাছে যাওয়ার আগে কনটেন্ট গুছিয়ে নেওয়ার যে কথা বলেছি, বিল্ডারের বেলাতেও তা-ই। আপনি যা জানাননি, বিল্ডার তা জানে না।
বিল্ডারকে ব্যবসার কথা বলুন
ব্যবসার কথা দু-তিন লাইনে লিখুন, যেমন মিরপুরে বাসায় বানানো কেকের ব্যবসা, অর্ডার ফোনে, পেমেন্ট bKash-এ। এই লেখাকে বলে প্রম্পট, মানে AI-কে দেওয়া নির্দেশ। Durable-এর মতো কোনো কোনো বিল্ডার লেখা না চেয়ে তিনটা প্রশ্ন করে; আপনি শুধু উত্তর দেন।
AI-এর লেখা নিজের তথ্য দিয়ে বদলান
খসড়ায় AI যা লিখেছে, তার প্রতিটা লাইন নিজে পড়ুন। দাম, ঠিকানা বা ডেলিভারির সময়ের মতো কোনো তথ্য ভুল থাকলে কেটে আসলটা বসান। ভুল তথ্য প্রকাশ হলে তার দায় আপনার।
নিজের ডোমেইন জুড়ুন
নিচের বিল্ডারগুলোতে নিজের ডোমেইনে সাইট চালু করতে পেইড প্ল্যান লাগে। ডোমেইন বাছার কথা আগেই বলেছি।
ফোনে দেখে প্রকাশ করুন
প্রকাশের আগে নিজের ফোনে সাইটটা খুলে লেখা আর ছবি ঠিক আছে কি না দেখুন। প্রকাশের পরও দাম বা ফোন নম্বর বদলালে সাথে সাথে বদলান।
একটা সীমা জেনে রাখুন: নিচের চারটা বিল্ডারের কোনোটার অফিশিয়াল পেজেই লেখা নেই যে এরা বাংলা প্রম্পট ঠিকমতো বোঝে। তাই বাংলায় কাজ না হলে প্রম্পট ইংরেজিতে লিখুন, তারপর সাইটের বাংলা লেখাটা নিজেই লিখে বসান।
কোন এআই বিল্ডারে কী পাবেন
প্রতিটা বিল্ডারের অফিশিয়াল পেজে যা লেখা আছে (অক্টোবর ২০২৬-এ দেখা), কার্ডে শুধু সেটুকুই দিয়েছি। কোনটা ভালো তা বলছি না, আগে-পরে সাজানোরও কোনো মানে নেই; দামও দিইনি, কেনার আগে তাদের পেজে দেখে নিন।
ফ্রিতে শুরু
Wix
আপনার দেওয়া তথ্য থেকে AI ব্যবসার টুলসহ পুরো ওয়েবসাইট বানায়। শুরু ফ্রিতে, ক্রেডিট কার্ড লাগে না। নিজের ডোমেইন জুড়তে বা অনলাইনে পেমেন্ট নিতে Premium প্ল্যান লাগে।
ফ্রি ট্রায়াল
Squarespace
আপনার বিবরণ থেকে AI লেখা, ছবি, রং আর ফন্টসহ কয়েক পেজের একটা প্রাথমিক সাইট বানায়; পরে সবই বদলানো যায়। ফ্রি ট্রায়ালে বানিয়ে দেখা যায়, তবে প্রকাশ করতে পেইড প্ল্যান লাগে।
ফ্রি প্রিভিউ
Durable
তিনটা সহজ প্রশ্নের উত্তর দিলে AI লেখা আর পেজের সাজ (লেআউট) বানায়। ফ্রি প্ল্যানে durable.site-এর অধীনে সাইটের একটা প্রাইভেট প্রিভিউ বানিয়ে অন্যকে দেখানো যায়, তবে সেটা সবার জন্য খোলা সাইট না। নিজের ডোমেইনে চালাতে পেইড প্ল্যান লাগে।
পেইড প্ল্যানে
WordPress.com
প্রম্পট লিখলে AI সেই নির্দেশ অনুযায়ী ওয়েবসাইট বানিয়ে দেয়। বিল্ডারটা সব পেইড প্ল্যানে আছে; বানানো শুরুর আগেই একটা প্ল্যান নিতে হয়। প্ল্যানটা কিনতে হয় WordPress.com-এর কাছেই। খরচের অংশে যে WordPress-এর কথা বলেছি, সেটা চলে নিজের হোস্টিং-এ; দুটো গুলিয়ে ফেলবেন না।
ওয়েবসাইট বানানোর আগে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে রাখবেন
ডেভেলপার বা ডিজাইনারকে ফোন করার আগে এই কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর কাগজে লিখে ফেলুন। যে উত্তর লিখতে পারছেন না, সেখানেই কাজ বাকি।
৭টির মধ্যে ০টি হয়েছে
এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত শিখতে চাইলে ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশনসহ ডিজিটাল মার্কেটিং ফান্ডামেন্টালস কোর্সটা দেখতে পারেন; বাংলায় পড়ানো, আর বেশিরভাগ পাঠ বিনামূল্যে দেখা যায়।
প্রথম ওয়েবসাইট কোনটি?
প্রথম ওয়েবসাইট হিসেবে ধরা হয় info.cern.ch, যাকে CERN নিজেই প্রথম ওয়েবসাইটের ঠিকানা বলে পরিচয় দেয়। ইউরোপীয় পার্টিকেল ফিজিক্স ল্যাবরেটরি CERN-এ থাকার সময় Tim Berners-Lee ১৯৮৯ সালে ওয়েব উদ্ভাবন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি প্রথম ওয়েব ক্লায়েন্ট, মানে পেজ দেখার সফটওয়্যার, আর প্রথম ওয়েব সার্ভার লেখেন। এই তথ্য CERN আর W3C-এর নিজস্ব পেজ থেকে নেওয়া।
প্রায়ই যে প্রশ্নগুলো আসে
- website ki?
- ওয়েবসাইট হলো একটা ডোমেইন নামের অধীনে থাকা, লিংক দিয়ে জোড়া ওয়েবপেজের সংগ্রহ। এর ফাইল ওয়েব সার্ভারে রাখা থাকে, আর আপনি ব্রাউজারে ঠিকানা লিখে সেটা খোলেন। prothomalo.com তার একটা উদাহরণ: সেখানে প্রতিটি খবর একটা ওয়েবপেজ, আর সবগুলো মিলে একটা ওয়েবসাইট।
- ওয়েবসাইট লিংক কী?
- ওয়েবসাইট লিংক বলতে সাধারণত ওয়েবসাইট বা তার কোনো পেজের ঠিকানা, মানে URL বোঝায়; ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে এটা লিখলে পেজটা খোলে। আরেক অর্থে, পেজের যে লেখা বা বোতামে চাপ দিলে অন্য পেজে চলে যাওয়া যায়, সেটাও লিংক। এই লিংকই ওয়েবপেজগুলোকে জুড়ে একটা ওয়েবসাইট বানায়।
- ওয়েবসাইটের নামকে কী বলে?
- ওয়েবসাইটের নামকে ডোমেইন নেম বা ডোমেইন নাম বলে। এটাই ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের ঠিকানা, যেমন prothomalo.com। এই নাম দেখে বোঝা যায় পেজটা কোন সার্ভারের। নামের শেষের অংশ, যেমন .com বা .bd, হলো এক্সটেনশন।
- WWW-এর কাজ কী?
- WWW মানে World Wide Web। এর কাজ হলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা ওয়েবপেজগুলোকে ঠিকানা আর লিংক দিয়ে জুড়ে রাখা, যাতে ব্রাউজারে যেকোনো পেজ খোলা যায়। ইন্টারনেট হলো নেটওয়ার্ক, আর WWW তার ওপরের পেজের জগৎ। Tim Berners-Lee ১৯৮৯ সালে CERN-এ ওয়েব উদ্ভাবন করেন।
- ওয়েবসাইট কিভাবে দেখতে হয়?
- ব্রাউজার খুলে অ্যাড্রেস বারে ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখে এন্টার চাপলেই ওয়েবসাইট খোলে। ঠিকানা মনে না থাকলে অ্যাড্রেস বারেই নাম লিখে সার্চ করুন, অথবা Google-এর মতো সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে ফলাফলের লিংকে চাপুন। মোবাইলেও একই নিয়ম, শুধু Chrome-এর মতো একটা ব্রাউজার লাগে।
- ৫টি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের নাম কী কী?
- বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দেখা ওয়েবসাইটের মধ্যে আছে Google সার্চ, YouTube, Facebook, X (আগের নাম Twitter) আর Instagram। ইংরেজি উইকিপিডিয়া বলছে, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের হিসাবে তালিকার শীর্ষে আছে Google, YouTube ও Facebook।
- ওয়েবসাইটের একক ঠিকানা কী?
- ওয়েবসাইটের একক ঠিকানা হলো তার ডোমেইন নাম, আর পুরো ঠিকানা ধরলে URL। একটা ঠিকানায় একটাই ওয়েবসাইট খোলে, দুই ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম এক হয় না। ওয়েবসাইটের ভেতরের প্রতিটা ওয়েবপেজেরও নিজস্ব আলাদা URL থাকে।
সূত্র
- ১MDN Web DocsBrowsing the webওয়েবপেজ, ওয়েবসাইট, ওয়েব সার্ভার ও সার্চ ইঞ্জিনের সংজ্ঞা, লাইব্রেরির তুলনা, পেজ লোড হওয়ার ধাপ (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১০)
- ২MDN Web DocsHow the web worksDNS ওয়েবসাইটের ঠিকানার খাতার মতো; ব্রাউজার DNS থেকে সার্ভারের IP অ্যাড্রেস খুঁজে নেয় (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১০)
- ৩MDN Web DocsWhat is a web server?ওয়েব সার্ভার ওয়েবসাইটের ফাইল রাখে এবং ডোমেইন নামের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়; স্ট্যাটিক ও ডাইনামিক কনটেন্টের পার্থক্য
- ৪MDN Web DocsHow does the Internet work?ইন্টারনেট হলো একে অন্যের সাথে যুক্ত কম্পিউটারের বিশাল নেটওয়ার্ক; ওয়েব সেই নেটওয়ার্কের ওপর চলা একটা সেবা, তাই দুটো এক জিনিস না (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১১)
- ৫MDN Web DocsDomain nameডোমেইন নাম ওয়েবসাইটের ঠিকানা, যা URL-এ সার্ভার চেনাতে ব্যবহার হয়
- ৬MDN Web DocsHTTPSHTTPS হলো HTTP-এর এনক্রিপ্ট করা রূপ
- ৭The Chromium ProjectsMarking HTTP as non-secureChrome ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে HTTP পেজকে “Not secure” চিহ্নিত করে
- ৮W3CTim Berners-Lee১৯৮৯ সালে CERN-এ ওয়েব উদ্ভাবন, ১৯৯০ সালে প্রথম ওয়েব ক্লায়েন্ট ও সার্ভার
- ৯CERNinfo.cern.chপ্রথম ওয়েবসাইটের ঠিকানা বলে পরিচয়
- ১০W3TechsUsage statistics of WordPressযেসব ওয়েবসাইটের CMS জানা, তার ৫৮.৬% আর সব ওয়েবসাইটের ৪০.১% WordPress ব্যবহার করে (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১০)
- ১১BTCLDomain rate.com.bd ও .bd ডোমেইনের নিবন্ধন ও নবায়ন ফি, ভ্যাট ছাড়া, সীমিত সময়ের ছাড়সহ (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১০)
- ১২StatCounter Global StatsDesktop vs Mobile vs Tablet Market Share in Bangladeshসেপ্টেম্বর ২০২৬: মোবাইল ৪৮.৬৪%, ডেস্কটপ ৫১.০৩% (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১০)
- ১৩Meta Transparency CenterDisabling accountsবারবার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভাঙলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ, কিছু ক্ষেত্রে একটা গুরুতর লঙ্ঘনেই (পেজ হালনাগাদ ২০২৫-০৭-১৭)
- ১৪WikipediaWebsiteএক ডোমেইন নামের অধীনে প্রকাশিত ওয়েবপেজের সমষ্টিই ওয়েবসাইট; ২০২৬ সালের জুলাইয়ের হিসাবে সবচেয়ে বেশি দেখা সাইট Google, YouTube ও Facebook; স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট সাধারণত সব ভিজিটরকে একই তথ্য দেখায়; সব পাবলিক ওয়েবসাইট মিলে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে খোলা হয়
- ১৫Wikipediaওয়েবসাইটসবচেয়ে বেশি দেখা সাইটের তালিকায় Google সার্চ, YouTube, Facebook, Twitter (এখন X) ও Instagram
- ১৬English-Bangla Dictionarywebweb মানে জাল
- ১৭English-Bangla Dictionarysitesite মানে স্থান
- ১৮WixAI Website Builderব্যবসার বিবরণ থেকে AI পুরো সাইট বানায়; শুরু ফ্রি; নিজের ডোমেইনে Premium প্ল্যান (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১১)
- ১৯SquarespaceAI Website Builderশুরুর কাঠামো; ফ্রি ট্রায়াল; প্রকাশে পেইড প্ল্যান (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১১)
- ২০DurableAI Website Builderতিন প্রশ্নে সাইট; ফ্রি প্ল্যানে প্রাইভেট প্রিভিউ; নিজের ডোমেইনে পেইড প্ল্যান (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১১)
- ২১WordPress.com SupportBuild a website with AIAI বিল্ডার সব পেইড প্ল্যানে; বানানো শুরুর আগেই প্ল্যান বেছে চেকআউট করতে হয় (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১১)
- ২২Google Search CentralAI features and your websiteAI Overviews ও AI Mode লিংক দেখায়; শর্ত ইনডেক্স আর স্নিপেট; আলাদা AI অপটিমাইজেশন লাগে না; নিশ্চয়তা নেই; পেজের হালনাগাদ ২০২৫-১২-১০ (পড়া হয়েছে ২০২৬-১০-১১)
- ২৩YouTubeওয়েবসাইট এর বেসিক মজবুত করুন, নাজমুল আহমেদলেখকের নিজের কথা, ২০২৩ সালের ভিডিও